সংবাদদাতা, তেহট্ট: মদ্যপ অবস্থায় স্কুলে ঢুকে পঞ্চায়েত প্রধান শিক্ষকদের অশ্লীল কথা বলেছেন ও দুর্ব্যবহার করেছেন। এই অভিযোগে সোমবার সকাল ১১টা ৫০ মিনিট থেকে বেলা ৩টে ১০ মিনিট পর্যন্ত রাজ্য সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাল ছত্রছাত্রীরা। ঘটনা পলাশীপাড়া থানার বার্নিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের। প্রধানের শাস্তির দাবি তোলে পড়ুয়ারা। ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিস। অবশেষে ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক প্রধানের নামে থানায় অভিযোগ করলে অবরোধ তুলে নেয় ছাত্রছাত্রীরা।
ছাত্রছাত্রীদের সুত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার স্কুল চলাকালীন বার্নিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল প্রধান তরুণকুমার ঘোষ চৌধুরী স্কুলে যান। ছাত্রছাত্রীদের অভিযোগ, তিনি যখন স্কুল যান তাঁর সঙ্গে আরও কয়েকজন ছিলেন। প্রধান মদ্যপ অবস্থায় এসে গেটে ধাক্কা মেরে খুলে ভিতরে গিয়ে শিক্ষক শিক্ষিকাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। সেই সঙ্গে অশ্লীল কথা বলেন। এত কিছু ঘটলেও ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক কোনও ব্যবস্থা নেননি। ছাত্রী জয়া বিশ্বাস, ছাত্র রাজেশ শেখ বলে, শুক্রবার বার্নিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান মদ্যপ অবস্থায় স্কুলে যে আচরণ করেছেন তা আমাদের পক্ষে মানা সম্ভব না। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। তাই প্রধানের ক্ষমা চাওয়ার ও তার শাস্তির দাবিতে এই আন্দোলন করছি। ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক শিব্যেন্দু সরকার বলেন, প্রধান শুক্রবার এসে শিক্ষক কেন কম জানতে চান। সেদিন বৃষ্টির জন্য বেশ কয়েকজন শিক্ষক স্কুলে আসেননি। তাতে ক্লাসের কোনও অসুবিধা হয়নি। তিনি শিক্ষকদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন আর কিছু খারাপ কথা বলেন। আমরা বিষয়টি পরিচালন সমিতিকে জানাই। তারা আলোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে বলায় আমরা কিছু ব্যবস্থা গ্রহণ করিনি। সোমবার লিখিত অভিযোগ জানিয়েছি।
এই বিষয়ে গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান তরুণ ঘোষ চৌধুরী বলেন, আমার বিরুদ্ধে আইএসএফ ও সিপিএম মিথ্যা প্রচার করছে। তাঁরা কিছু ছাত্রছাত্রীকে দিয়ে এই রাস্তা অবরোধ করিয়েছে। আমি খবর পাই প্রতিদিন বেশ কিছু শিক্ষক স্কুলে আসেন না। সেই বিষয়টি পরিদর্শন করতে গিয়েছিলাম। ছাত্রছাত্রীদের স্বার্থে আমার স্কুলে যাওয়া। সেখানে কথা বলার সময় উত্তেজিত হয়ে চিৎকার করেছিলাম। তবে কোনও খারাপ কথা বলিনি বা ব্যবহার করিনি। নিজস্ব চিত্র