আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়, ব্যবস্থা নেওয়া উচিত  ডেবরা-কাণ্ডে মন্তব্য ক্ষুব্ধ দিলীপের
  • ৪ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, খড়্গপুর: সোমবার দলের কর্মীদের একাংশের তোলাবাজির প্রতিবাদ করতে গিয়ে ডেবরার বিধায়ক শুভাশিস ওম আক্রান্ত হওয়ার ঘটনায় তোলপাড় রাজ্য-রাজনীতি। সংঘ ঘনিষ্ঠ বিজেপি বিধায়কের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনায় নিন্দার ঝড় উঠেছে দলেরই অন্দরে। ক্ষুব্ধ নেতৃত্ব মানছে, এই ঘটনায় মুখ পুড়েছে শাসকদলের। মঙ্গলবার সকালে প্রথমে খড়্গপুরে এবং পরে ঝাড়গ্রামে এই বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয় রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষকে। ক্ষুব্ধ দিলীপবাবু বলেন, ‘কী হয়েছে, কেন হয়েছে নিশ্চয়ই পার্টি খোঁজখবর নেবে। দলের কর্মীরা যুক্ত থাকলে নিশ্চয়ই দল ব্যবস্থা নেবে। এই ধরনের কোনো হিংসা, মারামারি হলে পুলিশও আইন অনযায়ী ব্যবস্থা নেবে। আইনের উর্ধ্বে কেউই নয়।’ 

Advertisement

শাসকদলের গোষ্ঠীকোন্দলের এই ঘটনায় পুলিশের উপরেও চাপ বাড়ছে। জেলা পুলিশের একটি সূত্র জানাচ্ছে, ঘটনায় দু’পক্ষ থানায় অভিযোগ জমা করলেও এখনো এফআইআর দায়ের হয়নি।
ঘাটাল সাংগঠনিক জেলা বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, মারধরের ঘটনায় দলের ছ’জন কর্মীর বিরুদ্ধে বিধায়ক অভিযোগ করেছেন। অপরদিকে, তাঁর বিরুদ্ধেও এক আদিবাসী যুবককে মারধরের অভিযোগ রয়েছে। প্রসঙ্গত, ডেবরায় বিজেপির দু’টি গোষ্ঠীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধ রয়েছে। একদিকে, ঘাটাল সাংগঠনিক জেলা সভাপতি তন্ময় দাসের অনুগামীরা, অন্যদিকে রয়েছেন ‘সংঘ ঘনিষ্ঠ’ বিধায়ক শুভাশিস ওমের অনুগামীরা। সম্প্রতি বালিচক উৎসবের আয়োজনকে কেন্দ্র করে সেই বিরোধ আরও তীব্র হয়। এর মধ্যেই সোমবার বিকালে ডুঁয়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় বিজেপি কর্মীদের একাংশের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতি ও কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ খতিয়ে দেখতে যান বিধায়ক। সেখানে এক বিজেপি কর্মীকে বিধায়ক থাপ্পড় মারেন বলে অভিযোগ। এরপরই পালটা বিধায়ক ও তাঁর অনুগামীদের মারধর করার অভিযোগ ওঠে। বিধায়ক থানা থেকে বেরনোর পর ফের তাঁকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। তারপরই ডেবরা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে গিয়ে ভরতি হন বিধায়ক। পরে তাঁকে মেদিনীপুরে নিয়ে যাওয়া হয়।
ঘটনায় জেলা সভাপতি তন্ময় দাসের বিরোধী গোষ্ঠীর নেতা হিসাবে পরিচিত জেলা সম্পাদক তন্ময় ঘোষ বলেন, ‘৪ তারিখের পর যারা বিজেপি হয়েছে, তারা লাগাতার তোলাবাজি চালিয়ে যাচ্ছে। মদত আছে অন্য একজনের। ডেবরার বিধায়ক তারই প্রতিবাদ করেছিলেন।’ 
মঙ্গলবার দুপুরে মেদিনীপুরের বেসরকারি হাসপাতাল থেকে বাড়ি যাওয়ার পথে বিধায়ক শুভাশিসবাবু বলেন, ‘দুর্নীতি আর তোলাবাজির প্রতিবাদ করতে গিয়েই আক্রান্ত হয়েছি। আমি সবটাই শীর্ষ নেতৃত্বকে জানিয়েছি। নিজেও অভিযোগ দায়ের করেছি।’ বিজেপির জেলা সভাপতি তন্ময় দাস বলেন, ‘দলের কর্মীরাই লড়াই করে বিধায়ক তৈরি করেছেন। তোলাবাজির অভিযোগ থাকলে, দল ও পুলিশ-প্রশাসন খতিয়ে দেখবে। আমিও পুরো বিষয়টি রাজ্য নেতৃত্বকে জানিয়েছি।’ কংগ্রেসের জেলা সভাপতি চিরঞ্জীব ভৌমিকের কটাক্ষ, ‘মাত্র ছ’মাসেই এই অবস্থা! দলেরই বিধায়ককে মার খেতে হচ্ছে কর্মীদের হাতে।’ মমতা-তৃণমূলের প্রদীপ কর বলেন, ‘মানুষ সবই দেখছে!’  নিজস্ব চিত্র