নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: স্কুল শিক্ষকদের বুথ লেভেল অফিসার (বিএলও) হিসেবে নিয়োগের বিষয়টি ক্রমশ অন্য মাত্রা নিচ্ছে। কলকাতার বহু স্কুলেই ১০০ শতাংশ শিক্ষককে দেওয়া হয়েছে এই ডিউটি। বেশ কিছু নামী স্কুলও রয়েছে এই তালিকায়। সমস্ত শিক্ষক এই ডিউটিতে যোগ দিতে বাধ্য হলে স্কুলের পঠনপাঠন কীভাবে চলবে? এই প্রশ্নের উত্তর কিন্তু মিলছে না। এদিকে সমস্ত ক্লাসের দ্বিতীয় সামেটিভ মূল্যায়ন শুরু হয়েছে। সেপ্টেম্বরে রয়েছে উচ্চ মাধ্যমিকের ফার্স্ট সেমেস্টার। ফলে শিক্ষক এবং প্রধান শিক্ষকরা রীতিমতো দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। অচিরেই পঠনপাঠন শিকেয় উঠবে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা।
বউবাজারের মেট্রোপলিটন স্কুলে আছেন ১৪ শিক্ষক-শিক্ষিকা। তাঁদের সবাইকেই বিএলও ডিউটি দেওয়া হয়েছে। স্কুলের এক শিক্ষিকা বলেন, ‘আমি সিঙ্গল মাদার। অনেক দূরে থাকি। তাও কোনও ছাড় দেওয়া হয়নি। অন্তত আমার বাড়ির এলাকায় ডিউটি হলে সুবিধা হতো।’ এসব সমস্যার কথা অবশ্য কোনওভাবেই শোনা হয়নি বলে অভিযোগ। শুধু এই স্কুলই নয়, চৌরঙ্গি বিধানসভা এলাকার বহু স্কুলেই সমস্ত শিক্ষকের বিএলও ডিউটি করার নির্দেশ এসেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষকরা। ভবানীপুর গার্লস হাই স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা (টিআইসি) লিপিকা দাস বলেন, ‘আমি সহ মোট ১৫ শিক্ষিকা রয়েছেন। একজনের শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকায় তাঁকে রেহাই দেওয়া হয়েছে। আমি টিআইসি হওয়ার জন্য ছাড় পেয়েছি। এছাড়া ১৩ জনকেই ডিউটি দেওয়া হয়েছে। কয়েকজন কাজ শুরুও করে দিয়েছেন।’ যদিও এর পাশাপাশি জানা গিয়েছে, পুরুলিয়ার এক শিক্ষক ৮০ শতাংশ প্রতিবন্ধী হওয়া সত্ত্বেও ছাড় পাননি। ইআরওকে বিষয়টি জানানোর পর তিনি ডিউটি করারই নির্দেশ দিয়েছেন।
শিক্ষক সংগঠন এসটিইএ’র নেতা এবং শিক্ষক-শিক্ষাকর্মী বিএলও ডিউটি প্রতিরোধ মঞ্চের আহ্বায়ক অনিমেষ হালদার বলেন, ‘কোনওভাবেই ছাড় পাচ্ছেন না শিক্ষকরা। ইলেকশন কমিশনের শীর্ষ আধিকারিকরা অনেক ক্ষেত্রে নমনীয় হলেও নিচুতলার আধিকারিকদের থেকে কোনওরকম সহযোগিতা মিলছে না। শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীরা সরাসরি সরকারি কর্মচারী নন। তা সত্ত্বেও এবার তাঁদের যেভাবে বিএলও হিসেবে ঢালাও নিয়োগ করা হচ্ছে, সেটা আপত্তিজনক।’