Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কলকাতায় কেন্দ্রের অধীনস্থ সংস্থার অফিস ঘেরাও, বিক্ষোভ চা শ্রমিকদের

কলকাতায় কেন্দ্রের অধীনস্থ সংস্থার অফিস ঘেরাও, বিক্ষোভ চা শ্রমিকদের
  • ১৭ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: ডুয়ার্সে কেন্দ্রের অধীনস্থ সংস্থার চা বাগানগুলিতে দীর্ঘদিন ধরেই চলছে অচলাবস্থা। এনিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ায় কলকাতায় গিয়ে সোমবার সংস্থার দপ্তরে ঘেরাও করেন বাগানগুলির শ্রমিকরা। দীর্ঘক্ষণ ধরে ওই ঘেরাও, বিক্ষোভ চলতে থাকায় শেষে আন্দোলনরত শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হন কেন্দ্রীয় সরকারের ভারী শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন সংশ্লিষ্ট সংস্থার কর্তারা। আগামী সপ্তাহ থেকে ধাপে ধাপে বকেয়া মেটানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। যদিও শ্রমিকদের দাবি, এর আগেও সংস্থার কর্তারা একাধিকবার এ ধরনের আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু কথা রাখেননি। ফলে আপাতত তাঁরা ডুয়ার্সে ফিরে এলেও মজুরি হাতে না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।

Advertisement

এদিকে, শ্রমিক অসন্তোষ তুঙ্গে ওঠায় কার্যত চাপে পড়ে কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনস্থ ওই সংস্থার আরও একটি বাগানের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করল পিএফ কর্তৃপক্ষ। পিএফের কোটি টাকারও বেশি জমা না পড়ায় সংস্থার অধীনে থাকা চুনাভাটি বাগানের বিরুদ্ধে থানায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।
সোমবার জলপাইগুড়ির আঞ্চলিক পিএফ কমিশনার পবনকুমার বনসালের অফিস থেকে দেওয়া বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত চুনাভাটি বাগানের শ্রমিকদের পিএফ বাবদ কোনও টাকা জমা পড়েনি। অথচ ওই সময়ে পিএফের নাম করে শ্রমিকদের কাছ থেকে মোট ১ কোটি ৭৪ লক্ষ ৭১ হাজার ১৮৪ টাকা কেটে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু সেই টাকা পিএফ অফিসে জমা না পড়ায় ওই বাগান কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে থানায় এফআইআর দায়ের করা হল।
কেন্দ্রের অধীনস্থ ওই সংস্থার অধীনে জলপাইগুড়ি জেলার বানারহাটে চারটি চা বাগান রয়েছে। এগুলি হল বানারহাট, কারবালা, নিউ ডুয়ার্স ও চুনাভাটি। এরমধ্যে আগেই তিনটি বাগানের শ্রমিকদের প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা জমা না পড়ায় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে এফআইআর করেছে পিএফ অফিস। এবার চতুর্থ বাগানের বিরুদ্ধেও এফআইআর করতে বাধ্য হলেন পিএফ কর্তারা।
তৃণমূলের চা বাগান শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সভাপতি সঞ্জয় কুজুর বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনস্থ চা বাগানগুলিতে শ্রমিকদের মজুরি নেই। কর্মীরা বেতন পাচ্ছেন না। পিএফের টাকা জমা পড়ছে না। শ্রমিকদের পাশাপাশি আমাদের আন্দোলনের চাপে পিএফ অফিস বাগান কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে এফআইআর করতে বাধ্য হচ্ছে। অথচ প্রধানমন্ত্রী উত্তরবঙ্গে সভা করে গেলেও তাঁর মুখে এসব নিয়ে কোনও কথা নেই। তাঁর দাবি, ডুয়ার্সে আন্দোলন করে কোনও সুরাহা হচ্ছে না দেখে শ্রমিকরা কলকাতায় এসেছেন। আমিও তাঁদের সঙ্গে রয়েছি। কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনস্থ যে সংস্থার চা বাগানগুলিতে দীর্ঘদিন ধরে অচলাবস্থা চলছে, এদিন সেই সংস্থার কলকাতার অফিসে ঘেরাও করেন শ্রমিকরা। বিক্ষোভ দেখান। এতে বাধ্য হয়ে সংস্থার কর্তারা শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে আগামী মাস থেকে মজুরি চালুর আশ্বাস দিয়েছেন। কর্মীদের বেতন তিনমাসের মধ্যে মেটানোর কথা বলা হয়েছে। পিএফ, গ্র্যাচুইটির বিষয়টি তাঁরা দেখবেন বলেছেন।
কলকাতায় এদিনের আন্দোলনে শামিল কারবালা বাগানের শ্রমিক লক্ষ্মণ তেলি, নিউ ডুয়ার্স বাগানের অমিত হেমব্রম ও চুনাভাটি বাগানের রঞ্জিতা ওরাওঁ বলেন, মুখের কথায় আর বিশ্বাস করি না আমরা। হাতে মজুরি না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ