সংবাদদাতা, ঘাটাল: বেতন বৃদ্ধি এবং স্থায়ীকরণের দাবিতে পুরসভার প্রধান গেটে তালা ঝুলিয়ে অবস্থান বিক্ষোভে শামিল হলেন অস্থায়ী সাফাই কর্মীরা। বৃহস্পতিবার ঘটনাটি ঘটেছে রামজীবনপুর পুরসভায়। বিক্ষোভের জেরে পুরসভার প্রতিদিনের কাজ যেমন ব্যাহত হয়, তেমনই দীর্ঘক্ষণ গেটের বাইরে আটকে থাকতে হয় পুরসভার আধিকারিক ও স্থায়ী কর্মীদের। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। যদিও রামজীবনপুর পুরসভার চেয়ারম্যান কল্যাণ তেওয়ারি বলেন, এই বোর্ড চার বছর দু’মাস আগে শপথ নিয়েছে। এই সময়ের মধ্যে আমরা অস্থায়ী কর্মীদের বেতন ও বোনাস দুই-ই বাড়িয়েছি এবং প্রতি মাসের প্রথম সপ্তাহেই সবাই বেতন পান। কিন্তু ২০১৯-’২০ সালের পর থেকে বিগত রাজ্য সরকারের স্পষ্ট নির্দেশ ছিল যে, কাউকে নতুন করে ক্যাজুয়াল বা স্থায়ীকরণ করা যাবে না। ফলে আমাদের বোর্ডের পক্ষে কাউকে স্থায়ীকরণ করা সম্ভব নয়। তা সত্ত্বেও কেন এই আন্দোলন, বুঝছি না। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রামজীবনপুরে ১১টি ওয়ার্ড সম্বলিত ওই পুরসভায় প্রায় ৯০ জন অস্থায়ী সাফাই কর্মী কর্মরত রয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, ১০ থেকে ২০ বছর ধরে তাঁরা ওই পুরসভায় অস্থায়ীভাবে কাজ করে চলেছেন। কাজ করলে টাকা মেলে, না করলে জোটে না। এই পরিস্থিতিতে তাঁদের স্থায়ীকরণ ও নির্দিষ্ট বেতনের দাবিতে ইতিপূর্বেও তাঁরা পুরসভার প্রাক্তন ও বর্তমান চেয়ারম্যানের কাছে বারবার দরবার করেছেন। কিন্তু সুরাহা মেলেনি।
তাই এদিন সকাল থেকে সাফাই কর্মীরা কর্মবিরতির ডাক দেন। পুরসভার কার্যালয় খোলার আগে থেকেই গেটের সামনে হাজির হয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন আন্দোলনকারীরা। বেশ কিছুক্ষণ ওই বিক্ষোভ চলার পর পুলিশের মধ্যস্থতায় সাফাই কর্মীরা গেট খুলে দেন।
সাফাই কর্মীদের তরফে ভাস্কর সিং, মণিকা ঘোষরা প্রমুখ জানান, দীর্ঘদিন ধরে পুরসভায় কাজ করছি। শুধু সাফাইয়ের কাজই নয়, নর্দমা পরিষ্কার, ঘাস কাটা থেকে শুরু করে মেথরদের কাজও করতে হচ্ছে। অথচ আমাদের স্থায়ীকরণ করা হচ্ছে না বা নির্দিষ্ট কোনো বেতন দেওয়া হচ্ছে না। তাই বাধ্য হয়েই আমরা আন্দোলনে নেমেছি।
রামজীবনপুরের বিজেপি নেতা বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বলেন, সাফাই কর্মীদের দাবি যুক্তিসঙ্গত। তৃণমূল নিয়ন্ত্রিত পুরবোর্ড সাফাই কর্মীদের প্রতি অবিচার করছে। আমরা ওই আন্দোলনকে সমর্থন করি। -নিজস্ব চিত্র



