ভুবনেশ্বর, ৫ অক্টোবর: ৩৫ বছর আগেই হারিয়ে গিয়েছিল ঘরের ঠিকানা। দীর্ঘদিন বিচ্ছেদ ছিলেন নিজের বাড়ি, পরিবার থেকে। পরে বয়স যখন ৭০, তখন নিজের হাতের ওড়িয়া ভাষায় লেখা একটি ছোট্ট উল্কিই যেন হয়ে উঠল তাঁর অতীতকে খুঁজে পাওয়ার একমাত্র সূত্র। সেই উল্কির সূত্র ধরেই হিমাচল প্রদেশ থেকে খুঁজে পাওয়া গেল ওড়িশার বাসিন্দা বৃদ্ধা প্রমীলা মালিককে। অবশেষে রবিবার, ৪ অক্টোবর পরিবারের সদস্যদের কাছে ফিরেছেন তিনি।
ওড়িশার কেন্দ্রপাড়া জেলার বালুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা প্রমীলা বহু বছর আগে স্বামী ও বাবার বাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন। তারপর ধীরে ধীরে পরিবারের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। দীর্ঘ সময় ধরে পরিবারের কাছেও তাঁর কোনও সন্ধান ছিল না। নিজেও কোনোদিন আর ফিরে আসেননি পরিবারের কাছে। এদিকে হিমাচল প্রদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাটছিল তাঁর জীবন। জানা গিয়েছে, ২০১১ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত সিমলার মেন্টাল হেলথ ইনস্টিটিউটে ছিলেন প্রমীলা। পরে তাঁকে সিমলার নারী নিকেতনে রাখা হয়। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে তাঁকে মান্ডি জেলার ভাঙ্গরোটুরের একটি বৃদ্ধাশ্রমে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানেই তাঁর পরিচয়ের সূত্র হয়ে ওঠে হাতে থাকা ওই উল্কি। ওড়িয়া ভাষায় লেখা সেই উল্কি দেখে প্রশাসনের আধিকারিকদের সন্দেহ হয় যে তিনি সম্ভবত ওড়িশার বাসিন্দা। এরপর শুরু হয় পরিবারের খোঁজ। হিমাচল প্রদেশ প্রশাসন এবং ওড়িশা পুলিশের যৌথ প্রচেষ্টায় শেষ পর্যন্ত তাঁর পরিবারের সন্ধান মেলে কেন্দ্রপাড়ার পট্টামুন্ডাই এলাকায়।
পরিবারের সন্ধান পাওয়ার পর প্রমীলা নিজেই ওড়িশায় ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। কেন্দ্রপাড়ার পুলিশ সুপারের নির্দেশে গত ২৬ সেপ্টেম্বর পুলিশের একটি বিশেষ দল হিমাচল প্রদেশে যায়। সেখান থেকে তাঁকে নিরাপদে ওড়িশায় ফিরিয়ে আনেন তাঁরা। ৪ অক্টোবর নিজের গ্রামের বাড়িতে পরিবারের কাছে ফেরেন প্রমীলা। তবে এই ফিরে আসার মুহূর্তে আনন্দের পাশাপাশি ছিল গভীর বেদনাও। তাঁর ছেলে ধ্রুবচরণ মল্লিক জানান, প্রায় ছয় মাস আগেই মারা গিয়েছেন প্রমীলার স্বামী দীনবন্ধু। ফলে ৩৫ বছর পর ঘরে ফিরলেও স্বামীর সঙ্গে আর দেখা হল না তাঁর। তবু দীর্ঘ অপেক্ষার শেষে পরিবারের মানুষগুলির কাছে ফিরে আসাই এখন প্রমীলার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। আর সেই ঘরে ফেরার পথ দেখাল হাতে উল্কিতে লেখা ওই কয়েকটি ওড়িয়া অক্ষরই।