Bartaman Logo
৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / চতুষ্পর্ণী

বাবা-মায়ের মতো শাসনের অধিকার শিক্ষকেরও আছে

পক্ষে অদৃতা সাহাশিক্ষকরা বাবা-মায়ের মতোই আমাদের স্নেহ করেন।...

বাবা-মায়ের মতো শাসনের অধিকার শিক্ষকেরও আছে
  • ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

পক্ষে

Advertisement

অদৃতা সাহা
শিক্ষকরা বাবা-মায়ের মতোই আমাদের স্নেহ করেন। তাঁরা চান আমরা যাতে ভালোমানুষ হই। তাই আমাদের দ্বারা কোনো ভুলভ্রান্তি হলে তাঁরা আমাদের সঠিক পথে চালনা করার জন্য শাসন করেন। যাতে ভবিষ্যতে আমরা সেই ভুলের আর পুনরাবৃত্তি না করি। তাই বাবা-মায়ের মতো শাসনের অধিকার শিক্ষকেরও আছে। শিক্ষকের শাসনকে ভুল বুঝে অভিমান করলে চলবে না।
কলেজ ছাত্রী 

দেবদত্তা রায়
জীবনের কিছু সম্পর্ক রক্তের নয়,তবুও তারা হৃদয়ের খুব কাছের হয়ে ওঠে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্কটাও ঠিক তেমনই। বাবা-মা যেমন সন্তানের ভুল শুধরে তাকে সঠিক পথে আনার চেষ্টা করেন, শিক্ষকও তেমনই শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ গড়ার কারিগর। তিনি কখনো শুধু আমাদের পড়ান না, আমাদের ভুল হলে বকেন, শাসন করেন আর নিঃশব্দে আমাদের ভালো ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেন। যে শাসনের পিছনে ভালোবাসা থাকে সেটিই একদিন আশীর্বাদস্বরূপ ফিরে আসে। শিক্ষকের শাসনের নেপথ্যেও মমতা থাকে।
স্কুল ছাত্রী

কোয়েল সরকার
আমরা প্রত্যেকে জীবনে চলার পথটাকে সহজ, সুন্দর করতে চাই। বাবা- মা যেমন আমাদের সেই পথের সব থেকে বিশ্বস্ত পথ প্রদর্শক, তেমনই একইভাবে শিক্ষাগুরু জীবনকে পরিপুষ্টতা দান করেন। জীবনের পুঁথিগত বিদ্যা ছাড়াও ঠিক ভুলের হিসাব, ন্যায় অন্যায়ের পার্থক্যের ধারাপাত শিখি তাদের হাত ধরেই। মা বাবা যেমন আমাদের শাসন করেন, একজন শিক্ষকও আমাদের শাসন করার অধিকারী। 
অঙ্কন শিক্ষিকা 

সুদীপা চৌধুরী
শিক্ষক শুধু পাঠ্যবই পড়ান না, একজন শিক্ষার্থীর চরিত্র ও ভবিষ্যৎ গড়তেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন। তাই ভুল করলে বাবা-মায়ের মতো শিক্ষকও শাসন করবেন—এটা শিক্ষকের অধিকার। তবে সেই শাসন কখনো অপমান, ভয় দেখানো বা শারীরিক শাস্তিতে পরিণত হওয়া উচিত নয়। সন্তানের ভালোর জন্য বাবা-মাও কঠোর হন, শিক্ষকের সেই অধিকার আছে। 

লেখিকা

বিপক্ষে

অভিষিক্তা পাল
বর্তমান সময়ে শিক্ষার অধিকার আইনে শিক্ষকের শারীরিক বা মানসিকভাবে শাসন পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বাবা-মায়ের মতো শাসন করতে হলে আগে তো শিক্ষককে ‘বাবা-মায়ের মতো’ হয়ে উঠতে হবে। এখন ক’জন শিক্ষকের সেই নিষ্ঠা আছে? আসলে শিক্ষক তো হবেন শিক্ষার্থীর ছায়ার মতন। সুবিধা-অসুবিধা, বিপদে-আপদে পথ দেখাবেন। আগে তো শিক্ষার্থী শিক্ষকের উপর বিশ্বাস রাখবে, তারপর তো তিনি শাসন করার অধিকার পাবেন। 
ছাত্রী

সুপ্রিয় হালদার
শিশুর জীবনের প্রথম ও প্রধান শিক্ষক হলেন তার বাবা-মা। শিক্ষকের পরামর্শ ও সহযোগিতা অবশ্যই প্রয়োজন, কিন্তু শিশুর সার্বিক দিকনির্দেশনার প্রধান দায়িত্ব বাবা-মায়েরই থাকা উচিত। তাই চলার পথে শিক্ষকের উপদেশ মাথায় করে নিলেও বাবা-মার কথা অনুযায়ী, তাকে চলতে হবে। বাবা মার বিকল্প কেউ হতে পারে না। 
সহকারী শিক্ষক

গৌতম মুখার্জ্জী
কয়েকদিন আগে একটি সংবাদ শিরোনাম ছিল, ‘ক্লাসে চিৎকার করায় বেধড়ক মারধর শিক্ষকের, জখম ছাত্র’। নবম শ্রেণির এক ছাত্র চিৎকার করছিল বলে রাগের বশে লাঠি দিয়ে এক শিক্ষক তাকে যেভাবে মেরে মেরে হিপ জয়েন্টে ‘ক্র্যাক’ করেছিলেন তা কি সমীচীন? শাসনের নামে কদর্য আচরণ শোভনীয় নয়। ছাত্র-শিক্ষকের মেলবন্ধন আজ কোন গহ্বরে যাচ্ছে জানি না। 
সেবায়েত 

দেবলীনা সোম
আগে যৌথ পরিবারে একটি শিশু মা, বাবা ছাড়াও অন্যদের বকুনি খেয়েই বড়ো হত। তার মধ্যে বাইরে থেকে থাকতেন শিক্ষকও। এখনকার দিনের বাচ্চাদের বড়ো হওয়ার পরিবেশ একেবারে আলাদা। সহজেই তারা অপমানিত বোধ করে। শাসন অনেক সময় অন্যায় কাজ করার জেদ আরও বাড়িয়ে দেয়। তাই শাসন করার চেয়ে বুঝিয়ে বলাই ভালো।
স্পেশাল এডুকেটর

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ