সংবাদদাতা, ইসলামপুর: মাত্র দু’জন সদস্য। আর তা নিয়েই ইসলামপুর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হলেন বিজেপির মহারানি বিশ্বাস। এদিকে, গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা ও এনসিপিআইয়ের মধ্যে এদিন সংঘর্ষ হলেও দুই দলই তাঁকে সমর্থন করেছে। সহকারী সভাপতি হয়েছেন এনসিপিআই দলের বিনিতা দাস সরকার। সহকারী সভাপতি গঠনের বৈঠক বয়কট করেছে জনমুক্তি মোর্চার সদস্যরা। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর শিলিগুড়ি সফরের দিন ইসলামপুর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি নির্বাচন ঘিরে মঙ্গলবার ছিল টানটান উত্তেজনা। দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষও ছড়ায়। পুলিশ মৃদু লাঠি চার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। যদিও পুলিশ লাঠিচার্জের কথা অস্বীকার করেছে। এদিন সভাপতি, সহকারী সভাপতি নির্বাচন করতে রাত হয়ে যায়। প্রসঙ্গত, বোর্ড গঠনের আগে সোমবার রাতে পুরনো মামলায় সমিতির পাঁচজন সদস্যকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছিল।
এসপি রাকেশ সিং বলেন, লাঠি চার্জ করা হয়নি। আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে হাল্কা ফোর্স ব্যবহার করা হয়েছে। বোর্ড গঠনের আগের রাতে সদস্যদের গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে এসপি বলেন, গ্রেপ্তারের সঙ্গে বোর্ড গঠনের সম্পর্ক নেই। তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল। পুলিশ আইন মেনে কাজ করেছে।
ইসলামপুর পঞ্চায়েত সমিতির বোর্ড গঠন ঘিরে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা ও এনসিপিআইয়ের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। মঙ্গলবার দুপুরে এই ঘটনায় ইসলামপুরে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশ লাঠি চার্জ করে। অন্যদিকে, বোর্ড গঠনের আগের রাতে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার ৫ জন পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। শিলিগুড়ি সংলগ্ন একটি হোটেল থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। এতে রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। জনমুক্তি মোর্চাকে দূর্বল করার জন্য এমনটা করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।
সমিতির ধৃত ৫ সদস্যকে মঙ্গলবার ইসলামপুর মহকুমা আদালতে তোলা হয়। সরকারি আইনজীবী সঞ্জয় ভাওয়াল বলেন, ধৃতদের তিন দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
সদস্যরা জানিয়েছেন, গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে একক সংখ্য গরিষ্ঠতা পেয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। পরে বিরোধী সদস্যরা তৃণমূলে যোগদান করেন। মোট ৩৯ জন সদস্য ছিলেন। এর মধ্যে তৃণমূলের এক সদস্য আগেই পদত্যাগ করেছেন। বর্তমানে মোট ৩৮ জন সদস্য। এর মধ্যে ৩৬ জন তৃণমূল ও বাকি দু’জন বিজেপি সদস্য।
রাজ্যে পালাবদলের পর ১২ আগষ্ট সমিতির তৃণমূল সদস্যদের একাংশ সভাপতি বিনিতা দাস সরকার ও সহকারী সভাপতি ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে অনাস্থা এনেছিলেন। অনাস্থার পক্ষে থাকা সমিতির ২০ জন সদস্য দার্জিলিংয়ে গিয়ে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চায় যোগদান করেছিলেন। পাঁচজন গ্রেপ্তার হয়ে যাওয়ায় তাঁদের সদস্য সংখ্যা দাঁড়ায় ১৫। অন্যদিকে, এনসিপিআইয়ের সদস্য সংখ্যা দাঁড়ায় ১৬। এই পরিস্থিতি বিজেপির দুই সদস্য নির্ণায়ক হয়ে ওঠেন।



