Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বাংলাকে যারা হেনস্তা করছে তাদের শিক্ষা দিন: অভিষেক

এসআইআরের নামে সাধারণ মানুষকে হেনস্তা করা হচ্ছে। বারবার লাইনে দাঁড়িয়ে প্রমাণ করতে হচ্ছে, তাঁরা বৈধ ভোটার। বঞ্চিত করা হচ্ছে বাংলাকে।

বাংলাকে যারা হেনস্তা করছে তাদের শিক্ষা দিন: অভিষেক
  • ৩ এপ্রিল, ২০২৬ ০৮:০৪
Prefer us on Google

রঞ্জুগোপাল মুখোপাধ্যায়, তালডাংরা: এসআইআরের নামে সাধারণ মানুষকে হেনস্তা করা হচ্ছে। বারবার লাইনে দাঁড়িয়ে প্রমাণ করতে হচ্ছে, তাঁরা বৈধ ভোটার। বঞ্চিত করা হচ্ছে বাংলাকে। আর এর বিরুদ্ধেই বৃহস্পতিবার গর্জে উঠলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বাঁকুড়ার তালডাংরার বিবড়দার সভামঞ্চ থেকে জানালেন, ‘এবারের বিধানসভা নির্বাচন শুধুমাত্র তৃণমূলকে জেতানোর জন্য নয়, বরং বাংলাকে যারা বঞ্চিত করে রেখেছে, তাদের উচিত শিক্ষা দেওয়ার।’ তিনি আরও বলেন, ‘ভোটের দিন ঘাসফুল প্রতীকের পাশে থাকা ইভিএমের বোতাম এমনভাবে টিপতে হবে, যেন গণনার দিন পদ্মফুল শিবির চোখে সরষে ফুল দেখে।’ 

Advertisement

এদিন দুপুরে তালডাংরার বিধানসভার বিবড়দা কলেজ ময়দানে অভিষেক সভা করেন। দুপুর দেড়টা নাগাদ তিনি হেলিকপ্টারে চেপে সভাস্থলে পৌঁছান। সভার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বিজেপির বিরুদ্ধে সুর চড়ান তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড। কেন্দ্রীয় বঞ্চনা নিয়েই তৃণমূলের সেনাপতি বেশি সরব হন। তিনি বলেন, ‘কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকার রাজ্যকে সবদিক থেকে বঞ্চিত করছে। গরিব মানুষের বাড়ি তৈরির টাকা দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। ১০০ দিনের কাজের টাকাও দেয় না। রাজ্য সরকার নিজের টাকায় গৃহহীনদের মাথার উপর ছাদের ব্যবস্থা করেছে। আমাদের সরকার যতদিন এরাজ্যে ক্ষমতায় থাকবে, ততদিন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার দেওয়া হবে। বয়স্কদের মধ্যে অনেকে ভাতা পাননি। আমরা ভোটে জেতার পরই বার্ধক্যভাতা চালু করব। তৃণমূলের জয়ী প্রার্থীরা হাতে ফর্ম নিয়ে প্রশাসনের মাধ্যমে সরকারের কাছে জমা দেবেন। পরের মাস থেকেই ষাটোর্ধ্বরা ভাতা পেতে শুরু করবেন।’ 
রাজ্য সরকারের উন্নয়ন ও ইস্তাহারে দশদফা প্রতিজ্ঞার কথা উল্লেখ করে অভিষেক বলেন, ‘আমি রাজ্য সরকারের রিপোর্ট কার্ড সঙ্গে এনেছি। বিজেপির দম থাকলে আমার মুখোমুখি হোক। বাঁকুড়া তথা তালডাংরায় নরেন্দ্র মোদি সরকারের ১২ বছর ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের ১৫ বছরের উন্নয়নের পরিসংখ্যান নিয়ে লড়াই হবে। চ্যালেঞ্জ করছি, বিজেপিকে লেজেগোবরে করে দেব। রাজ্য সরকারের প্রকল্পে নরেন্দ্র মোদি দশ পয়সা দেওয়ার প্রমাণ দেখাতে পারলে আমি রাজনীতি ছেড়ে দেব।’
অভিষেক আরও বলেন, ‘বিজেপি ক্ষমতায় এলে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ভাতা বৃদ্ধি করবে বলে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। বর্তমানে বিজেপি একাধিক রাজ্য চালাচ্ছে। বিজেপি শাসিত কোনো রাজ্যে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মতো মহিলাদের একটানা পাঁচ বছর ধরে প্রতি মাসে দেড় হাজার বা তার বেশি টাকা দিচ্ছে—এমন উদাহরণ দিতে পারলে আমরা রাজ্যের সব কেন্দ্র থেকে প্রার্থী প্রত্যাহার করে নেব। বিজেপি অনেকটা দগদগে ঘায়ের মতো। শরীরের ঘায়ের মতো সমাজে বিজেপিকে রেখে দিলে আলসার, বাড়তে দিলে ক্যানসার হয়। যে কটা ছাইপাশ আশপাশে রয়েছে, ভোটের পর ঝেঁটিয়ে বিদায় করে দিতে হবে।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ