সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: পাইকারি ও খুচরো বাজারে আলুর দামে ফারাক। তার সঙ্গে অন্যান্য আনাজের আগুন দামে হাত পুড়ছে গৃহস্থের। এই অভিযোগ খতিয়ে দেখতে ও সবজির দাম নিয়ন্ত্রণে মঙ্গলবার থেকে আলিপুরদুয়ারের দৈনিক বাজারগুলিতে হানা দিতে শুরু করল জেলা প্রশাসনের টাস্কফোর্স। এদিন টাস্কফোর্সের দলে ছিলেন আলিপুরদুয়ার রেগুলেটেড মার্কেট কমিটির সচিব উত্তম ভৌমিক, জেলা সহ কৃষি অধিকর্তা ফজলুল হক, জেলা উদ্যানপালন দপ্তরের সহ অধিকর্তা দীপক সরকার সহ প্রশাসনের অন্যান্য আধিকারিকরা।
টাস্কফোর্সের সদস্যরা প্রথমেই আসেন আলিপুরদুয়ার-১ ব্লকের কৃষিমাণ্ডিতে। এখান থেকে তাঁরা যান আলিপুরদুয়ার পুরসভা নিয়ন্ত্রিত বড়বাজার ও নিউ টাউন বাজারে। কৃষিমাণ্ডিতে টাস্কফোর্সের সদস্যরা আলুর পাইকারি দর খতিয়ে দেখেন। তাঁরা কথা বলেন আলু চাষিদের সঙ্গেও। টাস্কফোর্সের সদস্যদের সামনে পেয়ে আলু চাষিরা তাঁদের ক্ষোভ উগরে দেন। কৃষকদের অভিযোগ, পাইকারি দরে তাঁদের কেজি প্রতি মাত্র ৪-৫ টাকা দামে আলু বিক্রি করতে হচ্ছে। তাতে উৎপাদন খরচই উঠছে না। পাইকারি দরে কেনা সেই আলুই খুচরো বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে ১২-১৫ টাকা কেজি হিসাবে। চাষিরা আলুর এই পাইকারি ও খুচরো দাম নিয়ে তাঁদের ক্ষোভের কথা জানান টাস্কফোর্সের সদস্যদের।
কৃষকদের কাছ থেকে এই অভিযোগ শোনার পর টাস্কফোর্সের সদস্যরা পুরসভা নিয়ন্ত্রিত বড়বাজার ও নিউ টাউন বাজারে হানা দেন। শহরের দৈনিক বাজারগুলিতে বর্তমানে সবজির দাম ক্রমশ উর্ধ্বমুখী হওয়ায় সমস্যায় পড়েছে আমজনতা। টাস্কফোর্সের সদস্যরা দেখতে পান দৈনিক বাজারগুলিতে কাঁচা লঙ্কা কেজি প্রতি ১২০ টাকা, বেগুন ৮০ টাকা, উচ্ছে ১০০ টাকা, করলা ৯০ টাকা ও পটল ৬০-৬৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সবজির আগুন দামে হাত পুড়ে যাচ্ছে সাধারণ গৃহস্থের। এদিন প্রশাসনের লোকজন পুরসভার ওই দু’টি বাজারের ফিস মার্কেটেও হানা দেন।
অভিযান শেষে আলিপুরদুয়ার রেগুলেটেড মার্কেট কমিটির সচিব বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পরেই আলুর পাইকারি ও খুচরো দাম খতিয়ে দেখা হল। শহরের দৈনিক বাজারগুলিতে অত্যাবশ্যকীয় আনাজের দামও খতিয়ে দেখা হয়েছে। ব্যবসায়ীদের দাম নিয়ন্ত্রণের জন্য সতর্ক করা হয়েছে। ন্যায্য দাম নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। আনাজের দাম বেশি নেওয়া হলে ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই সতর্কতায় কাজ হচ্ছে কি না তা দেখতে এক সপ্তাহ পর ফের বাজারগুলিতে হানা দেবে টাস্কফোর্স। রেগুলেটেড মার্কেট কমিটি সূত্রে জানা গিয়েছে, ন্যায্য মূল্যের বদলে বেশি দাম নেওয়া হলে ব্যবসায়ীদের ট্রেড লাইসেন্স বাতিল বা মোটা টাকা জরিমানা করা হতে পারে।