নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ছেলে ভিডিও গেমে আসক্ত। সারাক্ষণ মোবাইলে গেম নিয়েই ব্যস্ত। এ নিয়ে বাড়িতে বকাবকি করেছিলেন বাবা-মা। তারপরই নিজের ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে আত্মঘাতী হল বছর চোদ্দর কিশোর রণদীপ ভট্টাচার্য। সোমবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে চারু মার্কেট থানা এলাকার সুলতান আলম রোডে। দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই কিশোর একটি ইংরাজি মাধ্যম স্কুলে পড়ত। সে দিনের পর দিন অমনোযোগী হয়ে পড়ছিল। স্কুলের হোম টাস্ক ঠিকমতো করত না। প্রাইভেট টিউটরের কাছেও নিয়মিত পড়তে যাচ্ছিল না। আর গেলেও পড়ায় মন বসত না। তদন্তকারীরা জেনেছেন, ওই কিশোর বাবা বা মায়ের মোবাইল ফোন নিয়ে সারক্ষণ গেম খেলত। বাবা-মা পড়তে বসার কথা বললেও শুনত না। স্কুল থেকে ফেরার পর সারাক্ষণ অন্য বন্ধুদের সঙ্গে অনলাইন গেমে ব্যস্ত থাকত। তার হাত থেকে মোবাইল ফোন কেড়ে নিলেই কান্নাকাটি জুড়ে দিত সে। সম্প্রতি স্কুলের পরীক্ষায় খারাপ ফল করে ওই ছাত্র। তারপর থেকেই ছেলেকে বিভিন্নভাবে বোঝানো শুরু করেন বাবা-মা। কিন্তু তাতে কাজ হয়নি। তার ধ্যান-জ্ঞান হয়ে উঠেছিল ওই মোবাইল ফোন। কখনও কখনও গেম খেলতে খেলতে মোবাইল নিয়ে বাড়ির বাইরেও চলে যেত সে।
জানা গিয়েছে, কয়েকজন বন্ধুর পাল্লায় পড়েই মোবাইলে গেমের নেশায় আসক্ত হয়ে পড়েছিল সে। সোমবারও সে সারাক্ষণ মোবাইল ফোন হাতেই কাটিয়েছে। এরজন্য বাবা সকালে একবার বকাবকি করেন। হাত থেকে কেড়েও নেন মোবাইল। সন্ধ্যাতেও পড়তে বসেনি। এমনকি, টিউটরের কাছে পড়তেও যায়নি। মা এই নিয়ে বকাবকি করেন ছেলেকে। তাকে সাফ জানিয়ে দেন, আর মোবাইল দেওয়া হবে না। মন দিয়ে পড়াশোনা করতে বলেন ছেলেকে। এরপরই ছেলে রণদীপ নিজের ঘরে ঢুকে ভিতর থেকে দরজা বন্ধ করে দেয়। ছেলে পড়তে বসেছে ভেবে, মা অন্য কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। ঘণ্টাখানেক পর খাবার বেড়ে ছেলেকে ডাকতে যান মা। দরজায় ধাক্কা দিলেও খোলেনি ছেলে। ভিতর থেকে সাড়াশব্দ না মেলায় দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকে রণদীপকে সিলিংয়ের সঙ্গে ঝুলন্ত দেখেন তিনি। সঙ্গে সঙ্গে স্বামী ফোন করেন তিনি। খবর পেয়ে আসে চারু মার্কেট থানার পুলিশ। তারা ওই কিশোরকে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ঘর থেকে কোনও সুইসাইড নোট মেলেনি। ছেলের অস্বাভাবিক মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছেন বাবা-মা। এমন পরিণতি যে হতে পারে, ঘুণাক্ষরে বুঝতে পারেননি তাঁরা।