Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পরকীয়ায় মজে চাকরিতে ইস্তফা, বেপাত্তা স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকা

পরকীয়ায় মজে চাকরিতে ইস্তফা, বেপাত্তা স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকা
  • ৫ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

কাজলকান্তি কর্মকার, ঘাটাল: সুপ্রিম কোর্টের রায়ে ২৬ হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকার চাকরি বাতিল নিয়ে রাজ্য এখন তোলপাড়। তারই মধ্যে পরকীয়ার মোহে শিক্ষকতার চাকরি ছেড়ে বেপাত্তা হয়ে গিয়েছেন এক শিক্ষক এবং এক শিক্ষিকা। দু’জনেই বিবাহিত। শিক্ষিকার ছেলে কলেজে পড়েন। শিক্ষকের এক কন্যা সন্তান রয়েছে। দু’জনের বয়সেরও বিস্তর ফারাক। শিক্ষিকার চেয়ে শিক্ষক অনেকটাই ছোট। কিন্তু,দু’জনের প্রেমের মাঝখানে ভরা সংসার, বয়স কোনওটাই বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি।  

Advertisement

দাসপুর-২ ব্লকের খানজাপুর গ্রামপঞ্চায়েত এলাকার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়। সেখানেই শিক্ষকতা করতেন দু’জনে। সেই সূত্রে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে যাওয়া। সেটা ক্রমেই গভীর থেকে গভীরতর হয়। স্থানীয় মানুষজন বিষয়টিকে ভালো চোখে দেখছিলেন না। বেশ কয়েকবার সতর্কও করে দেওয়া হয়। তার পরই আচমকা তাঁরা চাকরি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন। সেই মতো ইস্তফাও দিয়েও দেন। সোনাখালি চক্রের বিদ্যালয় পরিদর্শক সৈকত মণ্ডল শুক্রবার বলেন, ‘ওই শিক্ষক ও শিক্ষিকা ২৬ মার্চ আমার অফিসে এসে চাকরি থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। ইস্তফা গ্রহণের বিষয়টি পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদ দেখে। তাই তাঁদের পদত্যাগ পত্র সেখানে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।’ জানা গিয়েছে, শিক্ষিকার বাড়ি দাসপুরে। শিক্ষকের বাড়ি ঘাটালে। দু’জনের পরিবারের তরফে পৃথক দু’টি থানায় নিখোঁজের অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তবে, তাঁদের এখনও কোনও খোঁজ মেলেনি। দু’জনেরই মোবাইল বন্ধ।
পুলিস প্রাথমিকভাবে তদন্তে নেমে জানতে পারে, ওই শিক্ষক ও শিক্ষিকার মধ্যে বেশ কয়েক বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সেই ভালোবাসার টানেই তাঁরা একসঙ্গে নিরুদ্দেশ হয়েছেন। চল্লিশোর্ধ্ব ওই শিক্ষিকার বাড়ি স্কুলের গ্রামেই। ২০০৬ সালে তিনি চাকরি পান। স্বামী বর্তমানে চাষাবাদ করেন। অন্যদিকে, শিক্ষকের বাড়ি ঘাটাল শহরে। ২০১০ সালে চাকরি পান। ২০২২ সালে মিউচুয়াল টান্সফার নিয়ে ওই স্কুলে আসেন। অসুস্থতার কারণে তাঁর স্ত্রী মেদিনীপুর শহরে বাপের বাড়িতে থাকেন।
 স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে,স্কুলে আসার কিছু দিন পর থেকেই শিক্ষিকার সঙ্গে বিবাহ বহির্ভুত সম্পর্কে জড়িয়ে যান ওই শিক্ষক। স্কুলে পড়ুয়ার সংখ্যা ৬৮। দু’জনকে নিয়ে শিক্ষক-শিক্ষিকা চারজন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, টিআইসি কোনও কারণে স্কুলে অনুপস্থিত থাকলে তাঁরা ক্লাস নেওয়া বন্ধ করে অফিস রুমে দরজা লাগিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা গল্প করতেন। ভীষণ দৃষ্টিকটু লাগত। তাঁদের আচরণে অতিষ্ঠ হয়ে স্কুলের পক্ষ থেকে বেশ কয়েকবার সতর্কও করে দেওয়া হয় বলে জানান বিদ্যালয়ের টিআইসি।  
তিনি এদিন বলছিলেন ‘২৮ মার্চ থেকে ওই শিক্ষক-শিক্ষিকা স্কুলে আসছেন না। ছুটির জন্য আবেদনও করেননি। বিষয়টি এসআইকে জানিয়েছি। লোকমুখে আপনারাও যা শুনছেন,আমরাও তাই শুনছি।’ ওই গ্রাম থেকে নির্বাচিত অন্য এক গ্রামপঞ্চায়েত সদস্য বিশ্বজিৎ কর্মকারের কথায়, ‘ওই শিক্ষক-শিক্ষিকা দীর্ঘ দিন ধরে স্কুলে গরহাজির। লোকমুখে শুনেছি তাঁরা একসঙ্গে কোথাও গিয়েছেন।’ 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ