সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: অবশেষে টনক নড়ল। ১৪ বছর ধরে জমে থাকা মেডিক্যাল বর্জ্য সরাতে অবশেষে টেন্ডার ডাকছে স্বাস্থ্যদপ্তর। আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালের মর্গের সামনে পাহাড়প্রমাণ মেডিক্যাল বর্জ্য থেকে দূষণ ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে বারবার। দুর্গন্ধে টেকা দায়। তবুও দপ্তরের হুঁশ ফেরেনি একবারও। শেষমেশ এবার ওয়েস্টবেঙ্গল মেডিক্যাল সার্ভিস কর্পোরেশন লিমিটেড টেন্ডার ডাকার বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। মেডিক্যাল বর্জ্য অপসারণ করে এমন বেসরকারি এজেন্সিগুলি কলকাতায় টেন্ডার অংশ নেবে। মে মাসের ৮তারিখের মধ্যে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার কথা। তারপর বর্জ্য সরানোর কাজ শুরু হতে পারে।
এই ব্যাপারে জেলা হাসপাতালের রোগীকল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান বিধায়ক সুমন কাঞ্জিলাল বলেন, হাসপাতালের মর্গের সামনে দেড়দশক ধরে মেডিক্যাল বর্জ্য সরাতে স্বাস্থ্যদপ্তর সাড়ে চার কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। বর্জ্য সরানোর বরাত দিতে টেন্ডারও ডাকা হয়েছে। হাসপাতাল সুপার পরিতোষ মণ্ডল বলেন, স্বাস্থ্যদপ্তর মর্গের সামনে থাকা ওই বর্জ্য সরাতে টেন্ডার ডাকায় আমরা খুশি। দেখা যাক, কি হয়।
আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালের সামনে প্রায় দেড়দশক ধরে ওই বর্জ্য জমে জমে রয়েছে। এত বছরে সেই বর্জ্য সরানোর কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। স্থানীয় পুরসভার দাবি ছিল, মেডিক্যাল বর্জ্য তাদের পক্ষে সরানো সম্ভব নয়। কারণ, সেই বর্জ্য যেখানে সেখানে ফেলানোর উপায় নেই। শহরে ও শহরের বাইরে ওই বর্জ্য ফেলানোর জায়গা ছিল না।
দীর্ঘদিনের ওই বর্জ্য জমে থাকায় দূষিত হচ্ছিল হাসপাতালের পরিবেশ। বর্জ্যের দুর্গন্ধে হাসপাতালে এসে গা গুলিয়ে যেত অনেক রোগীরই। বিশেষ করে ওই বর্জ্যের স্তুপের পাশে থাকা শিশুওয়ার্ডে ভর্তি রোগীদের অবস্থা আরও দুঃসহ। এনিয়ে দীর্ঘদিন ধরে রোগী, আত্মীয় এবং স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল। সেই মতো বিধায়কের উদ্যোগে গত বছর স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণস্বরূপ নিগম এবং চলতি বছরের ২২জানুয়ারি স্বরাষ্ট্রসচিব মনোজকুমার পন্থ জেলা হাসপাতালের ওই বর্জ্যর অবস্থা পরিদর্শন করেন। হাসপাতালে এভাবে বর্জ্য জমে থাকতে দেখে তাঁরা তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তারপরই জেলা হাসপাতালের ওই বর্জ্য সরানোর উদ্যোগ নিল স্বাস্থ্যদপ্তর। বর্ষা শুরুর আগেই ওই বর্জ্য সরানো হবে। বর্জ্য সাফাইয়ের পর মর্গের সামনে ওই ফাঁকা জায়গায় রোগীর আত্মীয়দের জন্য শেডঘর অথবা একটি পার্ক তৈরির ভাবনা রয়েছে স্বাস্থ্যদপ্তরের। নিজস্ব চিত্র।