আমেদাবাদ: ভারতের সামনে মুখ থুবড়ে পড়তে তিন দিনও লাগল না ওয়েস্ট ইন্ডিজের। দুর্বলতম ক্রিকেটের ‘ধারাবাহিকতা’ বজায় রেখে আমেদাবাদে দুই টেস্টের সিরিজের প্রথম ম্যাচে শনিবার ইনিংস ও ১৪০ রানে দুরমুশ ক্যারিবিয়ানরা। ভারতের মাটিতে শেষ পাঁচটির মধ্যে চারটি টেস্টই ইনিংসে হারল রিচার্ডস, লারাদের দেশ। অপরটি ১০ উইকেটে। আর প্রতিটি ম্যাচ শেষ হয় তিন দিনের মধ্যে। সেই নিরিখে বলাই যায়, টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পারফরম্যান্স আর পাতে দেওয়া যাচ্ছে না।
মাত্র আড়াই দিনে ভারতের দাপুটে জয়ের জন্য অবশ্যই কৃতিত্ব প্রাপ্য রবীন্দ্র জাদেজার। ব্যাটে অপরাজিত ১০৪ রানের ইনিংসের পর বল হাতে ৪ উইকেট নিয়ে তারকা অলরাউন্ডারই ম্যাচের নায়ক। সাম্প্রতিক ইংল্যান্ড সফরের ছন্দ দেশের মাটিতেও ধরে রেখেছেন জাড্ডু। আমেদাবাদে অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে আবারও প্রমাণ করলেন, কেন তিনি বিশ্বের সেরা অলরাউন্ডার। তারিফ করতে হবে বাকি বোলারদেরও। জাদেজার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বল হাতে আলো ছড়ালেন সিরাজ (৩-৩১), কুলদীপ (২-২৩) ও ওয়াশিংটন (১-১৮)। তবে দ্বিতীয় ইনিংসে কোনও উইকেট পাননি বুমরাহ।
ভারতের তিনটি শতরানেই দেওয়াল লিখন স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল শুক্রবার। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ১৬২ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে সেঞ্চুরি হাঁকান লোকেশ রাহুল, ধ্রুব জুরেল ও রবীন্দ্র জাদেজা। সেই সুবাদে দ্বিতীয় দিনের শেষে ভারতের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৫ উইকেটে ৪৪৮। লিড ২৮৬ রানের। তৃতীয় দিন ব্যাট করতে নামার প্রয়োজন অনুভব করেনি শুভমান গিল বাহিনী। ইনিংসের সমাপ্তি ঘোষণা করে শনিবার সকালেই ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ব্যাট করতে পাঠান ভারত অধিনায়ক। প্রথম ইনিংসের মতো ফের একবার শুরু থেকেই ধুঁকতে থাকে ক্যারিবিয়ান ব্রিগেড। ৪৬ রানে পাঁচ উইকেট হারিয়ে রোস্টন চেজের দল বার্তা দেয়, আমরা হারতেই এসেছি। দুই ওপেনার ত্যাগনারায়ণ চন্দ্রপল (৮) ও জন ক্যাম্পবেল (১৪) চূড়ান্ত ব্যর্থ। তিনে নামা অ্যালিক আথানজে (৩৪) অবশ্য কিছুটা চেষ্টা চালিয়েছিলেন। বাকিদের রান বলার মতো নয়। আমেদাবাদের ঘূর্ণি পিচে ভারতীয় স্পিনারদের সামনে তুর্কি নাচন নাচলেন চেজ-হোপরা। ফলস্বরূপ দ্বিতীয় সেশনে এক ঘণ্টার মধ্যেই অল আউট ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
ভাবতে অবাক লাগে, একটা সময় বিশ্ব ক্রিকেটে রাজ করা ক্যারিবিয়ানরা একদিন এভাবে তলিয়ে যাবে! ন্যূনতম প্রতিরোধের ক্ষমতাটুকুও নেই লয়েড-রিচার্ডসের এই উত্তরসূরিদের। যেন রক্তশূন্য কতগুলো শরীর স্রেফ ওয়েস্ট ইন্ডিজের জার্সির অবমাননা করতেই মাঠে নেমে পড়েছে! এরা কারা? লজ্জায় নিশ্চয়ই চোখের জল ফেলছেন সব ফরম্যাট মিলিয়ে চারবার বিশ্বকাপজয়ী দেশের সমর্থকরা।



