সংবাদদাতা, রঘুনাথপুর: রাজ্যের নতুন প্রকল্প ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ নিয়ে জেলায় জেলায় তুমুল উৎসাহ ও উদ্দীপনা শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে কয়েক লক্ষাধিক মহিলার অ্যাকাউন্টে ৩ হাজার টাকা করে ঢুকেও গিয়েছে। এর মধ্যে আবার পুরুলিয়া জেলার রঘুনাথপুর এলাকায় এক অবাক করা ঘটনা সামনে এসেছে। এতদিন লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে পুরুষ প্রাপকদের নাম সামনে এসেছে। এবার সেখানে একজন পুরুষের অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা চলে এসেছে! সেই টাকা রঘুনাথপুরের সামাজিক ও পরিবেশ আন্দোলনের কর্মী হিসাবে পরিচিত স্বদেশপ্রিয় মাহাতর অ্যাকাউন্টে এসেছে। সেই সমাজকর্মীর অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা ঢোকায় গোটা জেলায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে। ঘটনার পর স্বদেশপ্রিয়বাবু নিজেও হতবাক। তাই বুধবার বিষয়টি নিয়ে তিনি রঘুনাথপুর মহকুমা শাসকের দপ্তরে যান। সেখানে ঘটনার তদন্তের দাবি জানান। এবং তাঁর অ্যাকাউন্টে ঢোকা টাকা ফেরত নেওয়ার আবেদনও জানানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, স্বদেশবাবু বর্তমানে রঘুনাথপুর শহরের বাসিন্দা। তিনি সামাজিক ও পরিবেশ আন্দোলনের কর্মী হিসাবে পরিচিত। বর্তমানে রঘুনাথপুরের একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে স্বদেশবাবুর অ্যাকাউন্ট রয়েছে। সম্প্রতি আচমকাই তিনি লক্ষ্য করেন তাঁর অ্যাকাউন্টে ৩ হাজার টাকা এসেছে। বিষয়টি নজরে আসতেই নড়েচড়ে বসেন। মঙ্গলবার তিনি ব্যাংকে চলে যান। সেখানে পাস বই আপডেট করে জানতে পারেন গত ৩ জুন অন্নপূর্ণা যোজনার তিন হাজার টাকা ঢুকেছে। আর এতেই হতবাক হয়ে যান ওই পরিবেশকর্মী। কারণ পুরুষ হওয়ার কারণে এই প্রকল্পের সুবিধাভোগী হওয়ারও কোনো এক্তিয়ারই তাঁর নেই। ফলে ঠিক কীভাবে এবং কোন সূত্রে তাঁর অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণার টাকা স্থানান্তরিত হয়েছে, সেই বিষয়ে কোনো স্পষ্ট তথ্য নেই তাঁর কাছে। প্রশাসনের একটি সূত্র থেকে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পুরুষদের অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা ঢুকে যাওয়ার একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। অনুমান, সরকারি তথ্যভাণ্ডারের বড়োসড়ো কোনও ত্রুটি থাকবে। কিংবা যাঁরা তথ্য ভান্ডার সংযুক্ত করছেন তাঁরা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সংযুক্তিকরণের গোলমালের কারণে এমন বিভ্রান্তি হতে পারে। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া বা বক্তব্য মেলেনি। স্বদেশবাবু আরও বলেন, কয়েক মাস আগে অ্যাকাউন্টটি খুলেছিলাম। হঠাৎ নজরে আসে তিন হাজার টাকা ঢুকেছে। তাতেই হতবাক হয়ে যাই। ব্যাংকে গিয়ে জানতে পারি অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা ঢুকেছে আমার অ্যাকাউন্টে! আমি মনে করি সরকারি ত্রুটির ফলেই এই টাকা ঢুকেছে। তাই টাকা ফেরত দিতে চেয়ে ও ঘটনার তদন্তের দাবি জানিয়ে মহকুমা শাসকের দপ্তরে অভিযোগ জানিয়েছি। মহকুমা প্রশাসনের তরফে ঘটনার তদন্ত করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
এসডিওর কাছে স্বদেশপ্রিয় মাহাতো।