সংবাদদাতা, কাটোয়া: জামদানী শাড়ির জমিজুড়ে ‘দাদা’ সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় ও তাঁর ক্রিকেট জীবনের নানা কীর্তিকলাপের বিবরণ। কোনও শাড়িতে গায়ক অরিজিৎ সিং ও তাঁর জনপ্রিয় গানের লাইন। সবই ফুটে উঠছে হস্তচালিত তাঁতে শিল্পীর হাতের জাদুতে। কোনও শাড়িতে দক্ষিণেশ্বরের মা ভবতারিণী।
কাটোয়ার তাঁতিদের এইসব শিল্পকর্ম পাড়ি দিচ্ছে বিদেশেও। কেউ কিনছেন বিয়ে উপলক্ষ্যে, কেউ বা নিছক ‘ওয়াল ডেকরেশন’-এর জন্য। বিদেশিরা কেতুগ্রাম, নিরোল, ঘোড়ানাশ, মুস্থল গ্রামে এসে সরাসরি তাঁতিদের কাজ দেখে প্রশংসা করে যাচ্ছেন। জামদানি শাড়ির উপরে সূক্ষ্ম কারুকাজ করে নকশা ফুটিয়ে তোলার রেওয়াজ দীর্ঘদিনের। সম্প্রতি সেই রেওয়াজে আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে। মুস্থল গ্রামের তাঁতি রাঘবেন্দ্র যাদব জামদানির উপর মা ভবতারিণীর ছবি বুনেছিলেন। সেই শাড়ি পাড়ি জমিয়েছিল বিদেশে। এরপর ঘোড়ানাশ গ্রামের তাঁতি সুশান্ত দেও জামদানির উপর নানা মূর্তি, শিবমন্দির ফুটিয়ে তুলেছেন। ওই গ্রামেরই তাঁতি জগবন্ধু দালাল এবার জামদানির উপর সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের ছবি বুনেছেন। শাড়িজুড়ে সৌরভের ক্রীড়া জীবনের নানা দক্ষতার কথাও ফুটিয়ে তুলেছেন শুধু সুতো দিয়ে। এখানেই থেমে থাকেননি জগবন্ধু। তিনি অরিজিৎ সিংয়ের ছবি ও তাঁর গাওয়া বিভিন্ন গানের লাইন ফুটিয়ে তুলেছেন শাড়িতে। জগবন্ধু বলেন, এখন বাজারে এসব ছবি ও নকশার চাহিদা বাড়ছে। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কে আমি ভালোবাসি। এই শাড়িতে সেই ভালোবাসা ফুটিয়ে তুলেছি। এই শাড়িটা বুনতে আমার ৪ মাস সময় লেগেছে। শাড়িটির দাম ৬০ হাজার টাকা।
আর এক তাঁতি সুশান্ত দে বলেন, অনেকেই দেওয়ালে ওয়াল পোট্রেট হিসেবে এসব শাড়ি টাঙিয়ে রাখেন। বিদেশিরা এটা বেশি পছন্দ করেন। তাই আমরাও বুনছি।
নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায় বেশ কয়েকবার কেতুগ্রামের বেনীনগরে এসে তাঁতিদের হাতের কাজ স্বচক্ষে দেখে গিয়েছেন। তিনি তাঁতিদের নানা নকশাও দেখিয়ে দিয়ে যান। সেখানকার তাঁতিরা সেইসব নকশা ফুটিয়ে তুলছেন। কাটোয়ার তাঁতিদের হাতে বোনা জামদানির ওয়াল পোট্রেটের চাহিদা বাড়ছে। এক মিটার জামদানির উপরে হাতে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে নানা দেবদেবীর মূর্তি। হস্তচালিত তাঁতশিল্লীদের হাতে তৈরি এমন পোট্রেট তামিলনাডুর কোয়েম্বাটুর সহ নানা রাজ্যে পাড়ি দিচ্ছে। সময় বদলের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের ফ্যাশনও বদলাচ্ছে। ওয়াল পোট্রেট আশ্রম, বাড়ি বা ফ্ল্যাটে রেখে অনেকে শোভা বাড়াতে চান। আয় বাড়ছে তাঁতশিল্পীদের। উটির এক ফ্যাশন ডিজাইনার জানান, জামদানি কাপড়ের উপর নানা রকম নকশা ফুটিয়ে তোলা যায়। তবে তার জন্য তাঁতশিল্পীদের পরিশ্রম, একাগ্রতা, ধৈর্য লাগে। এমন ওয়াল পোট্রেটের ভিন রাজ্যে ও বিদেশে ভালো চাহিদা রয়েছে।