সংবাদদাতা, ঘাটাল: দাসপুরে এক অষ্টম শ্রেণির ছাত্রীকে গান শেখানোর আড়ালে ধারাবাহিক ধর্ষণের অভিযোগ উঠল এক গানের শিক্ষকের বিরুদ্ধে। দাসপুর থানার সামাটের বাসিন্দা ষাট ছুঁইছুঁই ওই শিক্ষকের নাম বনমালী বেরা। পুলিস জানিয়েছে, শনিবার রাতে ধর্ষিতার বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে বনমালীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে ওই অপকর্মে নানাভাবে সহযোগিতা করার জন্য গ্রামেরই জগদীশ জানা নামে এক প্রৌঢ়ের বিরুদ্ধেও অভিযোগ হয়েছে। তাকেও পুলিস খুঁজছে। পকসো আইনে গ্রেপ্তারের পর রবিবার বনমালীকে আদালতে তোলা হলে তার জামিনের আবেদন খারিজ হয়ে যায়।
জানা গিয়েছে, বনমালীর বাড়িতে ওই নাবালিকা গান শিখতে যেত। বাড়িতে একা পেয়ে শিক্ষক ছাত্রীকে নানা প্রলোভন ও ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ করত। পুলিস তদন্তে জানতে পেরেছে, ওই ছাত্রীকে মাঝে মাঝে কিছু ওষুধ খাইয়ে অচেতন করে পাশবিক অত্যাচার চালাত শিক্ষক। শুধু তাই নয়, গ্রামের মোড়ল জগদীশ নাবালিকার বাবা-মাকে লুকিয়ে তাকে গর্ভনিরোধক সহ নানা রকম ওষুধ পৌঁছে দিত। প্রতিটি ওষুধের সাথে চিরকুটে স্পষ্ট নির্দেশিকা থাকত, কোথায় কোন ওষুধ মালিশ করতে হবে এবং কখন খেতে হবে। এমন ঘটনা শুধু দাসপুর নয়, সারা বাংলাতেও নজিরবিহীন বলে পুলিস জানিয়েছে।
নাবালিকার পরিবার অভিযোগ করেছে, শিক্ষক এমন কিছু ওষুধ মেয়েকে খাওয়াত, যার জেরে মেয়েটি বাড়িতে এমনকী পাড়ায় সবার সঙ্গে কথা বলাই বন্ধ করে দিয়েছিল। পরে মেয়েকে মামাবাড়িতে পাঠানো হলে সে মায়ের কাছে সমস্ত ঘটনা খুলে বলে। তখনই ওই ঘটনার কথা জানাজানি হয়। তারপরই ওই ছাত্রীর কাছ থেকে জানতে পারে ওষুধগুলো কোথায় লুকানো থাকত। এলাকায় ঘটনাটি চাউর হতেই বিষয়টি মিটিয়ে নেওয়ার জন্য পাড়া এবং গ্রাম সালিশি বসে। সেখানেও সমাধান হয়নি। তারপর জগদীশ এবং অভিযুক্ত বনমালীর ছেলে নাবালিকার বাবাকে লাগাতার হুমকি দিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে। এমনকী সংবাদ মাধ্যমকেও দূরে রাখার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়।
দাসপুর থানার ওসি অঞ্জনি তেওয়ারির নজরে ঘটনাটি আসতেই নাবালিকার পরিবার আশ্বস্ত হয়। নাবালিকার বাবা লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে পুলিস দ্রুত পদক্ষেপ নেয় এবং বনমালীকে গ্রেপ্তার করে।
ওসি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, এমন ঘটনায় সালিশি সভা বসানোও অপরাধ। এমন ঘটনা ঘটলে দ্রুত পুলিসের কাছে আসার এবং কোনও রকম হুমকি বা কটূক্তিকে পাত্তা না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।