দেবজিৎ ঘোষ: আশিয়ান কাপে সেই দুর্ঘটনার পর তখন আমি হাসপাতালে। ভৌমিক দা’রা (সুভাষ ভৌমিক) আমায় দেখতে এলেন। তখন একটাই কথা বলেছিলাম, পরের ম্যাচ খেলব কিন্তু। শুনে সবাই অবাক! কী বলছে ছেলেটা। কয়েক ঘণ্টা আগেই মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছে। আর বলে, পরের ম্যাচ খেলব! কেউই আমায় খেলাতে রাজি নন। আমিও নাছোড়বান্দা। কোচের সঙ্গে একপ্রস্ত ঝগড়াই হয়ে গেল। সেদিনের সেই ঘটনা মনে পড়লে এখন আমি নিজেই অবাক হয়ে যাই। ভাবি, কোথা থেকে পেয়েছিলাম সেই মনের জোর। পরের মুহূর্তেই ধন্যবাদ জানাই কলকাতা লিগকে। ময়দানের ঘেরা মাঠে দর্শকদের ঘাড়ে নিয়ে খেলার চাপ থেকেই তো এসেছিল সেই মানসিক কাঠিন্য, টেম্পারামেন্ট। ঘরোয়া লিগই তো বুকের খাঁচা তৈরি করে দিয়েছিল। খেলোয়াড়ি জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত যা কাজে দিয়েছে।
ময়দানে আমায় প্রথম সুযোগ দিয়েছিল ভ্রাতৃ সংঘ। সেটা ১৯৯২। সেখান থেকে সন্তোষ ট্রফি। এরপর ১৯৯৬ সালে বাংলা দলের প্র্যাকটিস থেকে সোজা ইস্ট বেঙ্গল লনে হাজির করেছিলেন দুই কর্তা। দু’মিনিটের কথা পল্টু দা’র সঙ্গে। তাতেই সুযোগ পেলাম লাল-হলুদ ড্রেসিং-রুমে ঢোকার। তবে প্রথম একাদশে সুযোগ পাওয়া খুব কঠিন ছিল। কোচ হিসেবে মনোরঞ্জন ভট্টাচার্যেরও সেটা অভিষেক বছর। তবু মনাদা আস্থা রেখেছিলেন আমার উপর। মহমেডান ম্যাচের দিন সকালে আমায় বললেন, ‘প্রথম ম্যাচটাই ঠিক করবে আগামী দিনে তুমি জার্সি পাবে কি না।’খেলার শেষে ম্যাচের সেরার পুরস্কার নিয়ে মাঠ ছাড়ার সময় পিঠ চাপড়ে মনা দা’র মন্তব্য, ‘প্র্যাকটিসে সময় বাড়াও।’ আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি। ময়দানের তিন প্রধানে দাপিয়ে খেলেছি। রাজ্য এবং জাতীয় দলে প্রতিনিধিত্ব করেছি। সৌজন্যে কলকাতা লিগ।
এই মুহূর্তে প্রিমিয়ার লিগের দল রেনবো এফসি’র টিডি আমি। প্রতি ম্যাচেই মাঠে থাকি। বারবার মনে হয়, কেন তিন বড় দল নিজেদের মাঠে খেলে না? কলকাতা লিগের আসল মজা তো জলকাদার ময়দান, ঘেরা মাঠ। আরে, দর্শকদের চাপ না থাকলে একটা ফুটবলার ভালো খেলবে কীভাবে? আমাদের সময় বিদেশিদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে খেলেছে বঙ্গসন্তানরা। আর এখন তো লিগে বিদেশিরাই নেই। তাই এই সুযোগ কাজে লাগাতে হবে ফুটবলারদের।