নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: গত বছরের তুলনায় এবার মে মাসে ডুয়ার্সে চা পাতার উৎপাদন বাড়ল ১৯ লক্ষ কেজিরও বেশি। ফলে কিছুটা হলেও চাঙ্গা উত্তরের চা শিল্প মহল। বাগান মালিকদের মুখে হাসি। আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনায় গত বছর মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল চা পাতার উৎপাদন। বৃষ্টির অভাবে জুলাইয়ের আগে ঠিকমতো কাঁচা পাতা মেলেনি। ফলে প্রবল সঙ্কটের মুখে পড়ে ডুয়ার্সের চা শিল্প। এবার তুলনামূলকভাবে পরিস্থিতি অনেকটাই ভালো। এপ্রিলের শেষ এবং মে মাসের প্রথমে বৃষ্টি হওয়ায় গতবারের তুলনায় এবছর ডুয়ার্সে কাঁচা পাতার উৎপাদন অনেকটাই বেড়েছে বলে দাবি চা বাগান মালিকদের। যদিও তাঁদের বক্তব্য, দেশের বাজারে চায়ের বিক্রি বাড়ছে না। এর মধ্যে আবার নেপালের চা ঢুকছে। ফলে উৎপাদন বাড়লেও আখেরে লাভ হচ্ছে না উত্তরের চা শিল্পের।
ডুয়ার্সের নাগরাকাটায় অবস্থিত টি রিসার্চ অ্যাসোসিয়েশনের (টিআরএ) প্রকাশ করা মে মাসের রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, গত বছর মে মাসে ডুয়ার্সে সবমিলিয়ে কাঁচা চা পাতার উৎপাদন হয়েছিল ৩৫ লক্ষ ১২ হাজার ৯৩৮ কেজি। সেখানে এবছর মে মাসে ডুয়ার্সে ৫৪ লক্ষ ৪২ হাজার ১৬৪ কেজি কাঁচা চা পাতা উৎপাদন হয়েছে। ডামডিম সাব ডিস্ট্রিক্টে (২০টি বাগান) গতবার মে মাসে ৮ লক্ষ ৯৪ হাজার ৩১৯ কেজি চা পাতা উৎপাদন হয়। এবছর ওই মাসে উৎপাদন হয়েছে ১৬ লক্ষ ৫৬ হাজার ৮০৪ কেজি পাতা। অর্থাৎ প্রায় দ্বিগুণ। একইভাবে চালসা সাব ডিস্ট্রিক্টে (সাতটি বাগান) গতবার মে মাসে যেখানে ২ লক্ষ ৮৬ হাজার ৬০১ কেজি পাতা হয়েছিল, এবার হয়েছে ৫ লক্ষ ৭৬ হাজার ৩১৬ কেজি। এক্ষেত্রে পাতার উৎপাদন বৃদ্ধির হার দ্বিগুণেরও বেশি।
চা শিল্প মহলের তথ্য বলছে, ২০২৪ সালের মে মাসের নিরিখে ডুয়ার্সের বীরপাড়া বাগানের উৎপাদন বেড়েছে একশো শতাংশ। চামুর্চি বাগানে গতবার মে মাসে যেখানে ৪ হাজার ৬৬৮ কেজি চা তৈরি হয়েছিল, এবার তা হয়েছে ৬ হাজার ৫৮৮ কেজি। বিন্নাগুড়ি বাগানের ক্ষেত্রে মে মাসের নিরিখে চায়ের উৎপাদন বৃদ্ধির হার ১৬৯ শতাংশ।
যদিও ইন্ডিয়ান টি প্ল্যান্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের ডুয়ার্স শাখার সচিব রামঅবতার শর্মার দাবি, গত বছর চা শিল্পের জন্য বড়সড় বিপর্যয় ছিল। ফলে গতবারের নিরিখে এবার কত উৎপাদন বাড়ল, তা দিয়ে চা শিল্প কতটা চাঙ্গা তা বিচার করা ঠিক নয়। সংশ্লিষ্ট বাগানগুলিতে স্বাভাবিকভাবে চা পাতার উৎপাদন কত, সেটা ধরে হিসেব করা দরকার।
জলপাইগুড়ি জেলা ক্ষুদ্র চা চাষি সমিতির সম্পাদক বিজয়গোপাল চক্রবর্তী বলেন, গতবারের তুলনায় এবার এখনও পর্যন্ত বাগানে চা পাতার উৎপাদন ভালো। তবে রোগপোকার আক্রমণও ভাবাচ্ছে। সঙ্গে চা বিক্রির বাজার কমে আসা নিয়েও চিন্তিত আমরা। নিজস্ব চিত্র।