Bartaman Logo
২২ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখী তাপমাত্রা, শীত শুধু রাতের অতিথি! গরমের ওয়ার্ম আপ শুরু

ঠিক যেমনটা বলেছিল আবহাওয়া দপ্তর, তেমনটাই হল। পূর্বাভাসের খুব একটা হেরফের হল না। সপ্তাহের শুরু থেকেই শহর কলকাতার তাপমাত্রার পারদ ঊর্ধ্বমুখী।

ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখী তাপমাত্রা, শীত শুধু রাতের অতিথি! গরমের ওয়ার্ম আপ শুরু
  • ২১ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ঠিক যেমনটা বলেছিল আবহাওয়া দপ্তর, তেমনটাই হল। পূর্বাভাসের খুব একটা হেরফের হল না। সপ্তাহের শুরু থেকেই শহর কলকাতার তাপমাত্রার পারদ ঊর্ধ্বমুখী। যদিও রাতে শীত শীত ভাব। তখন গরমজামা পরলে ভালো।

Advertisement

তবে সকালের পর বেলা বাড়তেই রোদের তেজ বাড়ছে পাল্লা দিয়ে। রাস্তায় বেরলে মনে হচ্ছে, গরমকাল ওয়ার্মআপ শুরু করে দিয়েছে। যেন যে কোনো মুহূর্তে শহর গিলতে আসবে সূর্য। পাশাপাশি শীত হয়ে উঠেছে রাতের অতিথি। তবু দুপুরবেলাতেও অনেকের শরীরে দেখা গিয়েছে গরমজামা। আবার রোদ ঠেকাতে ছাতাও মাথায় দিয়েছেন অনেকে। এই গরমে দুপুরে গরমজামা? তাঁদের বক্তব্য, ‘রাতে বাড়ি ফেরার জন্যই এই শীতবস্ত্র বইতে হচ্ছে দিনভর। কারণ রাতে শীত শীত। আর দুপুরে গায়ে রাখলে চিড়বিড় করছে পিঠ। কিন্তু বইতে হচ্ছে নিরুপায় হয়ে।’ তারপর মেট্রোর এসির হাওয়ায় ক্ষণিক স্বস্তি পাচ্ছেন তাঁরা।

হাওয়া অফিস জানিয়েছে, মঙ্গলবার শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৪.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা স্বাভাবিকের চেয়ে পয়েন্ট তিন ডিগ্রি কম। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৬ ডিগ্রি। আবহাওয়ার পূর্বাভাস, আজ শহরের তাপমাত্রা আরও বাড়ার সম্ভাবনা। আগামী কয়েকদিন সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৪ থেকে ১৫ ডিগ্রির আশপাশে থাকবে বলে অনুমান। আর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৫ থেকে ২৬ ডিগ্রির মধ্যে ঘোরাফেরা করবে। সকালের দিকে শহরে থাকবে কুয়াশা। সল্টলেক, দমদম, বসিরহাট, মগরা, ডায়মন্ডহারবারের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৩ থেকে ১৪ ডিগ্রির মধ্যে ছিল। ক্যানিং, কাকদ্বীপ, বারাকপুরের তাপমাত্রা ছিল ১২ ডিগ্রির আশপাশে। কল্যাণী ও উলুবেড়িয়ায় ১০.৫ ডিগ্রি। অর্থাত্, শীত  একেবারে যে চলে গিয়েছে, তা কিন্তু বলা যাচ্ছে না। তবে দুপুরবেলার রোদ জানান দিচ্ছে, গরমকাল বেশি দূরে নেই। তিনি জ্বালাতে এলেন বলে।

গরম বলতেই সেই চাঁদিফাটা সব রোদের কথা মনে পড়ে। ধর্মতলায় ফলের রস বিক্রেতা বললেন, ‘এই রোদ কিছুই না। মার্চ-এপ্রিলে কেমন রোদ দেবে, ভাবছি।’ হুগলির সুগত চক্রবর্তী বললেন, ‘এখন সোয়েটার পরে থাকার কারণ একটাই, রাতে বাড়ি ফেরার সময় ঠান্ডা লাগবে। আবার সকালে বাড়ি থেকে বেরনোর সময়ও গরমজামা লাগছে।’

সকালে এই ঠান্ডা। বেলায় আবার গরম। রাতে আবার ঠান্ডা। আপাতত এই পদ্ধতিতেই চলছে কলকাতা। উত্তুরে হাওয়ার প্রভাব প্রায় নেই। দুপুরে রোদে দাঁড়িয়ে আসন্ন গরমকালের সিঁদুরে মেঘ দেখছে জনগন। মানুষের বক্তব্য, যতই যাই হোক শীতকাল অনেক ভালো। গরমের কথা মনে এলেই ভয় লাগে। এখনই দুপুরের রোদের তাপে কাহিল শহরবাসী। বেড়ে গিয়েছে ঠান্ডা পানীয় ও আইসক্রিমের বিক্রি। সবমিলিয়ে গরমের সঙ্গে যেন ওয়ার্ম আপ শুরু করেছে মানুষ।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ