নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: ১০ মন্ত্রীর হাতে ২৩ দপ্তর! কেউ দু’টি, আবার কেউ তিনটি করে দপ্তর পেয়েছেন। সেই তালিকায় অর্থ, শিক্ষা, পর্যটন, বন, পরিবেশ, পরিবহণের মতো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর রয়েছে। রাজ্যে প্রথম সরকার গঠন করে উত্তরবঙ্গকে এভাবেই ঢেলে দিয়েছে বিজেপি। বিজেপি নেতাদের বক্তব্য, কিছুদিন আগে শিলিগুড়িতে এসে উত্তরবঙ্গকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই মতোই দপ্তর বণ্টন হয়েছে।
বিজেপির মন্ত্রিসভায় উত্তরবঙ্গ থেকে ১০ জন মন্ত্রী হন। তাঁদের নিয়ে বিভিন্ন ধরনের জল্পনা তৈরি হয়েছিল। সেসবের অবসান ঘটিয়ে বুধবার পূর্ণ ও প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যে দপ্তর বণ্টন করা হয়। এক দশক পর জোড়া মন্ত্রী পেল শিলিগুড়ি মহকুমা। শংকরকে পর্যটন ও পরিষদীয় মন্ত্রী করা হয়েছে। রাজবংশী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি মাটিগাড়া-নকশালবাড়ির বিধায়ক আনন্দময় বর্মন অর্থ ও পরিবহণ দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন। তিনি পেশায় শিক্ষক। আরএসএসের ঘনিষ্ঠ হিসাবে পরিচিত। তাঁর বাবা একদা বিজেপির রাজ্য কমিটির সদস্য ও মা পঞ্চায়েত সদস্য ছিলেন।
রাজ্য মন্ত্রিসভার সর্বকনিষ্ঠ সদস্য বিরাজ বিশ্বাস। তিনি উত্তর দিনাজপুর জেলার করণদিঘির বিধায়ক। তাঁকে প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে। তাঁর হাতে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন, আইন ও বিচার বিভাগ দপ্তর। জেলার রায়গঞ্জের বিধায়ক কৌশিক চৌধুরীও প্রতিমন্ত্রী। তাঁর হাতে বিদ্যালয় শিক্ষা দপ্তর, দমকল ও জরুরি পরিষেবা দপ্তর রয়েছে। মালদহ জেলার আদিবাসী মুখ জোয়েল মুর্মু। তিনি হবিবপুর থেকে নির্বাচিত। তাঁকে উপজাতি উন্নয়ন দপ্তর এবং সেচ ও জলপথ দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে।
কোচবিহার জেলার মাথাভাঙার বিধায়ক নিশীথ প্রামাণিককে আগেই উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী এবং ক্রীড়া ও যুবকল্যাণমন্ত্রী করা হয়েছিল। এদিন দপ্তর বণ্টনে তাঁর হাত থেকে ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ দপ্তর নিয়ে নেওয়া হয়েছে। পরিবর্তে তাঁকে দেওয়া হয়েছে জলসম্পদ অনুসন্ধান ও উন্নয়ন দপ্তর। বর্তমানে তাঁর কাঁধে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন এবং জলসম্পদ অনুসন্ধান ও উন্নয়ন এই দু’টি দপ্তর। সংশ্লিষ্ট জেলার তুফানগঞ্জের বিধায়ক মালতী রাভা রায় স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী। তাঁর দায়িত্বে একাধিক দপ্তর। সেগুলি হল মহিলা ও শিশু বিকাশ এবং সমাজকল্যাণ, স্বনির্ভর গোষ্ঠী ও স্বনিযুক্তি এবং কর্মসূচি পর্যবেক্ষণ দপ্তর।
আলিপুরদুয়ার জেলার ফালাকাটার বিধায়ক দীপক বর্মনকে দেওয়া হয়েছে স্কুল শিক্ষাদপ্তর। তিনি পেশায় শিক্ষক। তাঁর লক্ষ্য শিক্ষাদপ্তরের কলঙ্কমোচন করা। জেলার কালচিনির বিধায়ক বিশাল লামা গোর্খা প্রতিনিধির মুখ। তিনি প্রতিমন্ত্রী। তাঁর কাঁধে একাধিক দপ্তর। স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক, সংখ্যালঘু উন্নয়ন ও মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তর রয়েছে। জেলার কুমারগ্রামের বিধায়ক মনোজ ওরাওঁয়ের হাতে দু’টি দপ্তর। বন ও পরিবেশ।