Bartaman Logo
১১ জুন, ২০২৬
বর্তমান / ব্যবসা

কয়েক হাজার কোটির লগ্নি, বঙ্গে এবার টাটার বিদ্যুৎ, দ্বিগুণ ক্ষতিপূরণে শিল্পের জন্য জমি কিনবে খোদ রাজ্য

বঙ্গে টাটার বিদ্যুৎ লগ্নি আসছে, জমির দাম হবে দ্বিগুণ। নতুন নীতিতে জমিদাতাদের জন্য সুবিধা, বিস্তারিত পড়ুন।

কয়েক হাজার কোটির লগ্নি, বঙ্গে এবার টাটার বিদ্যুৎ, দ্বিগুণ ক্ষতিপূরণে শিল্পের জন্য জমি কিনবে খোদ রাজ্য
  • ১১ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

রাজু চক্রবর্তী ও প্রীতেশ বসু: কলকাতা: ডবল ইঞ্জিন সরকার, জমি নীতি বদল এবং কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি। ‘সোনার বাংলা’য় শিল্পস্থাপনই প্রাথমিক টার্গেট মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। সরকারে আসার পর মাস দেড়েকও হয়নি। এখনই শিল্পের জট খোলা শুরু করে দিয়েছে সরকার। এমনকি, যে সিঙ্গুর আন্দোলন বাংলার গায়ে শিল্পবিরোধী তকমা সেঁটে দিয়েছিল, সরতে চলেছে সেই পোস্টারও। বিজেপির বিশ্বস্ত সূত্রের খবর, পশ্চিমবঙ্গে কয়েক হাজার কোটি টাকার লগ্নি করতে চলেছে টাটা পাওয়ার। ন্যানো কারখানা গুটিয়ে চলে যাওয়ার পর অন্যান্য প্রজেক্ট চললেও, বৃহৎ শিল্পে নতুন বিনিয়োগ টাটা আর করেনি। এই সিদ্ধান্ত অবশ্যই বাংলার জন্য বড়ো ‘ব্রেক থ্রু’। সূত্রের খবর, চিরাচরিত বিদ্যুৎ সেক্টর তো বটেই, সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে ‘পিএম সূর্যঘর’ যোজনাও টাটার হাত ধরেই প্রবেশ করতে চলেছে বাংলায়। এই বিপুল প্রকল্পের জন্য ইতিমধ্যেই জমির খোঁজ চলছে। আর এই সুবাদেই বদল আসতে চলেছে রাজ্যের জমি নীতিতে। এই নীতি কার্যকর হয়ে গেলে জমিদাতারা বাজারদরের প্রায় দ্বিগুণ দাম পাবেন।

Advertisement

২০১৩ সালেই বিগত সমস্ত জমি অধিগ্রহণ আইনকে সরিয়ে দেশে কার্যকর হয়েছিল ‘রাইট টু ফেয়ার কম্পেনসেশন অ্যান্ড ট্রান্সপারেন্সি ইন ল্যান্ড অ্যাকুইজিশন রিহ্যাবিলিটেশন অ্যান্ড রিসেটেলমেন্ট’ আইন। তবে পশ্চিমবঙ্গে তা চালু হয়নি। এই কেন্দ্রীয় আইন রূপায়ণের লক্ষ্যে কোনো রুলও তৈরি হয়নি। জমি অধিগ্রহণের বদলে ‘ডিরেক্ট ল্যান্ড পারচেজ পলিসি’র উপর নির্ভর করেই কম ঝুঁকিপূর্ণ জমি ক্রয় নীতি অবলম্বন করেছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। এই নীতির কারণে সরকার কোনো সংস্থাকে জমি অধিগ্রহণ করে দিত না। সেই সংস্থাকেই বাজারদরে জমি কিনে নিতে হত। বহু সংস্থাই এই ঝামেলা নিতে না চেয়ে পিছু হটেছে বলে অভিযোগ প্রশাসনিক মহলের। সরকারে আসার পরই বিজেপি শিল্প থেকে সীমান্ত সুরক্ষা, সব ইস্যুতেই নিজে থেকে জমি কেনার দিকে ঝুঁকেছে। সেইসঙ্গে শুরু হয়েছে ২০১৩’র অধিগ্রহণ আইনের রুল তৈরির কাজও। তাতে সামাজিক প্রভাব সমীক্ষা, জনশুনানি এবং পুনর্বাসন পরিকল্পনা বাধ্যতামূলক। তবে পূর্বতন সরকারের ‘ডিরেক্ট পারচেজ পলিসি’ এবং কেন্দ্রীয় আইনের সামঞ্জস্য রাখার চেষ্টাও চলছে। অভিজ্ঞ মহলের মতে, এর জেরে একদিকে যেমন ২০১৩’র আইনে নির্ধারিত হারে ক্ষতিপূরণ পাবেন জমিদাতারা। তেমনই, সরাসরি জমি কিনে একেবারে রেজিস্টার ডিড করে নেওয়া হবে। বাজারদরের থেকে দ্বিগুণ দামে। কারণ, ল্যান্ড পারচেস পলিসিতে জমির বাজার দরের সমতুল অর্থের পাশাপাশি অতিরিক্ত ৫০ শতাংশ টাকা দেওয়া হয়। সেক্ষেত্রে ২০১৩’র আইনে জমির বাজার দরের সমতুল্য অর্থের পাশাপাশি অতিরিক্ত ১০০ শতাংশ টাকা পাবেন জমিদাতা। এছাড়াও রয়েছে একাধিক সুবিধা। যেমন, যতদিন টাকা দিতে দেরি হবে, ১২ শতাংশ বার্ষিক হার অনুযায়ী অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণ পাবেন জমিদাতা। সবচেয়ে বড়ো কথা, এই সমীকরণে জমিদাতারা পরবর্তীকালে জমিদানের সম্মতি অস্বীকার করতে পারবেন না। যদিও কোনো ব্যক্তি বা সংস্থার জন্য সরাসরি জমি কেনা বা অধিগ্রহণ কোনোটাই সরকার করতে পারে না। তা করা যায় রাজ্যের জন্য, রাজ্যের অধীনস্থ কোনো সংস্থা বা কেন্দ্রের জন্য। সেক্ষেত্রে রাজ্যের নির্দেশে সংশ্লিষ্ট কাজের জন্য জমি অধিগ্রহণ বা ক্রয় করতে পারে জেলা প্রশাসন। সেই জমি পরে লিজে বা সরকার চাইলে ফ্রি-হোল্ড ট্রান্সফার করা হয় লগ্নিকারী সংস্থাকে।
২০১৩’র এই আইন আসার আগে জমি অধিগ্রহণ হত মূলত দু’টি আইনের বলে। ল্যান্ড অ্যাকুইজিশন অ্যাক্ট ১৮৯৪ ও ১৯৪৮’এর ওয়েস্টবেঙ্গল ল্যান্ড (রিকুইজিশন অ্যান্ড অ্যাকুইজিশন) অ্যাক্ট। এর জোরে আগে জমি অধিগ্রহণ সহজেই করা যেত। তবে ২০১৩’র আইন কার্যকর হলে সেই সুযোগ আবার মিলবে। এবং লগ্নিকারী ও জমিদাতা—দু’পক্ষ বজায় রেখেই কেরলের মতো ‘হাইব্রিড’ পথ অবলম্বন করতে পর্যালোচনা শুরু হয়েছে রাজ্যের অন্দরে। প্রাথমিকভাবে প্রস্তাবও পেশ হয়েছে। শীর্ষ মহলের সিলমোহর পড়লেই হবে রুল তৈরি। শিল্প আসবে, কিন্তু বাম জমানার মতো অধিগ্রহণ-বিতর্কে যেন সরকার না জড়ায়। এটাই এখন রাজ্যের লক্ষ্য।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ