Bartaman Logo
১১ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বাঁকুড়ার পুরপ্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব

বাঁকুড়া পুরসভায় চেয়ারম্যান অলকা সেনমজুমদারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব জমা। ১৬ কাউন্সিলারের সই, রাজনৈতিক উত্তেজনা। বিস্তারিত পড়ুন।

বাঁকুড়ার পুরপ্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব
  • ১১ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: চেয়ারপার্সনের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনা নিয়ে বুধবার দুপুর থেকে নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হয় বাঁকুড়া পুরসভায়। রাতে সেই  নাটক আবার অন্যদিকে মোড় নেয়। পুরসভা থেকে গুরুত্বপূর্ণ সব ফাইল সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ দেখায় বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা। তা নিয়ে বেশ উত্তেজনাও ছড়ায়। 

Advertisement

তৃণমূল পরিচালিত বাঁকুড়ায় পুরসভার চেয়ারপার্সন অলকা সেনমজুমদারের বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাবে ভাইস চেয়ারম্যান সহ মোট ১৬ জন কাউন্সিলার সই করেন। তাতে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ‘একনায়কতন্ত্র’ চালানোর অভিযোগ লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। ওই অনাস্থাপত্র এদিন দুপুরে বিদ্রোহী কাউন্সিলাররা জেলাশাসকের অফিসে গিয়ে জমা দেন। অবিলম্বে তলবি সভা ডাকার আবেদনও জানানো হয়। বিকালে চেয়ারম্যান অলকা সেনমজুমদার আবার বিদ্রোহীদের কয়েকজনকে ভাঙিয়ে নিজের সপক্ষে আনেন বলে পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে। ফলে কোন পক্ষ শেষ পর্যন্ত বাজিমাত করবে সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে শহরবাসী। বিষয়টি নিয়ে জেলার রাজনৈতিক মহলেও জোর চর্চা শুরু হয়েছে। 
উল্লেখ্য, ২৪ ওয়ার্ড বিশিষ্ট বাঁকুড়া পুরসভায় শেষ নির্বাচনে তৃণমূল ২১টি আসনে জয়লাভ করে। বাকি তিন আসনে (১, ৭ ও ১৮ নম্বর ওয়ার্ড) নির্দল প্রার্থীরা জয় পান। পরে ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের নির্দল প্রার্থী অনন্যা রায় চক্রবর্তী বিজেপিতে যোগ দেন। তিনি তালডাংরা উপ নির্বাচনে বিজেপি-র প্রার্থীও হয়েছিলেন। রাজ্যে পালাবদলের পর অনন্যাদেবী দলবল নিয়ে পুরসভায় হাজির হন। তিনি চেয়ারম্যানের ঘরে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ছবি টাঙিয়ে দেন। অনাস্থা আনার পিছনে অনন্যার হাত রয়েছে বলে অনেকে মনে করছেন। যদিও এদিন তিনি বলেন, অনাস্থার ব্যাপারে আমার কিছু জানা নেই। আমি অনাস্থা প্রস্তাবে সই করিনি।
অলকাদেবী বলেন, আমি সকলকে সঙ্গে নিয়েই পুরবোর্ড চালিয়েছি। আমার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ঠিক নয়। তবে অনাস্থার ব্যাপারে আমি কিছু জানি না।   চেয়ারম্যান ঘনিষ্ঠ এক কাউন্সিলার বলেন, অনাস্থাপত্রে অলকা সেনমজুমদারের বিরুদ্ধে সই করা বেশ কয়েকজন কাউন্সিলার ঘুরে গিয়েছেন। তাঁরা চেয়ারম্যানের পক্ষেই থাকবেন বলে জানিয়েছেন। চেয়ারম্যানকে সমর্থনের পালটা চিঠি জেলা প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়া হবে। বর্তমানে চেয়ারম্যানের পক্ষে অন্তত ১৩ জন কাউন্সিলার রয়েছেন। তবে সংখ্যাটা বাড়বে বলেই আমরা মনে করছি।   ভাইস চেয়ারম্যান হীরালাল চট্টরাজ বলেন, আমি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থাপত্রে সই করেছি। আমার পাশাপাশি আরও ১৫ জন কাউন্সিলারের সাক্ষর তাতে রয়েছে। কেউ কেউ পরে ঘুরে গিয়েছেন বলে শুনেছি। তবে আমি অনাস্থার পক্ষেই রয়েছি।  পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, চেয়ারম্যান অলকা সেনমজুমদারের বিরুদ্ধে কাউন্সিলারদের একাংশ দীর্ঘদিন ধরেই সক্রিয় ছিল। তারা নিজ নিজ লবি ধরে তৃণমূলের রাজ্য নেতৃত্বের কাছে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগও জানিয়েছিল। কিন্তু, দলের কোপে পড়ার আশঙ্কায় কেউ কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে পারছিল না। লোকসভা নির্বাচনে বাঁকুড়া শহরে খারাপ ফলাফলের কারণে পুর চেয়ারম্যান পরিবর্তনের জল্পনা ছড়ায়। পরে অবশ্য তৎকালীন শাসক দলের তরফে তেমন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। লোকসভা ভোটে রঘুনাথপুর বিধানসভার দায়িত্বে থাকার কারণ দেখিয়ে সে যাত্রায় অলকাদেবী রক্ষা পান। তবে এবার তিনি কঠিন চ্যালেঞ্জের সামনে পড়তে চলেছেন বলে ওয়াকিবহাল মহলের অভিমত। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ