Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

বাজবলে বিপর্যস্ত টিম ইন্ডিয়া, পাঁচটি সেঞ্চুরির পরেও লজ্জার হারে রেকর্ড গিল বাহিনীর

এভাবেও হারা যায়! পাঁচ সেঞ্চুরির পরেও ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজের প্রথম টেস্ট হারল ভারত। ৩৭১ রানের জয়ের লক্ষ্য তাড়া ক঩রে পাঁচ উইকেটে জয়ী বেন স্টোকস বাহিনী।

বাজবলে বিপর্যস্ত টিম ইন্ডিয়া, পাঁচটি সেঞ্চুরির পরেও লজ্জার হারে রেকর্ড গিল বাহিনীর
  • ২৫ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

লিডস: এভাবেও হারা যায়!

Advertisement

পাঁচ সেঞ্চুরির পরেও ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজের প্রথম টেস্ট হারল ভারত। ৩৭১ রানের জয়ের লক্ষ্য তাড়া ক঩রে পাঁচ উইকেটে জয়ী বেন স্টোকস বাহিনী। বেন ডাকেটের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিই জয়ের ভিত গড়ে দেয় হোম টিমের। রেকর্ড ১৮৮ রানের ওপেনিং জুটির পর বাকি ছিল আনুষ্ঠানিকতা। দায়িত্ব নিয়ে যা পালন করলেন জো রুট ও জ্যামি স্মিথ। অন্যদিকে, মোক্ষম দিনে যশপ্রীত বুমরাহকে দেখাল নিষ্প্রভ। আর বাকি বোলাররা যথারীতি জঘন্য। চলল ক্যাচ মিসের ধারাবাহিকতাও। কপালও সঙ্গ দেয়নি। পরিণতি, বাজবলের দাপটে বিপর্যস্ত টিম ইন্ডিয়া। 
তিন বছর আগে এজবাস্টনে ভারতের বিরুদ্ধেই তিন উইকেটে ৩৭৮ তুলে জিতেছিল ইংল্যান্ড। এবারও পৌনে চারশো তাড়া করে জয় এল অনায়াসে। মঙ্গলবার সকালে পঞ্চম দিনের খেলা শুরুর সময় সমীকরণ ছিল সহজ। জেতার জন্য ভারতের চাই দশ উইকেট। ইংল্যান্ডের প্রয়োজন সাড়ে তিনশো রান। চায়ের বিরতির সময় ইংল্যান্ডের স্কোর ২৬৯-৪। হাতে ছয় উইকেট, ব্রিটিশদের চাই ১০২। ক্রিজে দুই অভিজ্ঞ ব্যাটার, জো রুট ও বেন স্টোকস। ‘বাজবল’ খেলতে থাকা ইংল্যান্ডের জয় কিছুক্ষণ আগেও দেখাচ্ছিল নিশ্চিত। কিন্তু ‘লর্ড’ শার্দূল ঠাকুরের পরপর দু’বলে বেন ডাকেট ও হ্যারি ব্রুককে ফেরানো কিছুটা বদলায় পরিস্থিতি। আর একটা উইকেট মানেই ইংল্যান্ড শিবিরের অবধারিত চাপে পড়া। কিন্তু তৃতীয় সেশনের মাঝপথে জাদেজার বলে স্টোকস আউট হলেও রুট অপ্রতিরোধ্যই থাকলেন। সঙ্গতে থাকলেন জ্যামি স্মিথ। 
ডাকেট অবশ্য যে দাপটের সঙ্গে শাসন করছিলেন ভারতীয় বোলারদের, তাতে এমন নাটকীয়তা জন্মানোর কথাই নয়। ১৭০ বলে তাঁর ১৪৯ রানের ইনিংস দেখাল ‘বাজবল’ পাল্টেছে দর্শন। সব বলেই মারতে যাওয়া নয়, বুদ্ধি করে আগ্রাসী হওয়াতেই রইল আস্থা। ২১ চার ও একটি ছক্কায় সাজানো ইনিংসে দাপট অবশ্য ক্লাব পর্যায়ে নামিয়ে আনলেন সফরকারী দলের বোলিংকে। ওপেনিং জুটিতে ইংল্যান্ড যখন দেড়শো তুলে ফেলল তখন ক্যাপ্টেন গিলকে অসহায় লাগছিল। মনে হচ্ছিল, ‘প্ল্যান বি’ বলে কিছু নেই। বুমরাহ শরণং গচ্ছামিই একমাত্র গেমপ্ল্যান। প্রসিদ্ধ কৃষ্ণা দু’উইকেট পেলেও প্রচুর রান দিলেন। শার্দূল, সিরাজ, জাদেজার অবস্থাও তথৈবচ। ‘বুমবুম’ আবার লাঞ্চের আগে নিজের বলেই জ্যাক ক্রলির ক্যাচ ফেলেন। 
ষষ্ঠ টেস্ট সেঞ্চুরির পথে ডাকেটও পান ভাগ্যের সহায়তা। ৯৭ রানে মহম্মদ সিরাজের বলে তাঁর ক্যাচ ডিপ ব্যাকওয়ার্ড স্কোয়ার লেগে ফেলেন যশস্বী। এমন ফিল্ডিংয়ের পরও অবশ্য তাঁকে সীমানার ধারে নাচতে দেখা গেল! সার্বিকভাবে ভারতীয় শিবিরের শরীরী ভাষাও যেন মিইয়ে পড়া দেখাল। বিরাট কোহলি ক্যাপ্টেন থাকলে যে আগ্রাসন দেখা যেত, তার ছিটেফোঁটাও গরহাজির। গিলরা বড্ড বেশি হেসেই গেলেন। কেন কে জানে! একসময় মনে হচ্ছিল ভারতের রক্ষাকর্তা হতে পারে একমাত্র প্রকৃতি। কিন্তু যে দল এত ক্যাচ ফেলে, ফিল্ডিংয়ে বল গলায়, সেই দলের বেঁচে যাওয়া কঠিন। আর বোলিংও তো শুধুই বুমরাহ নির্ভর!

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ