Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

খড়্গপুরে কবাডি চ্যাম্পিয়নশিপে তাক লাগাল চা বিক্রেতার মেয়ে ফরিদা

খড়্গপুরে কবাডি চ্যাম্পিয়নশিপে তাক লাগাল চা বিক্রেতার মেয়ে ফরিদা
  • ১৩ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, খড়গপুর: বাবা চা বিক্রেতা। সংসারে অভাব। তার উপর এলাকাবাসীর কটুক্তি, টিপ্পনী লেগেই থাকত। কিন্তু তাতে কী! অভাব, কটুক্তিকে উপেক্ষা করে কবাডির ন্যাশনাল টুর্নামেন্টে তাক লাগাল খড়গপুর শহরের পুরাতন বাজার এলাকার বাসিন্দা ফরিদা খাতুন। গোপালী ইন্দ্র নারায়ণ মেমোরিয়াল স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রী ফরিদার টিম ন্যাশনাল টুর্নামেন্টে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছে। এতে খুশি কটুক্তি করা স্থানীয় বাসিন্দারাও। শুধু কবাডি নয়, অ্যারোবিক জিমন্যাস্টিকেও পারদর্শী ফরিদা। ইতিমধ্যেই সে অ্যারোবিক জিমন্যাস্টিকে ন্যাশনাল টুর্নামেন্টে তৃতীয় স্থান অধিকার করেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, ছোট বয়স থেকেই খেলাধুলোয় আগ্রহ ফরিদার। সে একাধিক টুর্নামেন্টে নজরকাড়া সাফল্য পেয়েছে। পড়াশোনার ফাঁকে ছোট্ট বাড়িতেও নিয়মিত অনুশীলন করে। এদিন ফরিদা বলেন, মা-বাবা তো বটেই। পরিবার ছাড়াও স্কুলের শিক্ষক- শিক্ষিকারা ভীষণ ভাবে সহযোগিতা করেছেন। অপরদিকে খেলাধুলোর জগতের শিক্ষকরা সব সময় পাশে থেকেছেন। সকলের সহযোগিতা ছাড়া ভালো ফলাফল করা সম্ভব হতো না। আগামী দিনে দেশের হয়ে লড়াইয়ের ময়দানে নামতে চাই।

Advertisement

প্রসঙ্গত, ফরিদার বাবা শেখ মজিদ চায়ের দোকানে কাজের পাশাপাশি টেলারিংয়ের কাজ করেন। মা রীনা বিবি গৃহিণী। খড়গপুর শহরের পুরাতন বাজার এলাকায় তাঁদের ভগ্নপ্রায় বাড়ি। তাঁদের ঘরের ছাদে পলেস্তার না থাকলেও, ঘর ভর্তি ট্রফি রয়েছে। একইসঙ্গে ফরিদার দিদি মজিদা খাতুন অ্যারোবিক জিমন্যাস্টিকের সঙ্গে যুক্ত। তিনি ওপেন ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপে পরপর তিনবার গোল্ড মেডেল পেয়ে নজির গড়েছেন। তাঁর সাফল্যকেও কুর্নিশ জানায় এলাকার বাসিন্দারা। জানা গিয়েছে, ছোট থেকেই রেশনের চালের উপর নির্ভরশীল গোটা পরিবার। বড় টুর্নামেন্টে অংশ নিতে গেলে, দুই বোনকে টাকা ধার করেই যেতে হয়। ইতিমধ্যেই আরও বেশকিছু টুর্নামেন্টের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে ফরিদা।
ফরিদা বলে, দিনে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা পরিশ্রম করি। উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় নিয়মিত যেতে হয় প্র্যাকটিসের জন্য। ফরিদার মা বলেন, ছোট থেকে খুবই কষ্ট করেছে ফরিদা। উন্নতমানের পরিকাঠামো পেলে হয়তো খেলাধুলোয় আরও ভালো ফলাফল করত। প্রশাসন যদি পাশে দাঁড়ায়, তবে খুবই উপকার হবে। পড়াশোনা ও খেলাধুলোর খরচ চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। শুধু ইচ্ছেশক্তির জোরে ফরিদা সফল্য পেয়েছে।
অ্যারোবিক জিমন্যাস্টিকের প্রশিক্ষক সম্রাট পাল ও কবাডির প্রশিক্ষক শেখ শাহাজান, বিপ্লব মাইতি বলেন, ফরিদা দারুন প্রতিভার অধিকারী। খেলাধুলোর জগতে ও আগামী দিনে আরও নাম করবে বলে আশাবাদী। খড়গপুর শহরের বাসিন্দা সোমনাথ দাস বলেন, ওঁরা দুই বোন খড়্গপুরের গর্ব।   বোন মজিরার সঙ্গে ফরিদা খাতুন।-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ