জয়পুর: ২৪ ঘণ্টা আগে থেকে বন্ধ ইন্টারনেট পরিষেবা। মোতায়েন ৩ হাজারের বেশি পুলিশকর্মী। মাথার উপরে ড্রোনের নজরদারি। বন্ধ বিদ্যুৎ পরিষেবাও। সোমবার সকাল থেকে জবরদখল উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে কার্যত রণংদেহি মেজাজে দেখা গেল জয়পুর পুলিশকে। প্রশাসনের দাবি, জগৎপুরা এলাকার রেললাইনের সমান্তরাল ওই রাস্তার প্রস্থ হওয়ার কথা ছিল ৮০মিটার। জবরদখলের জেরে তা দাঁড়িয়েছিল মাত্র ২৫-৩০ মিটারে। জানা গিয়েছে, ওই অংশে একাধিক ধর্মীয় স্থাপনা থাকার কারনেই অতিরিক্ত সতর্কতা নিয়েছে জেলা প্রশাসন।
সোমবার রাস্তার উপরে থাকা একটি মসজিদ, ২টি মন্দির, একটি মাজার ও একটি সৎ-সঙ্গ হল বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছে জেলা প্রশাসন। তার আগে অবশ্য সম্প্রদায়গুলিকে ধর্মীয় স্থল সরিয়ে নিয়ে যেতে নোটিস দেওয়া হয়েছিল। এদিনের অভিযান শুরুর আগেই প্রশাসন সতর্ক করেছিল, কোনোরকম গুজব রটানো হলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখারও অনুরোধ করা হয়েছিল। বিধায়ক রফিক খান জানিয়েছেন, ভাঙা পড়া মাজারটি স্বাধীনতারও আগে তৈরি করা হয়েছিল। তিনি আরও জানিয়েছেন, ২০০০ সালে ওই রাস্তার অংশ বাড়িয়ে ৮০ ফুট করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। ব্যক্তিগত অর্থে ভাঙা পড়া নুরানি মসজিদটি তৈরি হয়েছিল তারও ২ দশক আগে ১৯৮১ সালে। ১৯৯৪ সালে মসজিদের জন্য ডেভলপমেন্ট ফি দেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করেছেন তাঁরা। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিয়োতে বিধায়ক আমির কাগজিকে বলতে শোনা গিয়েছে, ‘আমরা মসজিদ ভাঙার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারব না। মসজিদ পরিসর ৪০ ফুট থেকে ২০ ফুট করার কথা বলেছিলাম। যাতে প্রার্থনা করা যায়। তবে প্রশাসন সেকথা শোনেনি।’ সবমিলিয়ে এই উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে বিতর্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।