নয়াদিল্লি: একটা সময় ছিল, যখন সোবার্স, লয়েড, রিচার্ডস,অ্যামব্রোসদের ভয়ে কাঁপত প্রতিপক্ষ। লারার ডিফেন্স ভাঙতে কালঘাম ছুটত বিপক্ষ দলের বোলারদের। আজ সেই ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটই অস্তিত্ব সংকটে। কোনওক্রমে বেঁচে রয়েছে সোনালি অতীত আঁকড়ে। এখন ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেটার মানেই তো বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে ঘুরে টি-২০ লিগ খেলে অর্থ উপার্জন করা। আর তাতেই আগ্রহ কমেছে লাল বলের ক্রিকেটে। ধাক্কা খেয়েছে সাপ্লাই লাইন। টেস্টে তারা ক্রমশই প্রাসঙ্গিকতা হারাচ্ছে। ফিরোজ শাহ কোটলায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে সিরিজের দ্বিতীয় তথা অন্তিম টেস্ট খেলতে নামার আগে খুব বেশি উত্তেজিত মনে হল না টিম ইন্ডিয়ার ক্যাপ্টেন শুভমান গিলকে। হবেনই বা কী ভাবে! প্রথম টেস্টে জয় এসেছিল আড়াই দিনে। ক্যারিবিয়ান ব্যাটাররা কেউই হাফ-সেঞ্চুরির দেখা পাননি। মনে হচ্ছিল, তাঁরা প্র্যাকটিস ম্যাচ খেলতে নেমেছেন। বিপক্ষের এমন গাছাড়া মানসিকতা ভারতীয় দলের কাছেও খুবই বিরক্তিকর হয়ে উঠেছে। তাই সহজ জয়েও অতৃপ্তিতে ভোগাই স্বাভাবিক। বৃহস্পতিবার গিল জানিয়েছেন, ‘ওয়েস্ট ইন্ডিজের খেলা দেখে মনে হয়েছে, ওদের নজর স্রেফ সাদা বলের ক্রিকেটে। এটাই বড় ভুল। আমার মতে, লাল বলের ক্রিকেটে যদি শক্তিশালী হওয়া যায়, তাহলে অন্য ফরম্যাটেও সাফল্য আসবে সহজেই। আমরা সর্বদা এই ব্যাপারটা মাথায় রাখি। তাই টেস্ট ক্রিকেটকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিই।’
তবে পচা শামুকে পা কাটার অভিজ্ঞতা নতুন নয়। তাছাড়া বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের নতুন পর্বে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হোয়াইটওয়াশ করতে পারলে, সেটা পরের দিকে ভারতীয় দলকে বাড়তি সুবিধা দেবে। তাই উইনিং কম্বিনেশন নিয়েই মাঠে নামতে পারে ভারত। যশস্বীর সঙ্গে ওপেন করবেন লোকেশ রাহুল। গত ম্যাচে তিনি সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছিলেন। তিনে নামা সুদর্শন হতাশ করলেও টিম ম্যানেজমেন্ট তাঁর উপর ভরসা রাখতে চাইছে। চারে নামবেন গিল। অস্ট্রেলিয়া সফরের আগে মনোবল বাড়িয়ে নেওয়ার সুযোগ তিনি কোনওভাবেই হাতছাড়া করতে চাইবেন না। গত ম্যাচে ধ্রুব জুরেল ও রবীন্দ্র জাদেজার সেঞ্চুরি ক্যারিবিয়ান বোলারদের ঘুরে দাঁড়ানোর পথ বন্ধ করে দিয়েছিল। কোটলাতেও নজর থাকবে দুই ভারতীয় ব্যাটারের উপর।
ফিরোজ শাহ কোটলার পিচে স্পিনাররা সুবিধা পায়। তাই কুলদীপ যাদব, ওয়াশিংটন সুন্দরের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ হবে জাদেজার ভূমিকাও। ফর্মে আছেন যশপ্রীত বুমরাহ। তাঁর সঙ্গে দ্বিতীয় স্পেশালিস্ট পেসার হিসেবে খেলানো হবে সিরাজকে। একই সঙ্গে পেস অলরাউন্ডার হিসেবে নীতীশ রেড্ডির উপর ভরসা রাখছে টিম ম্যানেজমেন্ট। প্রথম টেস্টের ব্যর্থতা ভুলে ঘুরে দাঁড়াতে চাইছে ওয়েস্ট ইন্ডিজও। তবে তার জন্য বাড়তি দায়িত্ববোধ দেখাতে হবে সাই হোপ, ব্রেন্ডন কিং, রোস্টন চেজ, জন ক্যাম্পবেলের মতো ব্যাটারদের। পাশাপাশি বোলিংয়ের অনভিজ্ঞতা ঢাকাও ক্যারিবিয়ানদের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।
খেলা শুরু সকাল ৯-৩০ মিনিটে।
স্টার স্পোর্টসে সম্প্রচার।