নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: বীরভূম জেলায় স্কুলছুটের সংখ্যা নিম্নমুখী। তবে একেবারে শূন্য হয়নি। এখনও পড়ুয়াদের একটা অংশ স্কুলের গণ্ডি টপকানোর আগেই পড়াশোনা ছেড়ে দিচ্ছে বা দিতে বাধ্য হচ্ছে। বিশেষ সূত্রের দাবি, অর্থ উপার্জনের নেশায় কেউ কেউ ভিন রাজ্যে পাড়ি জমাচ্ছে। কেউ আবার বাল্য বয়সেই বিয়ে করে সংসারে জড়িয়ে পড়ছে। প্রশাসনিক কর্তারা অবশ্য এনিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছেন। তবে বীরভূম জেলা পরিষদের শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ মৌমিতা রায়চৌধুরী বিশ্বাস স্কুলছুট ইস্যুতে উদ্বিগ্ন। স্কুলছুট প্রত্যেক পড়ুয়াকে পুনরায় স্কুলমুখী করে তুলতে চিন্তাভাবনা শুরু করেছেন। জানা গিয়েছে, এবার স্কুলছুট পড়ুয়াদের পড়াশোনার জগতে ফিরিয়ে আনতে নয়া পন্থা অবলম্বন করা হচ্ছে। শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ বলেন, স্কুলছুট রুখতে জেলার প্রতিটি স্কুলকে সজাগ হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কোনও পড়ুয়া তিনদিনের বেশি অনুপস্থিত থাকলে স্কুলের তরফে তার বাড়ি গিয়ে খোঁজ নিতে হবে। কেন ওই পড়ুয়া স্কুলে যাচ্ছে না, তা জানার পাশাপাশি তাকে স্কুলমুখী করার উদ্যোগ নিতে হবে। এনিয়ে একাধিক বৈঠক হয়েছে। আগামীতে জেলার বিদ্যালয় পরিদর্শক, চেয়ারম্যান সহ অন্যান্যদের নিয়ে চূড়ান্ত বৈঠক হবে। প্রশাসনিক কর্তাদের কথায়, বর্তমান সময়ে জেলায় স্কুলছুট পড়ুয়া নেই বললেই চলে। যারা বিভিন্ন সময় স্কুলে আসা বন্ধ করে দিয়েছিল, তাদের ফের স্কুলমুখী করা হয়েছে। যদিও শিক্ষকমহলের একটা অংশের দাবি অবশ্য অন্যরকম। তাঁদের বক্তব্য, জেলার নানা স্কুলের পড়ুয়াদের একাংশ পড়াশোনা ছেড়ে নানা পেশায় জড়িয়ে পড়ছে। অল্প বয়সে টাকা উপার্জনের নেশা স্কুলের চৌহদ্দি থেকে তাদের সরিয়ে দিচ্ছে। সেইসঙ্গে বাল্যবিবাহও একটি কারণ। ঘটনায় শিক্ষমহলের একটা অংশ যথেষ্ট উদ্বিগ্ন। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, গ্রামীণ এলাকাগুলিতে স্কুলছুটের ঘটনা প্রায়শই নজরে আসে। সেসব এলাকার পড়ুয়াদের একাংশ ইটভাটা কিংবা খাদানে কাজ নিচ্ছে। অনেকে কাজের খোঁজে নি রাজ্যে পাড়ি জমাচ্ছে। এর নেপথ্যে আর্থিক অনটন অনেকাংশে দায়ী। সেইসঙ্গে শিক্ষকদের একাংশের উদাসীনতাকেও অনেকে দায়ী করছেন। তাঁদের কথায়, প্রত্যেক শিক্ষককেই আরও দায়িত্বশীল ও যত্নবান হতে হবে।



