Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

চাকরি ফেরত না পেলে, সুপ্রিম কোর্টে স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন করবেন শিক্ষিকা

চাকরি ফেরত না পেলে, সুপ্রিম কোর্টে স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন করবেন শিক্ষিকা
  • ৭ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

অভিষেক পাল, বহরমপুর: তাঁর দাবি, তিনি যোগ্য। দুর্নীতির পাকচক্র তাঁকে স্পর্শ করেনি। ছেলেবেলা থেকেই স্বপ্ন দেখতেন শিক্ষিকা হয়ে মানুষ তৈরির কারিগর হবেন। দস্তুরমতো রাতদিন পড়াশোনা করে চাকরিটা পেয়েছিলেন শাকিলা পারভিন। কিন্তু, সুপ্রিম কোর্টের রায়ে চাকরিটা রাতারাতি চলে যাবে, তা ঘুণাক্ষরেও ভাবতে পারেননি। শাকিলার লালিত সফল স্বপ্ন মুহূর্তেই ভেঙে চুরমার। সামাজিক সম্মান নষ্ট। তার উপর সংসার প্রায় অচল। এতগুলি আঘাত থেকে মুক্তি পেতে শাকিলা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সপরিবারে স্বেচ্ছামৃত্যুর। আবেদন করবেন সেই সুপ্রিম কোর্টেই। চাকরিহারা শিক্ষিকার এমন মন্তব্যে আলোড়ন পড়ে গিয়েছে। তাঁর সিদ্ধান্তের শরিক হতে চাইছেন চাকরিহারা অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকারাও। 

Advertisement

জিয়াগঞ্জ রামদাস হাউলিয়া গার্লস হাইস্কুলের শিক্ষিকা শাকিলা। শনিবার বিকেলে বহরমপুরের শ্রীগুরু পাঠশালায় জেলার চাকরিহারা  শিক্ষক ও শিক্ষিকারা একসঙ্গে বসে বৈঠক করেন। আগামী পরিকল্পনা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়। অনেকেই আইনি পথে লড়াই করার জন্য প্রস্তুত বলে জানান। সবারই সাফ কথা, ‘আমরা যোগ্য প্রার্থী হিসেবেই চাকরি পেয়েছি। যেনতেন প্রকারে সেই চাকরি আমাদের ফিরিয়ে দাও।’ বৈঠক থেকে বেরিয়ে শাকিলা পারভিন বলেন, ‘আমাদের চাকরিটা শুধু আর্থিক ব্যাপার নয়। এটা আমাদের আইডেন্টিটি। আমাদের সামাজিক সম্মান। জীবন-জীবিকা সবটাই শিক্ষকতা করে চলছে। অতঃপর, আমাদের হক চাকরি যেভাবেই হোক ফিরিয়ে দিতে হবে। না হলে সুপ্রিম কোর্টে যাব। সেখানে পরিবার নিয়ে স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন করব। আদালত যদি চাকরি কেড়ে নিয়ে নেওয়ার রায় দিতে পারে, তাহলে আমাদের স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন নিয়েও রায় দিতে হবে।’ 
মুর্শিদাবাদ জেলায় শিক্ষক-শিক্ষিকা ও অশিক্ষক কর্মী মিলিয়ে প্রায় চার হাজার জনের চাকরি বাতিল হয়েছে।  তাঁদের মধ্যে যোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকারা  অধিকার মঞ্চ গড়ে আগে থেকেই আন্দোলন করছেন। সুপ্রিম কোর্টে চূড়ান্ত রায়ের পর নতুন করে আন্দোলনে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে সংগঠনটি। জানা গিয়েছে, এদিন সেই প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনায় বসেছিলেন শাকিলারা। সংগঠনের নেতৃত্বরা জানিয়েছেন, জেলায় প্রায় ১ হাজার ৭০০ যোগ্য শিক্ষকের চাকরি বাতিল হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ঠিক হয়েছে, হকের চাকরি ফেরত পেতে শেষ মুহূর্ত অবধি আইনি লড়াই তাঁরা চালিয়ে যাবেন। কিন্তু দেশের সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের পর সেই রায় নিয়ে রিভিউ পিটিশন করে কতটা জয় আসবে, তা নিয়েও অনেকে আবার সংশয়েও রয়েছেন। চাকরি হারিয়ে অনেকের মনোবল তলানিতেও ঠেকেছে। ফলে, সবদিক ভাবনাচিন্তা করে রিভিউ পিটশনের পথে এগোবে যোগ্য শিক্ষক শিক্ষিকা অধিকার মঞ্চ। সেক্ষেত্রে শাকিলার মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। 
অন্যদিকে, মুর্শিদাবাদের দুই দম্পতি চাকরি হারিয়ে দিশেহারা। আদালতের রায়ে বলি হয়েছেন নওদা ব্লকের অন্নদাময়ী বিদ্যা নিকেতনের শিক্ষিকা সুইটি পারভিন এবং তাঁর স্বামী। সুইটির স্বামী জিতপুর হাইস্কুলের শিক্ষক ছিলেন, চাকরি খুইয়েছেন বেলডাঙা-২ ব্লকের দাদপুর হাইস্কুলের শিক্ষিকা বিষ্ণুপ্রিয়া দত্ত এবং তাঁর স্বামী। বিষ্ণুপ্রিয়া দেবীর স্বামী নবপল্লি বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন। বর্তমানে ওই দম্পতি বহরমপুরেই থাকেন। ২০১৬ সালের এসএসসির পুরো প্যানেল বাতিলের তালিকায় বলি হয়েছেন সকলেই। তাঁরা সকলেই বলছেন, ‘যোগ্য হয়েও এভাবে চাকরি চলে যাবে, সেটা ভাবিনি। এ ভাবে আদালতের রায়ে চাকরি চলে যাওয়া সামাজিক সম্মানহানি। তাছাড়া এখন সংসার চালাব কী করে ভেবে পাচ্ছি না?’ 
সুইটি, বিষ্ণুপ্রিয়ারা ভেঙে পড়লেও শাকিলাদের মতো অনেকেই চোয়াল শক্ত করে আইনি লড়াইয়ের শেষ দেখতে চাইছেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ