নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: আমডাঙায় এক সোনার দোকানে আংটি কিনতে এসে হাতসাফাইয়ের অভিযোগ উঠল কলেজের এক প্রাক্তন পার্ট টাইম শিক্ষকের বিরুদ্ধে। ঘটনার দু’দিনের মধ্যে অবশ্য অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে আমডাঙা থানার পুলিস। ধৃতের নাম নির্মাল্য ভাদুড়ি। নির্মাল্যর বাড়ি হাওড়ার বালিতে। পাশাপাশি এই চক্রের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে শেখ আব্দুল আজিম নামের এক ব্যবসায়ীকেও পাকড়াও করেছে পুলিস। ধৃতদের শুক্রবার বারাসত আদালতে তোলা হলে পুলিস হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।
নির্মাল্যর ঝুলিতে রয়েছে একাধিক ডিগ্রি। বিএ পাশ করার পর বাংলায় মাস্টার্সও করেছেন। এখন তিনি গবেষণা করছেন। কিছুদিন পার্ট টাইম শিক্ষক হিসেবে কলকাতার দু’-তিনটি কলেজে চাকরিও করেছেন। এমন উচ্চ শিক্ষিত ব্যক্তি আমডাঙার ওই সোনার দোকান থেকে গয়না চুরি করে পালালেও শেষরক্ষা হয়নি। দোকান মালিকের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস। নির্মাল্যর নামে কলকাতা সহ রাজ্যের বিভিন্ন থানায় চুরির অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় ও পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, আমডাঙার গাদামারা হাটে সোনার দোকান রয়েছে আব্দুল রহমানের।
২৭ আগস্ট দুপুরে আমডাঙার ওই দোকানে সোনার গয়না কিনতে আসেন নির্মাল্য। তিনি নিজেকে শিক্ষক হিসেবে পরিচয় দেন। দোকানদার বেশ কয়েকটি সোনার হার, আংটি বের করে পছন্দের জন্য শোকেসের উপর রাখেন। সেগুলি হাতে নিয়ে নাড়াচাড়া করতে থাকেন নির্মাল্য। এই ফাঁকেই একটি সোনার আংটি নিজের আঙুলে পরে নেন তিনি। পরে তা পকেটে ঢুকিয়ে নেন। শেষে দু’টি গয়না পছন্দ করেন ওই শিক্ষক। এরপর কার্ডে পেমেন্ট করার কথা বললে দোকানদার বলেন, সেই সুবিধা তাঁর দোকানে নেই। এরপর এটিএম থেকে টাকা তুলে আনার কথা বলে নির্মাল্য দোকান ছেড়ে চলে যান। পরে ওই ব্যবসায়ী গয়না মেলাতে গিয়ে দেখেন, একটি আংটি গায়েব। দোকানের সিসি ক্যামেরার ফুটেজে ক্রেতার কীর্তি ধরা পড়ে। এরপর দোকান মালিক আমডাঙা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তদন্ত চালিয়ে ঘটনার দু’দিনের মধ্যেই গয়না চুরির কিনারা করে পুলিস।
জেরায় পুলিস জানতে পারে, উচ্চশিক্ষিত নির্মাল্য ‘ক্লেপ্টোম্যানিয়ায়’ আক্রান্ত। বাংলায় যাকে বলা হয় ‘চৌর্যম্মাদ’। আসলে এটি মানসিক রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তি অনিয়ন্ত্রিতভাবে চুরি করার তাগিদ অনুভব করেন। প্রয়োজন ছাড়াই কিছু না ভেবে চুরি করেন এই রোগীরা। এ প্রসঙ্গে বারাসতের এসডিপিও বিদ্যাগর অজিঙ্কা অনন্ত বলেন, নির্মাল্য ভাদুড়ি একাধিক চুরির ঘটনায় যুক্ত। চুরির সামগ্রীও উদ্ধার হয়েছে। তাকে জেরা করে আরও তথ্য জানার চেষ্টা চলছে। তার নামে একাধিক থানায় অভিযোগ আছে। দোকান মালিক আব্দুল রহমান বলেন, ২ গ্রাম ওজনের একটি আংটি চুরি গিয়েছিল। যার বাজারমূল্য ২২ হাজার টাকা। - নিজস্ব চিত্র