নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: পারিবারিক অশান্তির জেরে মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন স্কুল শিক্ষিকা। কয়েক মাস আগে তিনি বাড়ির কার্নিশে উঠে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। সেবার অবশ্য দমকল ও পুলিশ এসে তাঁকে রক্ষা করতে পেরেছিল। এবার আর শেষ রক্ষা হয়নি। বুধবার ঘরের দরজা ভেঙে পুলিশ ওই শিক্ষিকার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতার নাম বহ্নিশিখা ব্রহ্মচারী (৪৯)। তিনি দক্ষিণেশ্বর শ্রী শ্রী সারদাদেবী বালিকা বিদ্যামন্দিরের এডুকেশন বিভাগের শিক্ষিকা ছিলেন। দক্ষিণেশ্বর থানার পুলিশ জানিয়েছে, সমস্ত দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বহ্নিশিখাদেবীর স্বামীর নাম রত্নেশ্বর ব্রহ্মচারী। রত্নেশ্বরবাবু বনগাঁ রামকৃষ্ণ মিশন স্কুলের শিক্ষক। তাঁদের দুই ছেলে রয়েছে। বরানগর পুরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ১/৩ ফকির ঘোষ লেনে তাঁদের বাড়ি। বুধবার দুপুরে দোতলার ঘর থেকে বহ্নিশিখাদেবীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। পুলিশ দরজা ভেঙে তাঁর দেহ উদ্ধার করেন। প্রাথমিক তদন্তে পুলিস জেনেছে, এই শিক্ষক দম্পতির মধ্যে প্রায়ই অশান্তি হতো। আগেও একাধিকবার বহ্নিশিখাদেবী আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। মাস চারেক আগে দোতলার কার্নিশে উঠে ঝাঁপ দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। প্রতিবেশীরা তা দেখে সঙ্গে সঙ্গে দক্ষিণেশ্বর থানা ও দমকলে খবর দেন। দ্রুত পুলিশ ও দমকল কর্মীরা এসে তাঁকে কার্নিশ থেকে কোনওমতে নামিয়ে আনেন। সেবার পুলিশ ও আত্মীয়রা দম্পতিকে বুঝিয়ে গিয়েছিলেন। তাতেও লাভ হয়নি। বুধবার সকালে ঘুম থেকে ওঠেন বহ্নিশিখাদেবী। বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ তিনি ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেন। দীর্ঘক্ষণ সাড়া না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা থানায় জানান। পরে পুলিশ এসে দরজা ভেঙে মৃতদেহ উদ্ধার করে। মৃত শিক্ষিকার সহকর্মীদের দাবি, তিনি পারিবারিক অশান্তির জন্য মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। শিক্ষিকা হিসেবে খুবই দায়িত্ববান ও যত্নশীল ছিলেন। তাঁরা সকলেই চাইছেন মৃত্যু রহস্যের কিনারা হোক। শিক্ষিকার পিসতুতো ভাশুর শ্যামা চট্টরাজ বলেন, ‘আমাদের বাড়ি একই পাড়ায়। ভাইয়ের স্ত্রী এর আগেও বিষ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। মাঝে একবার কার্নিশে উঠে লাফ দেওয়ারও চেষ্টা করেছিলেন। সেবার পুলিশ ও দমকলকে ডেকে আমরা ওনাকে রক্ষা করেছিলাম। এবার তো দরজা বন্ধ করে আত্মহত্যা করলেন। আগে পরিবারের অনেকেই তাঁদের বোঝানোর চেষ্টা করেছে। টুকটাক ঝামেলা তো সব সংসারেই হয়। আত্মহত্যা কখনই সমস্যার সমাধান হতে পারে না। শিক্ষকদের আমরা আর কি বোঝাতে পারি বলুন। এই ঘটনায় আমরাও মর্মাহত।’ বরানগর পুরসভার সিআইসি (স্বাস্থ্য) রামকৃষ্ণ পাল বলেন, আমরাও চাই পুলিশ নিরপেক্ষ তদন্ত করে মৃত্যুর কারণ খুঁজে বের করুক।