Bartaman Logo
১৪ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জনগণনা সহ একাধিক সরকারি কাজের দায়িত্ব শিক্ষকদের উপর, লাটে পড়াশোনা

ভোটের ডিউটি থেকে শুরু করে বছরভর নানা সরকারি কাজের জেরে কার্যত লাটে উঠেছে জেলার স্কুলগুলির পঠনপাঠন

জনগণনা সহ একাধিক সরকারি কাজের দায়িত্ব শিক্ষকদের উপর, লাটে পড়াশোনা
  • ১৪ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: ভোটের ডিউটি থেকে শুরু করে বছরভর নানা সরকারি কাজের জেরে কার্যত লাটে উঠেছে জেলার স্কুলগুলির পঠনপাঠন। বিশেষ করে যে সমস্ত স্কুলে মাত্র এক বা দুজন শিক্ষক রয়েছেন, সেগুলির অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। এই প্রবল চাপের মাঝেই এবার জনগণনার কাজে যুক্ত শিক্ষকদের জন্য সরকারিভাবে ‘অন ডিউটি’ ছুটি মঞ্জুরির দাবি তুলল অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসঙ্ঘ। সম্প্রতি এই মর্মে জেলাশাসক এবং জেলা স্কুল পরিদর্শকের (প্রাথমিক) কাছে একটি লিখিত স্মারকলিপি জমা দিয়েছে শিক্ষক সংগঠনটি।

Advertisement

শিক্ষক মহলের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, ক্লাসরুমে পড়ানোর চেয়ে এখন অন্যান্য প্রশাসনিক কাজেই বেশি ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে মাস্টারমশাইদের। এসআইআর অর্থাৎ ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন থেকে শুরু করে নির্বাচনের ডিউটি তো আছেই, এবার এবং জনগণনার মতো গুরুদায়িত্ব চাপানো হচ্ছে শিক্ষকদের কাঁধেই। জেলার এমন বহু স্কুল রয়েছে, যেখানে শিক্ষকের সংখ্যা সাকুল্যে এক বা দুই। দিনের পর দিন ওই শিক্ষকদের যদি এসব সরকারি কাজের ট্রেনিং এবং তথ্য সংগ্রহের ডিউটিতে দৌড়াতে হয়, তবে স্কুলের পঠনপাঠন শিকেয় উঠবে। ক্লাসরুম ফাঁকা পড়ে থাকছে, যার জেরে চরম ক্ষতির মুখে পড়ছে পড়ুয়ারা। এর ওপর নতুন করে দোসর হয়েছে জনগণনার সময় শিক্ষকদের উপস্থিতি সংক্রান্ত প্রশাসনিক জটিলতা। আরএসএস-এর শিক্ষক সংগঠনটির বক্তব্য, দেশের নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে জনগণনা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ। ইতিমধ্যেই বহু শিক্ষক-শিক্ষিকাকে এই কাজের গৃহতালিকাকরণ, তথ্য সংগ্রহ, যাচাই এবং প্রশিক্ষণের জন্য নিয়োগ করা হয়েছে। কিন্তু কাজ চলাকালীন স্কুলে অনুপস্থিত থাকার কারণে প্রশাসন যদি তাঁদের আনুষ্ঠানিকভাবে ‘অন ডিউটি’ হিসেবে গণ্য না করে, তবে শিক্ষকদের অকারণে ছুটি ও বেতন কাটা যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। জাতীয় স্বার্থে কাজ করতে গিয়ে উলটে প্রশাসনিক জটিলতার মুখে পড়তে নারাজ শিক্ষকরা।
এই জোড়া দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে শিক্ষকদের যে নাভিশ্বাস উঠছে, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন সংগঠনের নেতারা। অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসঙ্ঘের জেলা সভাপতি বামাচরণ রায় বলেন, ‘একজন শিক্ষক বা শিক্ষিকার পক্ষে একদিন দু’টি কাজ করা মুশকিল। এতে কেবল শিক্ষকদের শারীরিক ও মানসিক চাপ সৃষ্টি হচ্ছে তাই নয়, দু’টি কাজই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, কাজ করার ক্ষেত্রে মনসংযোগে বিঘ্নিত হতে পারে।’ অবিলম্বে শিক্ষকদের জন্য এই সুনির্দিষ্ট নির্দেশিকা জারির পাশাপাশি পঠনপাঠনের পরিবেশ স্বাভাবিক রাখার দাবি জানিয়েছে ওয়াকিবহাল মহল। এ নিয়ে প্রশাসনের এক কর্তা বলেন, এ ব্যাপারে উপরমহল থেকে এখনও কোনো নির্দেশিকা আসেনি। তাই এখনই কিছু বলা সম্ভব না।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ