নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে লাগাতার সহবাস। নির্যাতিতা সেই শিক্ষিকার অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিস গ্রেপ্তার করেছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষককে। ঘটনাটি ঘটেছে অশোকনগর থানা এলাকার গুমায়। পুলিস জানিয়েছে, ধৃতের নাম শ্রীজিৎ দে (৪০)। তাঁর বাড়ি কাঁচরাপাড়ায়। কর্মসূত্রে তিনি অশোকনগরের গুমায় একটি বাড়িতে ভাড়া থাকেন। সোমবার ওই শিক্ষককে বারাসত আদালতে তোলা হলে পুলিসি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, কর্মসূত্রে ট্রেনে যাতায়াতের সময় দেগঙ্গার এক শিক্ষিকার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে বসিরহাটের এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক শ্রীজিৎ দে’র। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক মধুর হতে শুরু করে। শুধু তাই নয়, স্বামী বিচ্ছিন্না ওই শিক্ষিকাকে বিয়ে করারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন শ্রীজিৎ। এই টোপ দিয়ে শিক্ষিকাকে তিনি একাধিকবার ধর্ষণ করেছেন বলে অভিযোগ। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন জায়গায় তাঁরা একসঙ্গে বেড়াতেও গিয়েছেন বলে খবর। সম্প্রতি শিক্ষিকা জানতে পারেন ‘প্রেমিক’ শিক্ষক আগে দু’বার বিয়ে করেছেন। ফলে এই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করেন তিনি। কিন্তু তাঁকে একপ্রকার ‘চাপ’ দিয়ে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করেন শ্রীজিৎ। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে নিত্য অশান্তি চলছিল। রবিবার রাতে চূড়ান্ত বিবাদ হয়। শেষমেশ ওই রাতেই অশোকনগর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন শিক্ষিকা। তার ভিত্তিতে শ্রীজিৎকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস। অভিযোগকারিণী বলেন, ট্রেনে যাতায়াতের পথে আমাদের পরিচয়। পরে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়। আমাকে ও বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিল। এই টোপ দিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ পর্যন্ত করেছে। সম্প্রতি জানতে পেরেছি, এর আগে শ্রীজিৎ দু’বার বিয়ে করেছে। এরপর এই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে চাইলে ও আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি ও শাসানি দিত। বাধ্য হয়ে রবিবার রাতে থানায় অভিযোগ জানাই। পুলিস তার ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিয়েছে। আমি ওই কঠোর শাস্তি চাই। এদিকে, ধৃত শিক্ষক শ্রীজিৎ দে বলেন, আমার বিরুদ্ধে তোলা সমস্ত অভিযোগ মিথ্যা। আসলে উনি আমার কাছে কিছু টাকা চেয়েছিলেন। আমি দিতে পারিনি বলে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।
ধৃত শ্রীজিৎ দে। -নিজস্ব চিত্র