নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিসটিক্যাল ইনস্টিটিউট (আইএসআই) সোসাইটি ভেঙে দিয়ে সংশোধনী বিলের বিরোধিতায় সোচ্চার হলেন শিক্ষক, প্রাক্তনী এবং প্রাক্তন অধিকর্তারা। শনিবার কলকাতা প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক বৈঠক ডাকেন তাঁরা। সেখানে তাঁরা দাবি করেন, প্রফেসর রঘুনাথ অনন্ত মাসেলকরের রিপোর্ট থেকেও বিচ্যুত হয়ে আইএসআই কমিটি ভেঙে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে সংশোধনী বিলে। অধ্যাপক মাসেলকরের রিপোর্টে সামান্য কিছু সংশোধনীর কথা বলা হয়েছিল। অথচ, মূল বিলে বহু যোজন এগিয়ে পুরো খোলনলচে পালটানোর কথা বলা হয়েছে। তা আলোচনা করা হয়নি আইএসআই সোসাইটির সঙ্গে। আর সেই বিলই সংসদের বাদল অধিবেশনে ওঠার কথা। এটা হলে আইএসআইয়ের উৎকর্ষ, পঠনপাঠন ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং বিনামূল্যে শিক্ষাদানের যে মূলনীতি, তা থেকে ভ্রষ্ট হবে। অধ্যাপক অরিজিৎ বিষ্ণু এবং অন্যান্য শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী, প্রাক্তন অধিকর্তারা আশঙ্কা করেন, আগামীদিনে আইএসআই সদরদপ্তর কলকাতার বরানগর থেকে সরিয়ে ফেলা হতে পারে। আদ্যন্ত কর্পোরেট ধাঁচে পাল্টে ফেলা হবে আইএসআই। সবচেয়ে বড় কথা, বিভিন্ন ডেটা, রিপোর্ট প্রভৃতি কেন্দ্রীয় সরকার নিজেদের মর্জিমাফিক পালটে ফেলতে পারে বলেও তাঁদের আশঙ্কা। ফলে বেকারত্ব বা দারিদ্র্যের হার সরকারের অনুকূলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হতে পারে। এর প্রতিবাদে রাজ্যের বিজেপি সাংসদদের, এমনকি আইএসআইয়ের প্রাক্তনী তথা নীতি আয়োগের ভাইস চেয়ারম্যান অশোক লাহিড়িকেও সোচ্চার হওয়ার জন্য আবেদন জানানো হয়েছে। নাহলে ভবিষ্যতে পথে নেমে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা। প্রসঙ্গত, গত দু’দশকে প্রতিষ্ঠানে চারগুণ পড়ুয়া বেড়েছে। এখান থেকে পড়াশোনা করেই একমাত্র ভারতীয় বংশোদ্ভূত হিসেবে এস আর এস বর্ধন নোবেল প্রাইজ পান। অধ্যাপক সি আর রাও একমাত্র ভারতীয় হিসেবে ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাটিসটিক্যাল প্রাইজ পেয়েছেন এখানে পড়াশোনা করেই। তাই বর্তমান ব্যবস্থার মান নিয়ে যে প্রশ্ন তোলার অবকাশ নেই, তা মনে করিয়ে দিচ্ছেন শিক্ষকরা।



