অহনা, সুপ্রিয়া, আকাশ, দেবব্রত, উচ্চমাধ্যমিকের সার্টিফিকেট হাতে নিয়ে স্কুলের বাইরে এসে একবার ঘুরে স্কুলবাড়িটার দিকে তাকাল। স্কুলের সামনে দাঁড়িয়ে একসঙ্গে সেলফি নিয়ে অহনাই প্রথম মনখারাপ করে বলল, ‘মিস করব স্কুলটাকে।’ হঠাৎ মাথায় একটা হাত। ঘুরে তাকিয়ে দেখে, কখন পিছনে এসে কণিকা ম্যাডাম দাঁড়িয়েছেন খেয়ালই করেনি ওরা। অহনা, সুপ্রিয়া জড়িয়ে ধরল ম্যাডামকে। কতই না বকা খেয়েছে অঙ্কের ছোটো ছোটো ভুলের জন্য এই টিচারের থেকে, তখন মনে হতো স্কুল শেষ হলেই এই বকুনির হাত থেকে নিস্তার! আর আজ কী অদ্ভুতভাবে মনখারাপের অঙ্ক মিলিয়ে দিলেন ম্যাডাম! এর থেকে বেশি শান্তি আর কোথায়? হাত বাড়িয়ে দূরে থাকা দেবব্রত ও আকাশকেও ডেকে নিল ওরা। স্বভাবে ও শাসনে কঠিন তবে মায়ের মতো এই কণিকা ম্যাডাম। আমাদের সবার জীবনে স্কুল, কলেজ কিংবা প্রাইভেট টিউশনে এরকম অনেক জীবন গড়ার স্যার ও ম্যাডামদের দেখা পাই আমরা। যাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা সারাজীবন থাকলেও, কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দিন হয়তো ৫ সেপ্টেম্বর, শিক্ষক দিবস। এই বিশেষ দিনটিকে আরও বিশেষ করে তোলার জন্য, রইল কিছু উপহারের হদিশ।
নার্সারি থেকে প্রথম শ্রেণি পর্যন্ত: আপনার শিশুর হাতে রং মাখিয়ে গ্রিটিংস কার্ড বা ক্যানভাসে ছাপ দিতে বলুন এবং এর সঙ্গে ‘আপনাকে ধন্যবাদ’-এর মতো কোনো সুন্দর বার্তা লিখতেও বলতে পারেন। ওর হাতে আঁকা কোনো ছবিও সুন্দর উপহার হতে পারে।
দ্বিতীয়-পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত: একটি ছোটো পোড়ামাটির টব রং করে এর ভিতরে একটি ছোটো ফুল বা ভেষজ গাছ বসিয়ে উপহার দিতে পারে।
ষষ্ঠ-দশম শ্রেণি পর্যন্ত: শিক্ষক-শিক্ষিকারা বই পড়তে ভালোবাসেন। তাই তাঁদের পছন্দের কোনো বই উপহার দেওয়া যেতে পারে। বইয়ের ভিতরের পাতায় নিজের হাতে একটি সুন্দর বার্তাও লিখে দেওয়া যেতে পারে।
একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা: শিক্ষকের নাম খোদাই করা একটি কাঠের পেন হোল্ডার বা কলমের কম্বো সেট দেওয়া যেতে পারে। এক্ষেত্রেও বই উপহার দেওয়া যেতে পারে। হাতে লেখা কোনো চিঠি বা এমন কোনো ছোটো উপহারও হতে পারে, যা তাঁরা সত্যিই ব্যবহার করবেন।
কলেজ পড়ুয়া বা চাকরিরতা: উপহারস্বরূপ কাস্টোমাইজড ঘড়ি দিতে পারেন। প্রিয় শিক্ষক বা শিক্ষিকাকে পাঞ্জাবি বা শাড়ি উপহারও দেওয়া যেতে পারে। এমন কোনো উপহার দিন, যার মধ্যে নিজের হাতে করা কোনো ডিজাইনও থাকতে পারে।
শুধু উপহার নয়, বরং সময় করে একটু দেখা করে আসা, টুকটাক খোঁজখবর নিলেই শিক্ষকরা খুব খুশি হন। আমাদের জীবনে তাঁদের ভূমিকা অপরিসীম। আজীবন শিক্ষাগুরুকে সম্মান করে চলাই উচিত। শিক্ষকদের হঠাৎ প্রয়োজনে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন। শিক্ষকদের সম্মান করা মূল্যবোধ ও রুচির পরিচায়ক। তাই আজীবন সেটা মননে ধারণ করা জরুরি। তাই ক্যালেন্ডারের নির্দিষ্ট একটি দিন নয়, প্রতিদিনই শিক্ষকদের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় থাকুক।
আরাত্রিকা চক্রবর্তী