Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

জগৎবল্লভপুর: মন্দিরে চুরি, দেবীমূর্তির গয়না বানিয়ে দিলেন গ্রামেরই এক মুসলিম বাসিন্দা

মন্দির উদ্বোধনের দুই সপ্তাহ পরেই চুরি যায় প্রতিমার সমস্ত গয়না। স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে চুরির খবর শুনে মন ভারাক্রান্ত হয়ে উঠেছিল রাজস্থানে বসবাসকারী গ্রামের এক ছেলের।

জগৎবল্লভপুর: মন্দিরে চুরি, দেবীমূর্তির গয়না বানিয়ে দিলেন গ্রামেরই এক মুসলিম বাসিন্দা
  • ১৮ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: মন্দির উদ্বোধনের দুই সপ্তাহ পরেই চুরি যায় প্রতিমার সমস্ত গয়না। স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে চুরির খবর শুনে মন ভারাক্রান্ত হয়ে উঠেছিল রাজস্থানে বসবাসকারী গ্রামের এক ছেলের। ধর্ম আলাদা, তাতে কী? মা তো সবার। তাই দেবী মূর্তির জন্য সোনা-রুপোর গয়না বানিয়ে গ্রামে চলে আসেন আব্বাস আলি মোল্লা। সম্প্রীতির এই ছবি ধরা পড়েছে হাওড়ার জগৎবল্লভপুরের মুন্সিরহাটে।

Advertisement

মুন্সিরহাট ব্রাহ্মণপাড়া এলাকায় প্রায় দেড়শো বছরের পুরনো বিশালাক্ষী দেবীর মন্দির। স্থানীয় শ্মশানকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছিল মন্দিরটি। জানা গিয়েছে, গত মার্চ মাসে নতুনভাবে মন্দিরের সংস্কার হয়। প্রতিষ্ঠা করা হয় কোষ্ঠীপাথরের দেবী মূর্তি। কিন্তু সেই মন্দির উদ্বোধনের দুই সপ্তাহ পরেই এক রাতে দরজা ভেঙে মূর্তির সমস্ত গয়না চুরি করে দুষ্কৃতীরা। লক্ষাধিক টাকার সোনা ও রুপোর গয়না চুরি হয়। সদ্য উদ্বোধন হওয়া মন্দিরে চুরির ঘটনা স্থানীয় বাসিন্দাদের থেকে ফোনে জানতে পারেন আব্বাস সাহেব। এই গ্রামেরই ছেলে তিনি। তবে ব্যবসার সুবাদে পরিবার নিয়ে বহু বছর রাজস্থানে বসবাস করছেন। দেবী মূর্তির গয়না চুরির ঘটনা বিচলিত করে তাঁকে। কিছু না ভেবেই বানিয়ে ফেলেন রুপোর ছাতা, মূর্তির হাতের বালা, নাকছাবি, পায়ের নূপুর। এরপর সেগুলি নিয়ে সটান চলে আসেন গ্রামে। মন্দির কমিটির প্রধান তথা জগৎবল্লভপুর পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ তপন চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেন আব্বাস সাহেব।
জানা গিয়েছে, মন্দিরে চুরির ঘটনায় ইতিমধ্যেই ধরা পড়েছে চোর। উদ্ধার করা গিয়েছে সমস্ত গয়নাও। কিন্তু নিজের তৈরি করা সমস্ত গয়না মন্দিরে দান করার জন্য আব্বাস সাহেব ইচ্ছা প্রকাশ করায় তাজ্জব বনে গিয়েছিলেন তপনবাবু। এমনটাও যে কেউ করতে পারেন, ধারণা করতে পারেননি মন্দির কমিটির সদস্যরাও। শেষে দু’দিন আগেই মন্দিরে লক্ষাধিক টাকার সোনা ও রুপোর গয়না দান করেছেন আব্বাস সাহেব। তিনি বলেন, এই গ্রামেরই ছেলে আমি। গ্রামের পুরনো মন্দিরের সঙ্গে আমাদের ছেলেবেলার বহু স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে। চুরির ঘটনায় খুব কষ্ট পেয়েছিলাম। তখনই প্রতিজ্ঞা করেছিলাম, মাকে গয়না বানিয়ে দেব। আব্বাস সাহেবকে নিয়ে গর্বিত গোটা গ্রাম। এ যেন সম্প্রীতির নজির তৈরি করে দিয়ে গেল, বলছেন গ্রামবাসীরা। মন্দির কমিটির প্রধান তপন চট্টোপাধ্যায় বলেন, সত্যিই সবার উপর মানুষ সত্য। ঈশ্বরের কাছে সবাই সমান। আব্বাস যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন, মনুষ্যত্বের এই ছবি যেন সব জায়গায় ফুটে ওঠে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ