Bartaman Logo
১ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

চা বাগানের সহকারী ম্যানেজার খুনে ধৃতের ১৪ দিনের জেল হেফাজত

চা বাগানের সহকারী ম্যানেজার খুনে ধৃতের ১৪ দিনের জেল হেফাজত
  • ২২ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০২

সংবাদদাতা, নকশালবাড়ি: অকারণে প্রাণ গেল সহকারী ম্যানেজারের। অপ্রকৃতিস্থ শ্রমিক সর্দারকে কাজ বুঝিয়ে দিতে গিয়েই শুরু হয়েছিল বিতর্ক। রাগের মাথায় ধৃত ওই শ্রমিক সর্দার এলথ্রুস এক্কা হাতে থাকা কলমছুরির কোপ বসিয়ে দেয় সহকারী ম্যানেজারের ঘাড়ে। আর তাতেই ঘটনাস্থলে মৃত্যু হয় নীলাঞ্জন ভদ্রের। পুলিস সূত্রে এই খবর জানা গিয়েছে। অপ্রকৃতিস্থ থাকায় পুলিস তাকে প্রথমে আটক করে। যদিও পরে খুনে ব্যবহৃত কলমছুরি পুলিস উদ্ধার করে, এলথ্রুসকে গ্রেপ্তার করে। শুক্রবার ধৃতকে শিলিগুড়ি মহকুমা আদালতে তোলে পুলিস। আদালতের সরকারি আইনজীবী সুদীপ রায় বসুনিয়া জানিয়েছেন, বিচারক ধৃতের জামিনের আবেদন খারিজ করে ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। 

Advertisement

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার দুপুরে ফাঁসিদেওয়ার জয়ন্তিকা চা বাগানে পাতা তোলার কাজ পরিদর্শন করতে বেরিয়ে বাগানেরই এক শ্রমিকের ধারালো অস্ত্রের কোপে মৃত্যু হয় সহকারী ম্যানেজার নীলাঞ্জন ভদ্রের (৪৫)। বাগানের ১২ নম্বর সেকশনে পাতা তোলার কাজ খতিয়ে দেখছিলেন নীলাঞ্জনবাবু। শ্রমিক সর্দার এলথ্রুসের সেসময় ২১ নম্বর সেকশনে বাগান সাফাইয়ের কাজে থাকার কথা ছিল। তবে ১২ ও ১৪ নম্বর সেকশন বরাবর রাস্তায় নীলাঞ্জনবাবু তাকে দেখতে পান। এজন্য হয়তো তিনি বাইক দাঁড় করিয়ে জানাতে চেয়েছিলেন, এখানে কেন? সহকারী ম্যানেজারের সঙ্গে বিবাদে জড়িয়েই এলথ্রস এক্কা এমন ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে বলে মনে করছে বাগান কর্তৃপক্ষ। 
এদিকে, ধৃত খুনের কারণ সম্পর্কিত বয়ান বারংবার পরিবর্তন করেছে বলে তদন্তকারী অফিসারদের সূত্রে খবর। কখনও ৭০ হাজার টাকার জালিয়াতি, কখনও সহকারী ম্যানেজার তাকে খুনের হুমকি দিয়েছিল, বলছে। জয়ন্তিকা চা বাগানের ডেপুটি ম্যানেজার দীপঙ্কর দেব বলেন, ওই শ্রমিকের সঙ্গে নীলাঞ্জনবাবুর ভালো সম্পর্ক ছিল। মাঝেমধ্যেই কাজে ছুটি চাইলে দিয়ে দিতেন। এমন ঘটনা ঘটল কেন, বুঝে উঠতে পারছি না। তবে ওই শ্রমিক সর্দার নেশায় আসক্ত থাকত। 
সহকারী ম্যানেজার খুনের ঘটনার তদন্তে তদারকি করেছেন নকশালবাড়ির এসডিপিও নেহা জৈন। শুক্রবার তিনি বলেন, সহকারী ম্যানেজারের খুনের ঘটনার তদন্ত চলাকালীনই ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে বাগানের শ্রমিক সর্দার খুনের স্বীকারোক্তি দেয়। পরে তাকে হেফাজতে নিয়ে একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদে খুনের বিষয়টি মেনে নেয়। ধৃত যুবক খুনের বিশদ বিবরণ দিয়েছে। খুনে ব্যবহৃত অস্ত্রটি কোথায় ফেলে দিয়েছিল সেটাও জানায়। সেইমতো তদন্তকারী দল অস্ত্রটি উদ্ধার করেছে। তবে খুনটি পরিকল্পিতভাবে করা হয়নি। দু’জনের মধ্যে বিতর্ক হয়েছিল। তাৎক্ষণিক ঘটনাটি ঘটেছে। সবদিক খতিয়ে দেখে আমরা জানতে পেরেছি, ওই দু’জনের মধ্যে অতীতের কোনও বিবাদ ছিল না। ধৃত উত্তেজিত মনোভাবের মানুষ। এজন্য অনুমান করা হচ্ছে, ছোট বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে বিবাদ হওয়ার কারণে এমনটা হয়েছে।  

সম্পর্কিত সংবাদ