Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / সম্পাদকীয়

টার্গেট পাক অধিকৃত কাশ্মীর

অবৈধভাবে কাশ্মীরের এলাকা দখল করেছে পাকিস্তান। অবিলম্বে ওই অঞ্চল খালি করে দেওয়া হোক, এই ভাষাতেই এবার সরাসরি প্রতিবেশীকে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ভারতের বিদেশমন্ত্রক।

টার্গেট পাক অধিকৃত কাশ্মীর
  • ২২ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

অবৈধভাবে কাশ্মীরের এলাকা দখল করেছে পাকিস্তান। অবিলম্বে ওই অঞ্চল খালি করে দেওয়া হোক, এই ভাষাতেই এবার সরাসরি প্রতিবেশীকে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ভারতের বিদেশমন্ত্রক। শুধু তাই নয়, কাশ্মীর নিয়ে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে লাগাতার মিথ্যা প্রচারের অভিযোগও এনেছে সাউথ ব্লক। এই বিতর্কের সূত্রপাত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির লেক্স ফ্রিডম্যানকে দেওয়া সাক্ষাৎকারকে কেন্দ্র করে। এই সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানকে কার্যত তুলোধোনা করেন প্রধানমন্ত্রী। পাকিস্তানকে সন্ত্রাসবাদের আঁতুড়ঘর বলে তোপ দাগার পাশাপাশি তিনি বলেন, বিশ্বের যে কোনও প্রান্তেই জঙ্গি হামলা হোক না কেন, তার সঙ্গে কোনও না কোনওভাবে পাকিস্তানের যোগসূত্র মিলবেই। মোদির এই মন্তব্যেই তেলে বেগুনে জ্বলে ওঠে পাকিস্তান। পাল্টা ওপার থেকে জানানো হয়, ‘পাকিস্তান নিয়ে নরেন্দ্র মোদির মন্তব্য বিভ্রান্তিকর এবং একতরফা। তারা সুবিধামতো জম্মু ও কাশ্মীর ইস্যুকে বাদ দেয়। রাষ্ট্রসঙ্ঘ, পাকিস্তান এবং কাশ্মীরি জনগণকে সাত দশক ধরে শুধু আশ্বাস দিয়েছে ভারত। আজও এই ইস্যু অমীমাংসিত।’ এরপরই ভারতের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানান, ‘মিথ্যা ছড়ানো বন্ধ করে পাকিস্তানের উচিত বেআইনিভাবে জবরদখল করে রাখা অধিকৃত কাশ্মীর খালি করা।’ বিদেশমন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, ‘আমরা শুনলাম পাকিস্তান ফের ভারতীয় ভূখণ্ড জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ে মন্তব্য করেছে। তবে বিশ্ব জানে সীমান্তপারের সন্ত্রাসে পাকিস্তানের সক্রিয় ভূমিকা ও তাঁদের স্পনসরশিপ সম্পর্কে। এবং দুই প্রতিবেশী দেশের শান্তি ও নিরাপত্তার পথে সবচেয়ে বড় বাধা হল এই পাক সন্ত্রাস।’

Advertisement

পাক অধিকৃত কাশ্মীরকে দখলমুক্ত করতে গোপনে প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে মোদি সরকার! তেমনই ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল বছর শুরুতেই। প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের মন্তব্যে। গত জানুয়ারিতে কাশ্মীরের সেনার অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে রাজনাথ বলেছিলেন, পিওকে ছাড়া জম্মু ও কাশ্মীর অসম্পূর্ণ। শুধু তাই নয়, ভারত ও পাকিস্তানের অতীত যুদ্ধের ইতিহাস স্মরণ করিয়ে তিনি বলেছিলেন, অধিকৃত কাশ্মীর ভারতের অভিন্ন অঙ্গ। পাকিস্তান নিজেও জানে এই অংশ আসলে তাদের কাছে বিদেশের মাটি। তাই এই মাটিকে তারা সন্ত্রাস ছড়ানোর কাজে ব্যবহার করে। অধিকৃত কাশ্মীরে ওরা জঙ্গি তৈরির কারখানা খুলেছে। সন্ত্রাসের ট্রেনিং ক্যাম্প চলছে ওখানে। যতবার লড়াই হয়েছে, ভারতীয় সেনার কাছে ভূপতিত হয়েছে পাকিস্তান। ১৯৬৫ সালে এই আখনুরের মাটিতে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ হয়েছিল। তাদের সব ষড়যন্ত্র বিফল করেছিলাম আমরা। আজ পর্যন্ত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যতবার আমরা যুদ্ধ লড়েছি, প্রতিবার ওদের হারিয়েছি। সেই ১৯৬৫ সাল থেকেই কাশ্মীরের মাটিতে সন্ত্রাসবাদে উস্কানি দিয়ে চলেছে পাকিস্তান। আমাদের মুসলিম ভাইয়েরা এই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে আত্মাহুতি দিয়েছেন। আজও ভারতে যে জঙ্গিরা ঘাঁটি গেড়েছে তার ৮০ শতাংশই পাকিস্তানের। ১৯৬৫ সালেই সীমান্ত পারের এই সন্ত্রাস শেষ হতে পারত কিন্তু তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী লালবাহাদুর শাস্ত্রী যুদ্ধজয়ের যে সাফল্য পেয়েছিলেন তা রাজনৈতিক ক্ষেত্রে প্রয়োগ করতে পারেননি। একই সুর শোনা গিয়েছে নরেন্দ্র মোদির কথায়।
পাক অধিকৃত কাশ্মীর জম্মু ও কাশ্মীরেরই অংশ, দেশ তো বটেই আন্তর্জাতিক মঞ্চে বারবার এ কথা জানিয়ে এসেছে ভারত। এই ইস্যুতে মামলাও চলছে আন্তর্জাতিক আদালতে। এই কাশ্মীর ইস্যুতে সঙ্গতকারণেই রাষ্ট্রসঙ্ঘকেও একহাত নিয়েছেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তাঁর কথায়, ‘আমরা সবাই সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা নিয়ে কথা বলি। আমরা সবাই-ই একমত যে এটাই প্রধান নীতি হওয়া উচিত। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে দীর্ঘ সময়ের জন্য বেআইনি ভূখণ্ড দখলের নির্দশনের কথা বলতে গিয়ে আমি বলতে পারি ভারতেরই একটি অংশের কথা যা অন্য এক দেশের দখলে রয়েছে। যেটা আমরা কাশ্মীরে দেখেছি। আর আমরা যখন রাষ্ট্রসঙ্ঘে গিয়েছিলাম তখন ব্যাপারটা জবরদখল থেকে বিচ্যুতিতে পর্যবসিত করা হল। ফলে হামলাকারী ও নির্যাতিতরা একই পক্ষে চলে গেল। আর এর জন্য দায়ী কারা? ব্রিটেন, কানাডা, বেলজিয়াম, অস্ট্রেলিয়া, আমেরিকা। আমাকে ক্ষমা করবেন, কিন্তু এটা নিয়ে আমার প্রশ্নচিহ্ন রয়ে গিয়েছে।’ জয়শঙ্করের কথায়, পাক অধিকৃত কাশ্মীর ভারতের অন্তর্ভুক্ত হলেই নিমেষে মিটে যাবে নয়াদিল্লি-ইসলামাবাদ সংঘাত! ভারত সরকার এখন পাকিস্তানের দখল করা অংশটুকু ফেরত আনার অপেক্ষায়।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ