তিরুবনন্তপুরম: কিং ও প্রিন্সের যুগলবন্দি! গ্রিনফিল্ড আন্তর্জাতিক স্টেডিয়াম সাক্ষী থাকল প্রবীণ-নবীনের দুরন্ত আধিপত্যের। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে সিরিজের প্রথম একদিনের ম্যাচে ৫০ বল বাকি থাকতে ৮ উইকেটে হেলায় জয়েই তা প্রতিফলিত। ভারত ২৯৬ রানের টার্গেটে পৌঁছায় মাত্র ৪১.৪ ওভারে (৩০০-২)। অধিনায়ক শুভমান গিল করেন ১১০। কোহলি অপরাজিত থাকেন ১৩৯ রানে। দু’জনের দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ১৩২ বলে ওঠে ১৫১। গিল ফেরার পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন ভিকে। এই ঘরানায় পূর্ণ করেন ৫৫তম শতরান, যা রেকর্ড। জোড়া ছক্কায় ম্যাচ জিতিয়ে বোঝালেন, কেন তিনি চেজমাস্টার!
পরের বছর এই সময়ই হবে ওডিআই বিশ্বকাপ। পঞ্চাশ ওভারের ঘরানায় এখন প্রতিটি ম্যাচই তার প্রস্তুতি। এদিন কোহলি-গিলের শতরানের পাশাপাশি ওপেনিংয়ে উজ্জ্বল ছিলেন রোহিত। বড়ো ইনিংস না খেললেও হিটম্যানকে দেখাল মারকুটে মেজাজে। তাঁর সঙ্গে গিলের ওপেনিং জুটিতে ওঠে ৭৪। গিলের দশম ওডিআই শতরান আসে ৯৬ বলে। তাঁর ইনিংসে রয়েছে ১৩টি চার ও একটি ছক্কা।
ক্যাপ্টেন ফেরার আগেই দ্রুততম ১৫ হাজার রানে পৌঁছেছিলেন বিরাট। শচীন তেন্ডুলকরের (১৮৪২৬) পর এই মাইলস্টোনে তিনিই দ্বিতীয় ক্রিকেটার। তবে মাস্টার ব্লাস্টারের (৩৭৭) থেকে ৭৪ ইনিংস কম নিলেন ভিকে (৩০৩)। ক্রমশ তাঁর ব্যাট হয়ে ওঠে সুনামির ঢেউ। ৪০ বলে পঞ্চাশ, আর সেঞ্চুরিতে পৌঁছান ৭৪ ডেলিভারি সামলে। ৮৮ বলে তাঁর অপরাজিত ১৩৯ রানের ইনিংসে ছিল ১০টি চার ও ৯টি ছক্কা। উল্লেখ্য, এটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বিরাটের ৮৬তম শতরান। এর মধ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে একদিনের ক্রিকেটে এসেছে ১০টি। আর রান তাড়ায় এটি তাঁর ৩০তম শতরান।
টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ওপেনিংয়েই ১৩৫ তুলে ফেলেছিল ক্যারিবিয়ানরা। সেই সময় দিশাহীন দেখাচ্ছিল ভারতকে। বুমরাহর অনুপস্থিতিতে ধরা পড়ছিল বোলিংয়ের অনভিজ্ঞতা। স্কোয়াডে থাকলেও খেলানো হয়নি মহম্মদ সিরাজকে। নতুন বলে প্রসিদ্ধ কৃষ্ণার সঙ্গী হন নীতীশ রেড্ডি। সেই পরীক্ষা কাজে আসেনি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুই ওপেনার জন ক্যাম্পবেল ও জাস্টিন গ্রিভস ঝড় তোলেন শুরুতে। ১০ ওভারে ওঠে ৮৫। বর্ষীয়ান স্পিনার রবীন্দ্র জাদেজাকে বাধ্য হয়ে পাওয়ার প্লে’র মধ্যে আক্রমণে আনেন গিল। কিন্তু তিনিও রানের গতি আটকাতে ব্যর্থ।
এই পরিস্থিতিতে ত্রাণকর্তা হয়ে ওঠেন কুলদীপ যাদব। শ্রীলঙ্কা সফরের হতাশা ঝেড়ে চায়নাম্যানকে দেখায় বিধ্বংসী মেজাজে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম পাঁচ উইকেটের মধ্যে চারটিই তাঁর। ক্যাম্পবেলকে ফিরিয়ে তিনিই প্রথম আঘাত হানেন। গ্রিভসও কুলদীপের শিকার। তবে তার আগে ৩২ বছর বয়সি ক্যারিবিয়ান ব্যাটার একদিনের আন্তর্জাতিকে তাঁর প্রথম সেঞ্চুরি করে ফেলেছিলেন। তাঁর ১০১ রানের ইনিংসে রয়েছে এক ডজন বাউন্ডারি।
৩১ থেকে ৩৬ ওভারের মধ্যে মাত্র ২২ রানে চার উইকেট হারায় ক্যারিবিয়ানরা। সেটাই হয়ে ওঠে টার্নিং পয়েন্ট। তবে ডেথ ওভারে আমির জানগোর হাফ-সেঞ্চুরির সুবাদে তিনশোর কাছাকাছি পৌঁছায় তারা। কুলদীপ ছাড়া ভারতীয় বোলারদের মধ্যে উইকেট পান প্রসিদ্ধ কৃষ্ণা ও নীতীশ। তবে কেউই সেভাবে প্রভাব ফেলেননি। অভিষেককারী নমন ধীর, গুরনুর ব্রারও বল হাতে দাগ কাটতে ব্যর্থ। ১-০ এগিয়ে থাকা ভারত বুধবার গুয়াহাটিতে নামবে সিরিজ জয়ের লক্ষ্যে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর: ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২৯৫-৭ (গ্রিভস ১০১, ক্যাম্পবেল ৬২, জানগো অপরাজিত ৫৮, কুলদীপ ৪-৪০, প্রসিদ্ধ ২-৬০)। ভারত ৪১.৪ ওভারে ৩০০-২ (কোহলি অপরাজিত ১৩৯, গিল ১১০, রোহিত ৩২)।
ভারত ৮ উইকেটে জয়ী ম্যাচের সেরা-কুলদীপ।