সংবাদদাতা, তেহট্ট: তেহট্ট থানার তেহট্ট শ্রীদাম চন্দ্র বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষ আছে, ছাত্রী আছে অথচ আছে স্থায়ী শিক্ষিকার অভাব। সেই কারণে ছাত্রীদের লেখাপড়ার যাতে সমস্যা না হয় তার জন্য পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত এই স্কুলে গ্রামের উচ্চ শিক্ষিত মেধাবী ছেলে মেয়েরা সেই ছাত্রীদের কোনোরকম পারিশ্রমিক ছাড়াই লেখাপড়া করাচ্ছেন। স্কুল কর্তৃপক্ষ থেকে অভিভাবকরা শিক্ষিকার আবেদন করেছেন শিক্ষা দপ্তরে, অথচ হেলদোল নেই শিক্ষা দপ্তরের।
স্থানীয় সুত্রে জানা গিয়েছে, এই স্কুলে পঞ্চম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত নেই কোনো জীবনবিজ্ঞান, অঙ্কের শিক্ষিকা। উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে নেই ভূগোল, বাংলা, ইংরেজির শিক্ষক। ফলে সমস্যায় পড়ছে ছাত্রীরা।
স্কুল সুত্রে জানা গিয়েছে, ওই স্কুলে বর্তমান ছাত্রীর সংখ্যা ২৫০০ জন। স্থায়ী শিক্ষিকা থাকার কথা ৪০ জন। আছেন ১৫ জন। স্কুলের গ্রুপ– ডি থাকার কথা ৩ জন। একজনও নেই। এই স্কুলে উচ্চ মাধ্যমিকে কলা বিভাগ পড়ানো হয়। কিন্তু কলা বিভাগের জন্য যে শিক্ষিকার প্রয়োজন তা নেই। নেই কোনো বাংলা, ইংরেজি ও ভূগোলের শিক্ষক। অথচ উচ্চ মাধ্যমিকে পড়তেই হয় বাংলা ইংরেজি। যারা ভুগোল নিয়েছে তাঁরাও শিক্ষিকার অভাবে সমস্যায় পড়েছে। পঞ্চম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত নেই কোনো জীবন বিজ্ঞান ও অঙ্কের শিক্ষিকা। এখানে দুজন করে বাংলা , ইংরেজির শিক্ষক থাকার কথা থাকলেও আছেন মাত্র একজন করে। ফলে সেই বিষয় নিয়েও সমস্যায় রয়েছে। বাধ্য হয়ে এলাকার বেশ কয়েকজন মেধাবী মেয়ে এই বিষয়ে পড়াচ্ছেন। তাঁরা স্কুলে স্বেচ্ছাশ্রম দিচ্ছেন। তাঁদের কথায় , স্কুল ও ছাত্রীদের স্বার্থে তাঁরা স্বেচ্ছাশ্রম দিচ্ছেন।
এই বিষয়ে স্কুলের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষিকা মল্লিকা সরকার বলেন, আমরা শিক্ষিকার বিষয়ে শিক্ষা দপ্তরকে জানিয়েছি। একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু হলেও শিক্ষিকা পাইনি।আমরা ও ছাত্রীরা খুব সমস্যার মধ্যে পড়েছি। সেই কারনে এলাকার কয়েকজনকে এই বিষয়গুলো পড়ানোর জন্য বলেছিলাম। তাঁরা এখন পড়াচ্ছে। এক অভিভাবিকা নীলিমা বিশ্বাস বলেন, আমার মেয়ে ভুগোল নিয়েছে। কিন্তু কোনো শিক্ষিকা না থাকায় সমস্যায় পড়েছে। আমাদের আবেদন অবিলম্বে স্কুলে পর্যাপ্ত শিক্ষিকার ব্যবস্থা করা হোক। এই বিষয়ে শিক্ষা দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কতৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
স্কুলে যোগ চর্চা। -নিজস্ব চিত্র