Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শিক্ষকের সঙ্কটে বহু স্কুলে উঠে গেল সেকশন, সমস্যায় পড়ুয়ারা

শিক্ষকের সঙ্কটে বহু স্কুলে উঠে গেল সেকশন, সমস্যায় পড়ুয়ারা
  • ১৬ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, ডোমকল: পঞ্চম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত কমবেশি সব স্কুলেই প্রতিটি শ্রেণির জন্য রয়েছে আলাদা আলাদা সেকশন। পড়ুয়াদের মূল্যায়ন ও সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে কখনও তিনটি কখনও বা চারটি সেকশনে ভাগ করে স্কুলগুলির আলাদা আলাদা শ্রেণিকক্ষে চলত পাঠদান। গত কয়েক বছরে একাধিক স্কুলে খানিকটা শিক্ষক সঙ্কট দেখা গেলেও অন্তত এই সেকশন ভিত্তিক পড়াশোনায় তেমন সমস্যা দেখা যায়নি। কিন্তু সম্প্রতি দেশের সুপ্রিম রায়ে প্রায় প্রতিটি স্কুল থেকে একঝাঁক করে শিক্ষক-শিক্ষিকার চাকরি বাতিল হওয়ায় পুরনো পদ্ধতিতে পঠনপাঠন চালিয়ে যাওয়া নিয়ে দেখা দিচ্ছে অনিশ্চয়তা। এমনকী কিছু কিছু স্কুলে ইতিমধ্যেই বাধ্য হয়ে আলাদা আলাদা সেকশনের বদলে একটি শ্রেণিকক্ষেই পড়ুয়াদের পঠনপাঠন করাতে বাধ্য হচ্ছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। আলাদা আলাদা শ্রেণিকক্ষের বদলে বড় হলঘরেই ক্লাস করছে পড়ুয়ারা। এই ছবি ডোমকল মহকুমার একাধিক স্কুলের। মহকুমার বেশিরভাগ স্কুলেই সবে মাত্র শেষ হয়েছে পঞ্চম থেকে দশম শ্রেণির পার্বিক পরীক্ষা। তবে এখনও কয়েকটি স্কুলে পরীক্ষা চলছে। মূলত, শিক্ষকদের চাকরি বাতিলের রায় দেওয়ার সময় থেকেই বেশিরভাগ স্কুলে পার্বিক পরীক্ষা চলছিল। তাই নিয়মিত পঠনপাঠনের চাপ কম ছিল। তখন তেমন সমস্যায় না পড়লেও পরীক্ষা শেষে স্কুলের রুটিনমাফিক লেখাপড়া চালিয়ে যেতে গিয়ে সমস্যায় পড়েছে স্কুলগুলি। সাগরপাড়ার সীতানগর উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ুয়ার সংখ্যা প্রায় ১৭০০। একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি বাদ দিয়ে স্কুলে ইউনিটের সংখ্যা ২০টি। আগে প্রতিটি ইউনিটের ক্লাস আলাদা কক্ষেই হতো। ক্লাস নিতেন ১৮ জন শিক্ষক। কিন্তু বর্তমানে স্কুলের ৬ জন শিক্ষক চাকরি হারিয়েছেন। ফলে শিক্ষকের সংখ্যা কমে ১২ হলেও পড়ুয়ার সংখ্যা কমেনি। দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় প্রতি সেকশনেই  পড়ুয়ার সংখ্যা প্রায় ৫০ জন। চারটি সেকশন মিলিয়ে প্রায় প্রতি শ্রেণীতে ২০০ জন করে পড়ুয়া রয়েছে। আগে প্রতি সেকশনের পড়ুয়ারা আলাদা আলাদা করে ক্লাস করার সুযোগ পেত। কিন্তু বর্তমানে শিক্ষক সংখ্যা কমে যাওয়ায় সেকশনের সংখ্যা কমাতে হয়েছে। নিচু ক্লাসের পড়ুয়াদের আলাদা আলাদা সেকশন তুলে একটি বড় হলঘরে একসঙ্গে সকলের ক্লাস নিতে হচ্ছে শিক্ষকদের। এতে সমস্যা হচ্ছে পড়ুয়াদেরও। অন্য সমস্যা হল, স্কুলে হলঘরের সংখ্যা সীমিত, তাই একসঙ্গে তিনটি কিংবা চারটি শ্রেণির বেশি ক্লাস নেওয়া যাচ্ছে না। শুধু ওই স্কুল নয়, সমস্যায় রানিনগরের শেখপাড়ার বাবলতলি খলিলুর রহমান বিদ্যানিকেতনের ক্ষেত্রেও। যদিও বর্তমানে স্কুলে পার্বিক পরীক্ষা চলছে, কিন্তু তার আগে এভাবেই ক্লাস করাতে বাধ্য হয়েছিল স্কুল কর্তৃপক্ষ। স্কুলটিতে পঞ্চম শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত বিভিন্ন সেকশন মিলিয়ে একসঙ্গে ১৮টি ক্লাস চলত। কিন্তু একসঙ্গে স্কুলের ১১ জন শিক্ষক বাতিল হওয়ায় ওই ক্লাস কমিয়ে আনতে হয়েছিল ১০ এর ঘরে। বাধ্য হয়ে চারটি সেকশনের শতাধিক পড়ুয়াকে নিয়ে ফাঁকা হল ঘরে বসত ক্লাস। এছাড়া স্কুলের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক চাকরিহারা হয়েছেন। ফলে উঁচু ক্লাসের বিজ্ঞান বিভাগ চালিয়ে নিয়ে যাওয়াটাই চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ