Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শিলদায় মাওবাদী হামলায় শহিদ ২৪ জওয়ানের স্মৃতিতে তর্পণ

জঙ্গলমল এখন শান্ত। গুলি-বোমার শব্দ থেমে গিয়েছে। স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরে এসেছে। কিন্তু এই শান্তি এমনই এমনই আসেনি।

শিলদায় মাওবাদী হামলায় শহিদ ২৪ জওয়ানের স্মৃতিতে তর্পণ
  • ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: জঙ্গলমল এখন শান্ত। গুলি-বোমার শব্দ থেমে গিয়েছে। স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরে এসেছে। কিন্তু এই শান্তি এমনই এমনই আসেনি। শান্তি ফেরানোর কাজে প্রাণ গিয়েছে বহু সেনা ও পুলিশের। ২০১০ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি বিনপুরের শিলদার ইএফআর ক্যাম্পে মাওবাদীদের হামলায় ২৪ জওয়ানের প্রাণ গিয়েছিল। রবিবার স্ট্রাকো ক্যাম্পে শ্রদ্ধার সঙ্গে সেই শহিদদের উদ্দেশে তর্পণের অনুষ্ঠান হয়। সেখানে উপস্থিত থেকে রাজ্য পুলিশের ডিজি পীযূষ পাণ্ডে সাধারণ মানুষের পাশা থাকা ও ভালো রাখার বার্তা দেন। সেদিন জওয়ানরা দুপুরের টহল সেরে ক্যাম্পে ফিরেছিলেন। তাঁবুর ভিতর অনেকেই বিশ্রাম নিচ্ছেলেন। রাতের রান্নার প্রস্তুতি চলছিল। ক্যাম্পে ঢোকা ও বেরোনোর রাস্তা একটাই ছিল। মাওবাদীদের ৩০ জনের সশস্ত্র দল আচামকা ক্যাম্পে হামলা চালায়। জওয়ানদের ক্যাম্পে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। নির্বিচারে গুলি চালানো শুরু হয়। আকস্মিক আক্রমণে জওয়ানরা গুলির আঘাতে লুটিয়ে পড়তে থাকেন। পাল্টা আক্রমণও শুরু হয়। ঘটনাস্থলে পাঁচ মাওবাদীর মৃত্যু হয়। মাওবাদী দলটি মৃত সঙ্গীদের নিয়ে যেতে সক্ষম হয়। সেইসঙ্গে তারা ৭৮টি স্বয়ংক্রিয় আগ্নায়াস্ত্র লুট করে নিয়ে যায়। আগুনে একাধিক জওয়ানের শরীর ঝলসে গিয়েছিল। ক্যাম্পের ভিতর বিস্ফোরক থাকার আশঙ্কা ছিল। পরের দিন ভোরে ঝলসানো জওয়ানদের দেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়। অভিশপ্ত সেই দিনের কথা শহিদ পরিবারের সদস্য রা আজও ভুলে যাননি। জেলা পুলিশ ২০১২ সাল থেকে প্রতিবছর শহিদ ২৪জন জওয়ানের  প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে। স্ট্রাকো ক্যাম্পে শহিদ মিনার স্থাপন করা হয়েছে। ক্যাম্পে জওয়ানদের উদ্দেশে মেহগনি গাছ লাগানো হয়েছিল। প্রতিবছরের মতো এবারও জেলা পুলিশ ও প্রশাসনের আধিকারিকরা শহিদদের স্মৃতিতে মাল্যদান করেন। মেহগনি গাছের গোড়ায় জল সিঞ্চন করেন। শহিদ জওয়ানদের পরিবারের সদস্যরা বেদিস্থলে কান্নায় ভেঙে পড়েন। 

Advertisement

শহিদ অজয় থাপার স্ত্রী রীতা থাপা বলেন, ঘটনার দিন সকাল ১১ টার সময় স্বামীর সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছিল। সন্ধ্যায় খবরটা শোনার পর বিশ্বাস করতে পারিনি। তিনি এই এলাকার শান্তিরক্ষার জন্য প্রাণ দিয়েছিলেন। দিনটা এলেই মন ভারাক্রান্ত হয়ে যায়। শহিদ প্রেম সিরিং লেপচার ছেলে লিদেন লেপচা বলেন, তখন কালিম্পংয়ে ছিলাম। অস্টম শ্রেণিতে পড়ি। বাবার মৃত্যুর পর জীবনটা বদলে যায়। 
শিলদায় শহিদ স্মরণে এসে ডিজি পীযূষ পাণ্ডে বলেন, বর্তমানে এই এলাকায় উন্নয়ন হয়েছে। সেই সময়ের সঙ্গে কোনো তুলনাই হয় না। আমাদের সকলের একটাই লক্ষ্য, একসঙ্গে সকলে মিলে এলাকাকে ভালো রাখা, মানুষের পাশে থাকা। বিধানসভা নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের যা করণীয়, তা তো আমরা করবই। এটা নিশ্চিত করা হবে যে, সাধারণ মানুষ যেন শান্তিতে তাঁদের ভোট দিতে পারে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ