সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: নবদ্বীপের বাজারগুলির মধ্যে অন্যতম প্রধান তেঘড়িপাড়া বাজার। শহরের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ তেঘড়িপাড়া রোড এই বাজারের মধ্য দিয়ে চলে গিয়েছে। এই রাস্তা দিয়ে টোটো, বাইক থেকে শুরু করে লরি, স্কুলবাস, অ্যাম্বুলেন্স সহ ছোট বড় বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু, দীর্ঘদিন ধরে তেঘড়িপাড়ার তেমাথা মোড় থেকে বড়শ্যামা মন্দির সংলগ্ন রাস্তাজুড়ে প্রায় ৫০-৬০টি অস্থায়ী শাক-সব্জি ও মাছ-মাংসের দোকান বসে। ফলে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত দীর্ঘ সময় ওই রাস্তায় যাতায়াত করা কঠিন হয়ে পড়ে। প্রতিদিন সমস্যায় পড়তে হয় পথচলতি সাধারণ মানুষ এবং যানবাহন চালকদের। নবদ্বীপ সহ পার্শ্ববর্তী পূর্ব বর্ধমান জেলার পূর্বস্থলী, লক্ষ্মীপুর, বেলের হল্ট, পারুলিয়া, নতুন ঘোলাপাড়া থেকেও বহু মানুষ এই বাজারে দোকান নিয়ে বসে। রাস্তাটি এমনিতেই সঙ্কীর্ণ। তারই মধ্যে প্রতিদিন রাস্তার দু’পাশে দোকান বসছে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত এই ব্যস্ততম রাস্তাটি এখন স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীদের কাছে আতঙ্কের কারণ হয়ে উঠেছে।
নবদ্বীপ বকুলতলা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র আদিত্য দাস, দীপায়ন বিশ্বাস, শুভ্রদীপ দেবনাথ জানায়, প্রতিদিন সাইকেল নিয়ে এই রাস্তা দিয়েই স্কুলে যেতে হয়। এই রাস্তায় এত যানজট হয় যে বারবার দাঁড়াতে হয়। ফলে স্কুলে পৌঁছতে খুবই দেরি হয়ে যায়। নবদ্বীপ বকুলতলা গার্লস স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী সুমনা ঘোষ বলে, মেজোশ্যামাতলায় আমার বাড়ি। মাঝেমধ্যেই যানজটের কারণে সাইকেল থেকে নেমে হেঁটে যেতে হয়। তেঘড়িপাড়ার বাসিন্দা ৬৩ বছরের সর্বাণী চট্টোপাধ্যায় বলেন, আমাদের মতো বয়স্ক মহিলাদের খুবই অসুবিধা হয়। এখানে মাঝেমধ্যে যানজটের জেরে রাস্তা পারাপার করা যায় না। বাজার করতে আসা একশ্রেণির মানুষ যত্রতত্র রাস্তার উপর সাইকেল, স্কুটি, বাইক, টোটো দাঁড় করিয়ে রাখছে। এর ফলে নিত্যদিনই যানজট বাড়ছে।
তেঘড়িপাড়ার আর এক বাসিন্দা দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, এই যানজটের কারণে যেকোনওদিন বড় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। এখানে স্কুলের সময় ট্রাফিকের ব্যবস্থা হলে খুব ভালো হয়। কাছেই নবদ্বীপ ধাম স্টেশন। অনেকক্ষেত্রেই এই যানজটের কারণে স্টেশনে পৌঁছতে সমস্যা হয়। স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দা ভবেশচন্দ্র সাহা বলেন, দিনের পর দিন জনসংখ্যা বাড়ছে। তবে, অস্থায়ী দোকানদারদের জোর করে উঠিয়ে দিলেও চলবে না।
তেঘড়িপাড়া বাজার কমিটির সম্পাদক সঞ্জয় মণ্ডল বলেন, তাঁরা অর্থনৈতিকভাবে খুবই দুর্বল। নবদ্বীপ সহ পার্শ্ববর্তী জেলা থেকে এই বাজারে সব্জি বিক্রি করতে আসেন। আমরা তাঁদের জোর করে তুলে দিতে পারি না। তাঁরা যদি অন্য কোথাও বসতে চান, আমরা বাজার কমিটির পক্ষ থেকে সে ব্যবস্থাও করে দেব।
নবদ্বীপ পুরসভার চেয়ারম্যান বিমানকৃষ্ণ সাহা বলেন, বাজার কমিটিকে আমি অনেকদিন বলেছি। এরা ভ্রুক্ষেপ করছে না। পার্শ্ববর্তী পূর্ব বর্ধমান জেলার সব্জিওয়ালারাও এখানে ভিড় করেন। অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া এই মানুষরা শাক-সব্জি বিক্রি করে সংসার চালায়। বাজার কমিটিকে বলব, ওদের বসার ব্যবস্থা করতে হবে। পুরসভা বাজার কমিটিকে সবরকম সাহায্য করবে। -নিজস্ব চিত্র