নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ইতিমধ্যেই তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর মায়ের নামে থাকা সম্পত্তিতে নোটিস ধরিয়েছে কলকাতা পুরসভা। পাশাপাশি, এই সম্পত্তিগুলির বকেয়া কর মেটাতে অ্যাসেসমেন্টেরও চিঠি পাঠানো হয়েছে। পুরসভা সূত্রে খবর, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বা তাঁর মায়ের নামে চিহ্নিত ১৭টি সম্পত্তিতে কয়েক লক্ষ টাকা বকেয়া রয়েছে। পুরসভার আধিকারিকদের দাবি, সেই টাকার পরিমাণ খুব বেশি নয়। নিয়মিত ভিত্তিতে কর মেটানো হয় এই সম্পত্তিগুলিতে। তবুও বেশ কিছু টাকা বাকি থাকায় স্বাভাবিক নিয়মে শহরের অন্যান্য করদাতাদের কাছে যেমন চিঠি যায়, তেমন চিঠি পাঠানো হয়েছে ডায়মন্ডহারবারের সাংসদকে। যতটুকু বাকি রয়েছে, সেটুকুও দ্রুত মেটাতে বলা হয়েছে। এদিন কালীঘাটে দলের বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠকে অভিষেক বলেন, ওরা যা খুশি করুক। আমার বাড়ি ভেঙে দিক, নোটিস পাঠাক। এসবের কাছে মাথানত করব না। যাই ঘটুক না কেন, বিজেপির বিরুদ্ধে আমার লড়াই চলবেই।
পুরসভার বিল্ডিং বিভাগের তরফে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি শান্তিনিকেতন ভবনে পাঠানো নোটিস মঙ্গলবার প্রকাশ্যে আসে। সেখানে দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির মালিকপক্ষকে ৭ দিনের মধ্যে পুরসভায় এসে দেখা করতে এবং বিল্ডিং প্ল্যান সহ যাবতীয় কাগজপত্র জমা দিতে বলা হয়েছে। যদিও, ১৮৮ এ, হরিশ মুখার্জি রোডের শান্তিনিকেতন বিল্ডিংয়ের ঠিকানায় যে নোটিস দেওয়া হয়েছে, সেটি ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্স’ নামে একটি কোম্পানির নামে। কারণ, ওই কোম্পানির নামে ওই বাড়িটির রেজিস্ট্রেশন। ঘটনাচক্রের সেই বাড়িতেই থাকেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এর পাশাপাশি আরও একটি চিঠি সামনে এসেছে। যেখানে ১২১ নম্বর কালীঘাট রোডের ঠিকানায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মা লতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে নোটিস ইস্যু করা হয়েছে। সেক্ষেত্রেও একইভাবে সাত দিনের মধ্যে যাবতীয় কাগজপত্র নিয়ে পুরসভায় তলব করা হয়েছে।
কলকাতা পুরসভা সূত্রে খবর, এর বাইরেও ২৯এ, ২৯বি ও ২৯সি হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিট, ৭৩৩ নম্বর নিউ আলিপুর সহ কালীঘাট, গড়িয়াহাট এলাকা মিলিয়ে অভিষেকের মোট ১৭টি সম্পত্তি চিহ্নিত করে নোটিস পাঠিয়েছে বিল্ডিং বিভাগ। পুর কর্তারা জানাচ্ছেন, এক্ষেত্রে খোদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কিংবা লতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পুরসভায় এসে হাজিরা দিতে হবে, তেমনটা নয়। চাইলে তাঁদের কোনো প্রতিনিধি এসেও কাগজপত্র জমা করতে পারেন। কিন্তু সাত দিনের মধ্যে তাঁরা যোগাযোগ না করলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে পুরসভা। যদিও আধিকারিকদের একাংশ বলছে, আপাতদৃষ্টিতে এই সম্পত্তিগুলিতে বড় কোনো বিচ্যুতি বা সিরিয়াস ডিভিয়েশন চোখে পড়ছে না। সম্ভবত মাইনর ডিভিয়েশন বা ছোটখাট বিচ্যুতি রয়েছে বিল্ডিংয়ের নকশায়। সেক্ষেত্রে সেই সব ত্রুটি বিচ্যুতি মেটাতে রেগুলারাইজেশন বা অবৈধ সম্পত্তি জরিমানার ভিত্তিতে বৈধকরণ করা হয়েছিল কি না, সেটাও দেখা জরুরি। তার জন্যই সমস্ত কাগজপত্র চাওয়া হয়েছে। খতিয়ে দেখা হবে পুরসভার নথির সঙ্গে।
অন্যদিকে, ই এম বাইপাস সংলগ্ন তপসিয়া-তিলজলা অঞ্চলের আরও একজন বিধায়ক তথা প্রাক্তন মন্ত্রীর সম্পত্তিও পুরসভার স্ক্যানারে রয়েছে। ইতিমধ্যেই সেই বিধায়ক এবং তাঁর কাউন্সিলার পুত্রের ৭৭টি সম্পত্তি চিহ্নিত করা হয়েছে। যেগুলির মধ্যে বেশিরভাগ বেআইনি ভাবে তৈরি কিংবা বিল্ডিং প্ল্যানে বড় ধরনের ত্রুটি-বিচ্যুতি রয়েছে। তাঁদের কাছেও বিল্ডিং বিভাগ নোটিস যাচ্ছে বলে পুরসভা সূত্রে খবর।