কাল মুখ্যমন্ত্রীর সভায় ৫০ হাজার কৃষককে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা
  • ৪ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: আগামী কাল, বৃহস্পতিবার পুরশুড়ায় আসছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পুরশুড়ায় কিষান সম্মান নিধি প্রকল্পে মুখ্যমন্ত্রী চাষিদের আর্থিক সুবিধা তুলে দেবেন। ওই সভায় ৫০ হাজার চাষিকে নিয়ে যাওয়ার টার্গেট নেওয়া হয়েছে। আরামবাগ সাংগঠনিক জেলা থেকে বিভিন্নভাবে চাষি ও কর্মী সমর্থকদের আনার পরিকল্পনা রয়েছে। পুরশুড়ার বিদ্যাসাগর ভবন সংলগ্ন মাঠে মুখ্যমন্ত্রীর সভাস্থল তৈরির কাজ চলছে। শেষ মুহূর্তের কাজ খতিয়ে দেখেন প্রশাসনের আধিকারিকরা। 

Advertisement

পুরশুড়ার বিধায়ক বিমান ঘোষ বলেন, প্রায় ৫০হাজার মানুষ সভায় থাকবে। পুরুষদের পাশাপাশি মহিলারাও সভায় যোগ দেবেন। উপভোক্তাদের নিয়ে আসার জন্য প্রশাসনকে দল সাহায্য করবে। তবে বেশিরভাগ জমায়েত আমরা পুরশুড়া থেকেই করব। খানাকুলের বিধায়ক সুশান্ত ঘোষ বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর সভায় খানাকুলের প্রত্যেক পঞ্চায়েত এলাকা থেকেই মানুষজন পুরশুড়ায় যাবে। তার প্রস্তুতি চলছে। বিভিন্ন গাড়িতে করে সভায় নিয়ে যাওয়া হবে। 
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, পুরশুড়া থেকে কিষান সম্মান নিধি প্রকল্পে সারা রাজ্যের চাষিদের আর্থিক সুবিধা দেওয়া হবে। পুরশুড়ার মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি কয়েকজন উপভোক্তার হাতে সুবিধা তুলে দেবেন। সেই জন্য কয়েকজন উপভোক্তাকে চিহ্নিত করছে প্রশাসন। তারসঙ্গে সভায় জমায়েতের ব্যবস্থা করতেও প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। 
আরামবাগ মহকুমা এলাকাটি কৃষি প্রধান। প্রত্যেক বছরই ধান, আলুর পাশাপাশি অন্যান্য ফসলের চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করেন বাসিন্দারা। মুখ্যমন্ত্রীর সভায় বিপুল সংখ্যক চাষির জমায়েত করতে চাইছে প্রশাসন। এখনো পর্যন্ত পুরশুড়া, খানাকুল-১ ও ২ ব্লক এলাকার কয়েকজন উপভোক্তাকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাঁরা মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রীর কাছ থেকে সরাসরি সুবিধা নেবেন। 
উল্লেখ্য, রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর আরামবাগের দীর্ঘদিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি রাজ্য বাজেটে ঘোষণা করেছে। আরামবাগকে জেলা ঘোষণা করেছে সরকার। তাছাড়া কামারপুকুরকেও পুরসভা ঘোষণা করা হয়েছে। তাতে খুশি মহকুমার বাসিন্দারা। কাল, বৃহস্পতিবার পুরশুড়ার মঞ্চ থেকেও মুখ্যমন্ত্রী একাধিক ঘোষণা করতে পারেন বলে বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে। ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা, মহকুমায় আলু চাষ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী চাষিদের স্বার্থে ঘোষণা করতে পারেন। তাছাড়া কৃষিকেন্দ্রিক শিল্প গড়ার দাবিও রয়েছে আরামবাগ মহকুমায়। ফলে সেই দিকেও অনেকের নজর রয়েছে। 
জানা গিয়েছে, দামোদর নদের তীরে মুখ্যমন্ত্রীর সভার জন্য ইতিমধ্যেই নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। রাস্তা ও নদীর দিক ঘিরে দেওয়া হয়েছে। তারসঙ্গে বহু পুলিশকর্মীও মোতায়েন করা হচ্ছে। ওইদিন আরামবাগ মহকুমা সহ রাজ্যের কয়েক লক্ষ চাষি মুখ্যমন্ত্রী কৃষক সম্মান নিধির আর্থিক সুবিধা পেতে চলেছেন। ওইদিন থেকে চাষিদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরকারি টাকা ট্রান্সফার করবে রাজ্য কৃষিদপ্তর।