Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কিশোরের নলিকাটা দেহ উদ্ধার মাঠ থেকে, ধৃত ১

কিশোরের নলিকাটা দেহ উদ্ধার মাঠ থেকে, ধৃত ১
  • ২৯ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, ডোমকল: বুধবার দুপুরের রানিনগরের কাতলামারির মাঠে এক কিশোরের নলিকাটা দেহ উদ্ধার ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। নিহত কিশোরের নাম রবিউল শাহ (১৫)। তার বাড়ি রানিনগরের মুন্সিপাড়ায়। একটি খুনের মামলা রুজু করে মৃতদেহটিকে উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে পুলিস। ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই খুনের দায়ে আরিফ শেখ নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস। সূত্রের খবর, সে জেরায় খুনের কথা স্বীকারও করেছে। কিন্তু কী কারণে সে খুন করেছে তা এখনও জানা যায়নি। খুনের কারণ নিয়ে ধন্দে কিশোরের পরিবারও। ডোমকলের এসডিপিও শুভম বাজাজ বলেন, খুনের অভিযোগে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

Advertisement

স্থানীয় ও পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই কিশোরের বাবা কেরলে শ্রমিকের কাজ করেন। এলাকায় শান্ত ভদ্র ছেলে হিসেবেই পরিচিত ছিল রবিউল। পড়াশোনাতেও মন্দ নয় নবিপুর সরলাবালা হাই স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র রবিউল। পরিবারের দাবি, বুধবার সকালে হাঁসুয়া হাতে বাড়ি থেকে এক কিলোমিটার দূরে তাঁদের জমিতে ঘাস কাটতে বেরিয়েছিল রবিউল। দুপুর হয়ে গেলেও না ফেরায় তার মা খোঁজাখুঁজি শুরু করে। মায়ের পাশাপাশি বাড়ির অন্যান্য সদস্যরাও খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। দুপুর দেড়›টা নাগাদ তাঁদের ঘাসের জমির প্রায় দেড়শো মিটার দূরে একটি কলাবাগানে তাঁর দেহ মেলে। তাঁরা দেখেন, রবিউলের পরণে হাফ প্যান্ট আর ফুল হাতা জামা। হাত দু’টি পিছমোড়া হয়ে শরীরের নীচে রয়েছে। এক পা ভাঁজ হয়ে রয়েছে। আর অন্য পা এগিয়ে রয়েছে সামনের দিকে। গলার নলি কাটা। আশপাশ রক্তে ভেসে গিয়েছে। একটু দূরেই পড়ে আছে রবিউলের হাঁসুয়া। সেই হাঁসুয়াতেও রয়েছে রক্তের দাগ। খবর দেওয়া হয় পুলিসকে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পৌঁছয় রানিনগর থানার পুলিস। তাঁরা মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। ঘটনার পর অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে  ঘটনাস্থলে গিয়ে পৌঁছয় রানিনগর থানার পুলিস। পাশপাশি এলাকায় যান ডোমকলের এসডিপিও শুভম বাজাজ, সিআই ডোমকল তাপস দাস সহ পুলিসের একাধিক কর্তা। মৃতের মা সালেহা বিবি বলেন, ছেলে আমার খুব ভালো। খুব শান্ত, ভদ্র। কারও সঙ্গে ঝগড়ায় জড়ায়নি কোনওদিন। আজ সকালে ছেলে ঘাস কাটতে বেরিয়েছিল। ওঁর কাছে মোবাইলও ছিল। অনেকক্ষণ পরেও ছেলে না ফেরায় আমি ফোন করি। ছেলের ফোন সুইচড অফ পাওয়ায় আমরা খোঁজাখুঁজি শুরু করি। খোঁজাখুঁজির পর ওঁর দিদা দেখে আমাদের জমির কিছুটা দূরে কলাবাগানে ছেলের দেহ পড়ে রয়েছে। কী কারণে ছেলেকে খুন করা হয়েছে বুঝতে পারছি না। 
মৃতের সম্পর্কে মামা হুমায়ন কবির বলেন, রবিউল খুব ভালো ছেলে ছিল। কারও সঙ্গে কোনওদিন ঝগড়ায় জড়ায়নি। ওঁর মৃত্যুর খবর শুনে মাঠে গিয়ে দেখি নৃশংশভাবে ওকে খুন করা হয়েছে। কেন কী কারণে ওকে মারা হয়েছে তা বুঝে উঠতে পারছি না। পুলিস জানিয়েছে, খুনের জায়গাটি ঘিরে রাখা হয়েছে। হাঁসুয়াটি উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতের মোবাইলের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ