নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কালীপুজোর পর কলকাতার বাতাস বিষিয়ে গিয়েছিল দূষণে। তার সপ্তাহখানেক বাদে আসে ঘূর্ণিঝড় মন-থা। তার প্রভাবে কলকাতায় বৃষ্টি। তারপরই শহরের দূষণ যায় একেবারে কমে। দূষণের সূচক বা এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) একলাফে ২০০ থেকে কমে ৫০’এর নীচে চলে যায়। কিন্তু বৃষ্টিতে বাতাস যতখানি শুদ্ধ হয়েছিল, শহরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা কমতেই তা একলাফেই গেল বেড়ে। শীত ঠিকঠাক শুরু হতে না হতেই পরিস্থিতি বদলে যাওয়ায় আশঙ্কায় পড়েছেন অসুস্থ ও প্রবীণরা।
মঙ্গলবার সকাল থেকে শহরের উত্তর থেকে দক্ষিণের বিভিন্ন প্রান্ত সাদা ধোঁয়াশার চাদরে ঢেকে যায়। হঠাত্ পরিস্থিতি এমন কেন? পথে হাঁটতে হাঁটতে অনেকেই প্রশ্ন তুললেন। সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ, রেড রোড, গিরিশ পার্ক বা যাদবপুর, বালিগঞ্জ এলাকায় সাদা ধোঁয়াশার চাদর দেখা দেয়। কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ প্রতিদিন বিকেল চারটে নাগাদ গত ২৪ ঘণ্টার একিউআই বা দূষণের সূচক প্রকাশ করে। তাতে দেখা গিয়েছে, গত রবিবার ও সোমবার একিউআই ছিল যথাক্রমে ৪৯ ও ৫৮। যা শ্বাসগ্রহণের জন্য অনুকূল। কিন্তু আচমকা মঙ্গলবার একিউআই হয়ে যায় ১৯৯। আবহাওয়া বিজ্ঞানীদের মতে এই সূচক ‘মডারেট’। অর্থাত্ যাঁদের ফুসফুস, হৃদযন্ত্র বা শ্বাসকষ্ট আছে, তাঁদের সমস্যায় পড়তে হতে পারে। পরিবেশবিদরা বলেন, ‘সর্বনিম্ন তাপমাত্রা কমতে থাকলে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়।’ অন্যদিকে আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রবিবার ও সোমবার কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল যথাক্রমে ২৪.৪ ও ২৩.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। মঙ্গলবার তাপমাত্রা কমে হয় ২১.৪ ডিগ্রি। অর্থাত্ প্রায় ২ ডিগ্রি কমে যায়। তার ফলেই বাতাসে দূষণের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে মনে করছেন পরিবেশবিদরা।
মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ছ’টা নাগাদ কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বালিগঞ্জ, ফোর্ট উইলিয়াম, যাদবপুর ও ভিক্টোরিয়া এলাকায় একিউআই অত্যধিক পরিমাণ বেড়ে যায়। সবক’টি এলাকাতেই ২০০’র উপর ছিল সূচক। যাদবপুর ও ভিক্টোরিয়া এলাকায় সূচক ৩০০ ছুঁইছুঁই। বিধাননগর ও রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার সূচক ছিল যথাক্রমে ১৭৮ ও ১৭১। রবীন্দ্র সরোবর এলাকায় ছিল ১২৬। পশ্চিমবঙ্গ দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের চেয়ারম্যান কল্যাণ রুদ্র বলেন, ‘আমাদের একিউআই ‘মডারেট’ স্তরেই রয়েছে। এটা খুবই স্বাভাবিক বিষয়। তাপমাত্রা কমার সঙ্গে সঙ্গে বাতাসে ভাসমান ধূলিকণা অনেকটা নীচে নেমে আসে। তার জেরেই একিউআই অনেকখানি বেড়ে যায়।’ জানা গিয়েছে, কলকাতা কর্পোরেশন ও দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের তরফে ইতিমধ্যেই নানা রকমের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে বাতাসের দূষণ নিয়ন্ত্রণে। এই বিষয়টি জানিয়েছেন কল্যাণবাবু। এদিনই যাদবপুর এলাকায় ব্যাটারিচালিত গাড়ির মাধ্যমে রাস্তায় জল ছড়াতে দেখা গিয়েছে। এই কাজের মাধ্যমে বাতাসে থাকা দূষণের পরিমাণ যতখানি কমানো যায় ততখানি কমানোর চেষ্টা চলছে বলে জানা গিয়েছে।