নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: সন্তানকে টিকা দেননি কেন শিক্ষক? প্রায় এক বছর ধরে এই প্রশ্নের উত্তর মিলছিল না। বুধবার সেই উত্তর জানতেই পাণ্ডুয়ায় ওই শিক্ষকের বাড়িতে গিয়েছিলেন বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার (হু) প্রতিনিধি ও প্রশাসনের কর্তারা। কিন্তু অনেক ডাকাডাকি করলেও ভিতর থেকে দরজা খোলেননি ওই শিক্ষক ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। শেষ পর্যন্ত পাণ্ডুয়ার তেতেরপাড় গ্রামের ওই বাড়িতে নোটিস ঝুলিয়েই ফিরতে হয়েছে তাঁদের। গোটা ঘটনায় বিস্মিত প্রশাসন। একজনের শিক্ষকের এই আচরণ নিয়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক প্রশাসনের এক কর্তা বলেন, প্রয়োজনে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। কিন্তু টিকাকরণ করাতেই হবে। রোগের সঙ্গে আপস নয়।
হু’য়ের কর্তারা এদিন কোনও মন্তব্য করেননি। পাণ্ডুয়ার বিডিও সেবন্তী বিশ্বাস বলেন, ওই ব্যক্তির বাড়িতে নোটিস দিয়ে আসা হয়েছে। দ্রুত দেখা করতে বলা হয়েছে। পরিস্থিতির দিকে আমরা নজর রাখছি। পাণ্ডুয়ার বিএমওএইচ ডাঃ মনজুর আলম বলেন, স্থাস্থ্যকর্মীরাই আমাদের রিপোর্ট দিয়েছিলেন, বেশ কিছু নবজাতক টিকা নেয়নি। এদিন সকলের বাড়িতেই যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু একটি বাড়িতে আমরা কাউকে পাইনি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তাদের জানানো হয়েছে। স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মী পার্বতী হালদার বলেন, ওই বাড়ির কর্তার নাম শিবায়ন মুর্মু। স্ত্রীর নাম ঈশিতা মুর্মু। আমরা অতীতে বারবার টিকা না নেওয়ার কারণ জানতে চাইলেও কোনও উত্তর পাইনি। ওই দম্পতির প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, পরিবারের লোকজন কারও সঙ্গে মেশেন না। এদিন তাঁরা বাড়িতে থাকলেও সাড়া দেননি।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, পাণ্ডুয়ায় জন্মের পর কোনও টিকা নেয়নি এমন সাতজন শিশুকে চিহ্নিত করা হয়েছিল। বুধবার সেইসব বাড়িতেই গিয়েছিলেন হু এবং প্রশাসনের প্রতিনিধিরা। ছ’টি পরিবার তাদের শিশুকে টিকা দেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। কেবল শিবায়ন মুর্মুর পরিবারই সাড়া দেয়নি।