Bartaman Logo
১১ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সাত বছরের শিশুর মানবিক মুখে মুগ্ধ শিক্ষক-শিক্ষিকারা

আজকের দিনে ছোট থেকেই শিশুদের এক অদ্ভুত ইঁদুর দৌড়ে নামিয়ে দেওয়া একটা রেওয়াজ হয়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে সন্তানকে ভাল মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা একটা চ্যালেঞ্জ বাবা-মায়েদের কাছে।

সাত বছরের শিশুর মানবিক মুখে মুগ্ধ শিক্ষক-শিক্ষিকারা
  • ১১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:১০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: আজকের দিনে ছোট থেকেই শিশুদের এক অদ্ভুত ইঁদুর দৌড়ে নামিয়ে দেওয়া একটা রেওয়াজ হয়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে সন্তানকে ভাল মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা একটা চ্যালেঞ্জ বাবা-মায়েদের কাছে। তবে এই চ্যালেঞ্জ ভালভাবেইে সামলে নিয়েছেন জলপাইগুড়ির এক কলমিস্ত্রী আজিজ মহম্মদ। আজিজের দুই সন্তান। বড় মেয়ে আজমীরা এবং ছোট ছেলে নাসির। আজমীরা জলপাইগুড়ি সদর বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের  ক্লাস ওয়ানের ছাত্রী। 

Advertisement

অন্যান্য দিনের মত আজ, মঙ্গলবারও সে স্কুলে গিয়েছিল। কিন্তু আজ ছোট্ট আজমীরার একটি সাধারণ কাজ শিক্ষক-শিক্ষিকা থেকে অভিভাবক সকলকেই উপলব্ধি করায় তাদের দেওয়া শিক্ষা এই ছোট্ট মেয়েটাকে কতটা পরিণত করেছে। আর পাঁচদিনেরে মত আজও স্কুলে বন্ধুদের সঙ্গে  মিড ডে মিল খেতে বসেছিল সে। আজ খাবারের তালিকায় ছিল সেদ্ধ ডিম। বন্ধুরা সবাই যখন সেই ডিম খাচ্ছে, আজমীরা তখন স্কুলব্যাগ থেকে একটা খালি টিফিন বক্স বের করে তাতে চটপট ঢুকিয়ে ফেলে তার ভাগে পাওয়া ডিম। বিষয়টি নজর এড়ায়নি কয়েকজন শিক্ষিকার। তাঁরা ওই ছাত্রীকে জিজ্ঞাসা করেন, ডিম না খেয়ে কেন সে টিফিন বক্সে ঢোকাল? এর পর সাত বছরের আজমীরা যে উত্তর দেয়, তা শুনে শিক্ষিকারা অবাক। জলপাইগুড়ির কাঁদোবাড়ির বাসিন্দা কলমিস্ত্রীর মেয়ে আজমীরা বলে, অন্য দিন তো আমি ডিম খাই। আজ ভাই নাসিরের জন্য নিয়ে যাচ্ছি। ও ডিম খেতে ভালোবাসে। রোজ তো আমাদের বাড়িতে ডিম রান্না হয় না। ছাত্রীর এই উপলব্ধিতে খুশি প্রধান শিক্ষক অরূপ দে। তিনি বলেন, আমরা ছাত্রীদের শেখাই শেয়ারিং ইজ কেয়ারিং। সেটা ক্লাস ওয়ানের ছাত্রী যে আজ বাস্তবে করে দেখাল, এটা আমাদের খুবই ভালো লাগছে। 

আজমীরার বাবা আজিজ মহম্মদ বলেন, আমি কলমিস্ত্রী। কোনোদিন কাজ হয়। কোনোদিন হয় না। তার উপর আমি নিউরো রোগী। ওষুধের খরচ আছে। বাড়িতে যে সবদিন ডিম রান্না হয়, এমনটা নয়। আমার মেয়ে ওর ভাইকে খুবই ভালোবাসে। ভাইকে না দিয়ে আজমীরা কিছু খায় না। তাই হয়তো এদিন স্কুলে মিড ডে মিলে নিজের ভাগে পাওয়া ডিম ভাইয়ের জন্য টিফিন কৌটো করে নিয়ে এসেছে। ঘটনাটি শুনে অনেকেরই চোখে জল। তাঁরা বলছেন, মিড ডে মিলে ডিম যে কতটা জরুরি, আজ তা ফের প্রমাণ করল জলপাইগুড়ির খুদে পড়ুয়া আজমীরা। আর এর সঙ্গেই সে প্রমাণ করল সঠিক শিক্ষা একটা শিশু মনে কিভাবে প্রভাব ফেলে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ