সংবাদদাতা, ডোমকল: রাজ্যে পালাবদলের পর সীমান্ত সুরক্ষায় জোর দেওয়া হয়েছে। জেলার বিভিন্ন এলাকায় কাঁটাতার নির্মাণের জন্য জমি হস্তান্তরের কাজ শুরু হয়েছে। কোথাও চলছে মাপজোক, কোথাও আবার ইতিমধ্যেই সম্পূর্ণ হয়েছে জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া। এই পরিস্থিতিতে সাগরপাড়ায় প্রস্তাবিত কাঁটাতারের অবস্থান ঘিরে ক্ষোভে ফুঁসতে শুরু করেছেন সীমান্ত এলাকার চাষিরা। তাঁদের অভিযোগ, সাগরপাড়ার সাহেবনগর, চর কাকমারি সহ আশপাশের এলাকায় কাঁটাতার নির্মাণের জন্য যে লাইন চিহ্নিত করা হয়েছে, তা সীমান্তের জিরো পয়েন্ট থেকে অনেকটা ভিতরে। সেই লাইন ধরে কাঁটাতার নির্মাণ করা হলে বিপুল পরিমাণ কৃষিজমি কার্যত পরিত্যক্ত হয়ে পড়বে। সেই আশঙ্কা থেকেই বুধবার সকালে সাগরপাড়ার সাহেবনগরে রাস্তা অবরোধ করে তাঁরা বিক্ষোভ দেখালেন। ঘটনায় প্রায় আধ ঘণ্টার জন্য অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে শেখপাড়া-জলঙ্গি সড়ক। পরে পুলিশ প্রশাসনের আশ্বাসে তাঁরা অবরোধ তুলে নেন।
মাঝখানে কোথাও পদ্মা নদী, কোথাও বিস্তীর্ণ চাষের জমি। দু’পাড়ে দুই দেশ। একদিকে ভারত, অন্যদিকে বাংলাদেশ। সাগরপাড়ার সাহেবনগর, চর কাকমারি সহ মহকুমার বিস্তীর্ণ সীমান্ত এলাকায় এখনো কাঁটাতারের বেড়া নেই। ফলে দীর্ঘদিন ধরেই পাচার, অনুপ্রবেশ এবং সীমান্তবর্তী জমিতে বাংলাদেশিদের অবাধ যাতায়াতের অভিযোগ রয়েছে। এই পরিস্থিতি বদলাতেই ওই এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন জায়গায় প্রস্তাবিত ফেন্সিং লাইনের মাপজোক ও জমি সংক্রান্ত প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। কিন্তু, কাঁটাতার দেওয়ার জন্য যে লাইন চিহ্নিত করা হয়েছে, তা নিয়েই আপত্তি তুলেছেন সাগরপাড়ার ওই এলাকার চাষিরা। তাঁদের দাবি, অনেক জায়গায় জিরো পয়েন্ট থেকে এক থেকে দু’কিলোমিটার ভিতরে কাঁটাতার নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এতে কাঁটাতারের ওপারে চলে যাবে বহু কৃষিজমি। পরবর্তীতে ওই জমি পরিত্যক্ত হয়ে বাংলাদেশিদের দখলে চলে যাবে।
এই আশঙ্কা থেকেই বুধবার সকালে সাহেবনগর বাজার এলাকায় একজোট হন চাষিরা। তাঁরা রাস্তায় বাঁশ ফেলে শেখপাড়া-জলঙ্গি সড়ক অবরোধ করেন। প্রায় ৩০ মিনিট ধরে চলা ওই অবরোধের জেরে রাস্তার দু’ধারে সারি সারি গাড়ি দাঁড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় সাগরপাড়া থানার পুলিশ। তাদের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেন বিক্ষোভকারীরা। বিক্ষোভকারী মিনারুল শেখ বলেন, কাঁটাতার হোক। কিন্তু, যে জায়গা দিয়ে কাঁটাতার যাবে বলে ঠিক করা হয়েছে, তা জিরো পয়েন্টে থেকে কোথাও ২ কিমি, কোথাও তার থেকে বেশি ভিতরে। এভাবে এই জায়গায় কাঁটাতার দেওয়া হলে ওই জমি পরিত্যক্ত হয়ে পড়বে। আমরা চাই কাঁটাতার দেওয়া হোক জিরো পয়েন্টে কাছে।
বর্ডার ডেভেলপমেন্ট কমিটির সম্পাদক জুলফিকার আলি বলেন, ১৯৭৪ সালের ইন্দিরা-মুজিব চুক্তিতে বলা হয়েছে, সীমান্ত পিলার থেকে ১৫০ গজ ছেড়ে ফেন্সিং করা যায়। তাই চাষিরা যে দাবি তুলছে, তা সঠিক। চাষিদের দাবি মেনে, ফেন্সিং হোক মূল সীমান্তে। সীমান্তে সুরক্ষা, পাচার রোধ, অপরাধ দমনের জন্য কাঁটাতার ভীষণ প্রয়োজন। কিন্তু, এভাবে জিরো পয়েন্ট থেকে কোথাও এক কিমি, কোথাও দু’কিমি দূরে কাঁটাতার নির্মাণ করা হলে ওপারের জমি পরিত্যক্ত হয়ে বাংলাদেশিদের দখলে চলে যাবে। পাশপাশি যাতায়াতে নিয়ন্ত্রণ থাকায় চাষে সমস্যা হবে। প্রশাসন সূত্রের দাবি, চাষিদের কাছ থেকে বিষয়টি জানা হয়েছে। আলোচনা করে সমস্ত কিছু মিটিয়েই কাজ শুরু করা হবে।